চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীতে শিক্ষার্থীদের নিজস্ব বই নিয়ে প্রবেশ ও পড়াশোনার নির্দিষ্ট উন্মুক্ত স্থান চালু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিনের দাবির পর চালু হওয়া এ ব্যবস্থায় এখন শিক্ষার্থীরা একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি বিসিএস, ব্যাংক, শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির বইও লাইব্রেরিতে বসে পড়তে পারছেন। ফলে বিশেষভাবে উপকৃত হচ্ছেন চাকরি প্রত্যাশী শিক্ষার্থীরা।
এ উদ্যোগটি গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)। তাদের উদ্যোগে লাইব্রেরিতে শিক্ষার্থীদের নিজস্ব বই নিয়ে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয় এবং এজন্য আলাদা উন্মুক্ত পাঠস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও সীমাবদ্ধতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে শিক্ষার্থীরা লাইব্রেরিতে নিজস্ব কোনো বই নিয়ে প্রবেশ করতে পারতেন না। কেবল লাইব্রেরির একাডেমিক বই ব্যবহার করা যেত। ফলে চাকরির প্রস্তুতির প্রয়োজনীয় বই নিয়ে পড়ার সুযোগ ছিল না। এতে চাকরি প্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের লাইব্রেরির সুবিধাজনক পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হয়ে ক্যাম্পাসের বাইরে কোচিং সেন্টার, লাইব্রেরি বা আবাসিক হলে বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজতে হতো। অনেক ক্ষেত্রে পড়ার পরিবেশের অভাবে নিয়মিত প্রস্তুতিও ব্যাহত হতো বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির নীরব, মনোযোগী ও একাডেমিক পরিবেশ দীর্ঘ সময় ধরে পড়াশোনার জন্য সবচেয়ে উপযোগী। সেখানে নিজস্ব বই নিয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় তারা এখন একই স্থানে একাডেমিক পড়াশোনা ও চাকরির প্রস্তুতি সমন্বয় করতে পারছেন, যা সময় ব্যবস্থাপনায় প্রভাব ফেলছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের শিক্ষার্থী আশফিকুর রহমান তামিম বলেন, আগে লাইব্রেরিতে বসে শুধু একাডেমিক বই পড়তে পারতাম। চাকরির বই নিয়ে ঢুকতে না পারায় আলাদা জায়গা খুঁজতে হতো অথবা নিজের থাকার রুমে পড়তে হতো। অনেক সময় পড়ার মনোযোগ ধরে রাখা সম্ভব হতো না। এখন নিজের চাকরির বই নিয়ে এসে লাইব্রেরিতে পড়তে পারছি। এতে সময় বাঁচছে এবং পড়ার ধারাবাহিকতাও বজায় থাকছে।
সমাজবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী জান্নাত জাহান বিথী বলেন, লাইব্রেরির পরিবেশে পড়াশোনা করার মতো ভালো জায়গা ক্যাম্পাসে কম। নিজস্ব বই নিয়ে ঢুকতে না পারায় চাকরির প্রস্তুতি অনেকটা পিছিয়ে থাকত। এখন একই জায়গায় একাডেমিক ও চাকরির পড়া দুটোই করা যাচ্ছে, যা আমাদের জন্য বড় স্বস্তির বিষয়।
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর হাসান বলেন, চাকসুর এ উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে বসে নিয়মিত চাকরির প্রস্তুতি নেওয়া এখন সহজ হয়েছে। সদ্য অনার্স শেষ করে মাস্টার্সে উঠলাম। এখন চাকরির পড়া খুব জরুরি। আগে লাইব্রেরিতে এমন উন্মুক্তভাবে বই নিয়ে প্রবেশ করতে না পারায় তেমন চাকরির প্রস্তুতি নিতে পারিনি। এখন যে সুযোগ করা হয়েছে এতে শিক্ষার্থীরা আরো বেশি সময় লাইব্রেরিমুখী হবে এবং পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়বে।
চাকসুর পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া বিষয়ক সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটা চেষ্টা থাকে পড়াশোনা শেষ করে যেন একটা চাকরি পেতে পারে। যার কারণে একাডেমিকের পাশাপাশি তারা চাকরির প্রস্তুতি নেওয়াটা শুরু করে। কিন্তু আমাদের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে কোনোভাবে শিক্ষার্থীরা বাইরে থেকে নিজস্ব কোনো বই আনতে পারত না; যার কারণে তাদের চাকরির প্রস্তুতিটা নিতে কষ্ট হতো। শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে প্রশাসনের সাথে কথা বলে আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য এমন সুযোগ করতে পেরেছি। এতে শিক্ষার্থীরা অনেক উপকৃত হচ্ছেন।
শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, চাকসুর উদ্যোগের মাধ্যমে চালু হওয়া এ সুবিধা স্থায়ীভাবে বহাল থাকবে এবং ভবিষ্যতে লাইব্রেরির উন্মুক্ত পাঠস্থান আরো সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি আসনসংখ্যা বৃদ্ধি, দীর্ঘ সময় লাইব্রেরি খোলা রাখা এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার সহায়ক রেফারেন্স কর্নার স্থাপনের মতো উদ্যোগ নেওয়া হলে চাকরি প্রত্যাশী শিক্ষার্থীরা আরো বেশি উপকৃত হবেন।












