রাঙ্গুনিয়ায় চাষ হচ্ছে সুপারফুড মাশরুম। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় উদ্যোমী যুবক–তরুণরা এই আবাদ করে ভালো উপার্জন করছেন। ইউটিউবে মাশরুম চাষে মানুষের সফলতার গল্প শুনে উদ্বুদ্ধ হয়ে সফল উদ্যোক্তা হচ্ছেন মাশরুম চাষিরা।
উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. নাজিম, মো. এনাম ও মীর রাকিব। প্রথম দু’জন রাঙামাটি সরকারি কলেজের এবং রাকিব চট্টগ্রাম মহসিন কলেজের ছাত্র। ইউটিউবে মাশরুম চাষ দেখে উদ্ধুদ্ধ হয়ে গত কয়েক মাস আগে তারা তিন বন্ধু মাশরুম চাষ শুরু করেন। ইতিমধ্যেই ফলন এসে অনলাইন ও স্থানীয়দের কাছে বিক্রিও করছেন কেজি ৩৫০ টাকা দামে। দৈনিক অন্তত ৫–৭ কেজি মাশরুম বিক্রি করে গড়ে দুই হাজার টাকার বেশি আয় করছেন বলে জানান তারা। এতে তাদের খরচ বাদে মাসিক আয় ৬০ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যায়। সামনে ফলন বাড়বে এবং বিক্রিও ১০–১৫ কেজি ছাড়াবে বলে জানান তারা। তাদের দেখাদেখি বর্তমানে অনেকেই মাশরুম চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। এই ধরনের উদ্যোক্তাদের উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। জানা যায়, মাশরুম রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ও হজমশক্তি বাড়ায়, মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখে, ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ ও ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে, ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এতে ভিটামিন, খনিজ, প্রোটিন, অ্যান্টিুঅক্সিডেন্টসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান থাকে। তাই মাশরুমকে সুপারফুড হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ এলাকায় আলাদা দুটি কক্ষে তারা উন্নত জাতের মাশরুম চাষ করেছেন। নাম দিয়েছেন ‘আল ফালাহ মাশরুম ফার্ম’। গেল বছর পরীক্ষামূলকভাবে তারা মাত্র ১৫০ প্যাকেট মাশরুম চাষ শুরু করে বেশ ভালোই লাভবান হয়েছিলেন।
সাফল্য আসায় বর্তমানে তারা উৎপাদন বাড়িয়ে ৫০০ প্যাকেটে উন্নীত করেছেন। ভবিষ্যতে তাদের লক্ষ্য এই সংখ্যা ২ থেকে ৩ হাজার প্যাকেটে নিয়ে যাওয়ার। সম্প্রতি আল ফালাহ মাশরুম ফার্ম পরিদর্শন করেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার মো. ইমরুল কায়েস।
পরিদর্শনকালে তিনি মাশরুম চাষের আধুনিক পদ্ধতি, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ, পরিচর্যা ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের পাশে থাকার সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার ইমরুল কায়েস বলেন, রাঙ্গুনিয়ায় এই তিন কলেজ বন্ধু ছাড়াও শিলকের মফিজুর রহমানসহ বিভিন্ন জায়গায় মাশরুম আবাদ হয়েছে।
আল ফালাহ মাশরুম ফার্ম তরুণদের স্বাবলম্বী হওয়ার একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত, যা বেকারত্ব হ্রাস ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিন যুবককে ৭ দিনব্যাপী মাশরুম চাষের ট্রেনিং করানো হচ্ছে।












