ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ‘বিশ্বাসযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক’ হয়েছে বলে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান আইভার্স আইজাবস। পাশাপাশি এ নির্বাচনটি ‘দক্ষতার’ সঙ্গে পরিচালন করা সম্ভব হয়েছে এবং নির্বাচনি আইনি কাঠামোগুলো আন্তর্জাতিক ‘মানদণ্ডের সঙ্গেও সঙ্গতিপূর্ণ’ ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গতকাল শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন আইভার্স আইজাবস। খবর বিডিনিউজের।
তিনি বলেন, ২০২৬ সালের সংসদীয় নির্বাচন ছিল বিশ্বাসযোগ্য এবং দক্ষভাবে পরিচালিত, যা গণতান্ত্রিক শাসন এবং আইনের শাসন পুনরুদ্ধারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই ঐতিহাসিক নির্বাচন ছিল প্রকৃত অর্থেই প্রতিযোগিতামূলক এবং এখানে মৌলিক অধিকারগুলো ব্যাপকভাবে সংরক্ষিত ছিল। তিনি এ সময় বলেন, এ নির্বাচনের আইনি কাঠামো অনেকাংশেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ও স্বচ্ছভাবে কাজ করে অংশীজনদের আস্থা বজায় রাখতে এবং নির্বাচনের সততা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনের পর প্রথম পূর্ণমাত্রার পর্যবেক্ষণ দল বাংলাদেশে পাঠায় ইউরোপীয় জোট। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে জানুয়ারির মাঝামাঝিতে দেশে আসা ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদী ইইউ পর্যবেক্ষকের সঙ্গে স্বল্পমেয়াদী পর্যবেক্ষকরা পরে যুক্ত হন। যে সংখ্যা দাঁড়ায় ২২৩ জনে। নির্বাচনের দিন ইইউ সদস্য রাষ্ট্রসহ কানাডা, নরওয়ে এবং সুইজারল্যান্ডের এসব পর্যবেক্ষকরা ৬৪টি জেলায় ভোটের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেছেন। পর্যবেক্ষকরা ভোটকেন্দ্র খোলা, ভোটগ্রহণ, ভোটকেন্দ্র বন্ধ, ব্যালট গণনা এবং ফলাফল তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন বলে জানানো হয়েছে সংবাদ সম্মেলনে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান আইভার্স আইজাবস নির্বাচনে জনআস্থা পুনর্গঠন, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং ভোটারদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তার ক্ষেত্রে নাগরিক পর্যবেক্ষক, ফ্যাক্ট–চেকার এবং তরুণ ও নারী কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন।
এই পর্যবেক্ষকরা লক্ষ্য করেছেন যে, নির্বাচনের দিনটি ছিল ‘সুশৃঙ্খল’, ‘উৎসবমুখর’ এবং ‘শান্তিপূর্ণ’। পোলিং কর্মকর্তারা ভোট গ্রহণ ও গণনার কাজ দক্ষতার সাথে পরিচালনা করেছেন। পুরো প্রক্রিয়ার প্রতিটি স্তরে রাজনৈতিক দলগুলোর পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতি নির্বাচনের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করেছে। এছাড়া রিটার্নিং কর্মকর্তাদের স্থানীয় পর্যায়ে ফলাফলের হালনাগাদ তথ্য এবং মূলধারার গণমাধ্যমের ওপর জনগণের আস্থা বজায় রাখতে সাহায্য করেছে বলেও ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশন জানিয়েছে।
তবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণ সবক্ষেত্রে নিশ্চিত করা যায়নি জানিয়ে আইভার্স আইজাবস বলেন, নারীদের জন্য সীমিত রাজনৈতিক সুযোগ তাদের সমান অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করেছে। এছাড়া মাঝে মাঝে বিক্ষিপ্ত রাজনৈতিক সহিংসতা এবং প্রায়শই ইন্টারনেটে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্যের মাধ্যমে উসকে দেওয়া গণপিটুনির আতঙ্ক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
ইতিবাচক পদক্ষেপের অভাব এখনো আদিবাসী ও সংখ্যালঘু সমপ্রদায়কে রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘প্রতিনিধিত্বহীন করে রেখেছে’। আইভার্স আইজাবস বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য, মানবাধিকার এবং জবাবদিহিতার সাথে যা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, সেই পুরনো চর্চাগুলো পরিত্যাগ করার সময় এসেছে এখন। এখন স্বাধীন প্রতিষ্ঠান ও মানবাধিকারকে সমুন্নত রাখার মাধ্যমে নতুন পথ তৈরির সময়।
ইউরোপীয় পার্লামেন্ট প্রতিনিধি দলের প্রধান তমাস জডেকভস্কি বলেন, দেশ এখন একটি নতুন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করছে। আমরা নবনির্বাচিত সংসদ এবং সরকারকে অনুমোদিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়নের জন্য অন্যান্য সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানাই। নির্বাচন পরবর্তী পরিবেশ পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আগামী মাসগুলোতে ভবিষ্যতের নির্বাচনের উন্নতির জন্য সুপারিশসহ একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন এই মিশন প্রকাশ করবে বলে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে।












