ফেব্রুয়ারিতেই ইনুর মামলার রায়ের আশা প্রসিকিউশনের

মানবতারিরোধী অপরাধ

| বুধবার , ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ

জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে কুষ্টিয়ার হত্যাকাণ্ডে মানবতাবিরোধী অপরাধে করা মামলার রায় ফেব্রুয়ারি মাসেই ঘোষণার আশা করছে প্রসিকিউশন। গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুনানি শেষে প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। একই অভিযোগে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধেও ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে। খবর বিডিনিউজের।

অভিযোগ করা হয়, আসামিদের উসকানিমূলক বক্তব্য ও ষড়যন্ত্রের ফলে কুষ্টিয়ায় ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। এদিন এ মামলার আসামি সাবেক তথ্যমন্ত্রী ইনুর পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি। আসামিপক্ষ পাঁচজন সাফাই সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়ার আবেদন করলেও ট্রাইব্যুনাল তিনজনকে সাক্ষ্য দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। আইনি বাধ্যবাধকতার কথা তুলে ধরে দুজনের সাক্ষ্য গ্রহণের আবেদন আমলে নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে প্রধান কৌঁসুলি বলেন, এ মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার আসামিপক্ষের সাফাই সাক্ষ্য উপস্থাপনের দিন ধার্য ছিল। এদিন আসামিপক্ষ পাঁচজন সাক্ষীর নাম প্রস্তাব করে আবেদন করে। তবে আদালত সেই আবেদন আংশিক মঞ্জুর করে শুধু তিনজনকে অনুমতি দিয়েছে। অতিরিক্ত সাক্ষীর আবেদন নাকচ হওয়ার বিষয়ে তাজুল বলেন, আইনে বলা হয়েছে, যেদিন বিচারের সূচনা (কমেন্সমেন্ট অব ট্রায়াল) হবে সেদিনই আসামিপক্ষকে সাফাই সাক্ষীর তালিকা দিতে হয়। বিচার শুরুর দিন তারা তিনজনের নাম দিয়েছিলেন, আদালত সেটিই মঞ্জুর করেছেন। পরে নতুন করে আবেদন করার বা সংখ্যা বাড়ানোর আইনগত সুযোগ নেই বলে আদালত অতিরিক্ত সাক্ষীর আবেদন গ্রাহ্য করেনি। আসামিপক্ষের তিন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মাধ্যমে মামলাটি চূড়ান্ত পরিণতির দিকে যাবে। এ মামলার রায়ের ব্যাপারে তাজুল বলেন, দুই ট্রাইব্যুনালে দুটি মামলা রায়ের অপেক্ষায় আছে। আশা করছি, এ মাসেই রায় পাওয়া যাবে। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইআগস্টের আন্দোলন দমনে কুষ্টিয়া শহরে ছাত্রজনতার ওপর গুলি চালিয়ে হত্যা, উসকানি ও ষড়যন্ত্রসহ আটটি অভিযোগে হাসানুল হক ইনুর বিচার চলছে। ওই ঘটনায় শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন ও উসামা, শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম ও সুরুজ আলী বাবু, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী এবং চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ নিহত হন। ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর এ মামলায় জব্দ তালিকার সাক্ষী ও তদন্ত সংস্থার এসআই মো. কামরুল হোসেন জবানবন্দি দেন।

এর আগে ১ ও ২ ডিসেম্বর সাইবার ও ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা এবং মামলার প্রথম সাক্ষী মো. রাইসুল হক জবানবন্দি দিয়েছিলেন। জুলাইআগস্ট আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় গুলিবিদ্ধ রাইসুল হক তার জবানবন্দিতে ইনুকে হামলার প্রত্যক্ষ নির্দেশদাতা হিসেবে অভিযোগ করেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরাঙ্গুনিয়ায় চাষ হচ্ছে সুপারফুড মাশরুম
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রাম সমিতি ওমানের শীতবস্ত্র বিতরণ