‘আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে; কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।’– দেশ এখনো কাজে বড় হওয়া ছেলের সন্ধানেই আছে। বহুল প্রতিক্ষিত নির্বাচন আসার পরে বুঝলাম এই মাঠে ব্যক্তির চেয়ে প্রতীকের গুরুত্ব বেশি। আসলেই কি প্রতীক কখনো ভালো কিছু বা খারাপ কিছু প্রমাণ করতে পারে? রাজনীতি যদিও আমি কম বুঝি কিন্তু আমি রাজনীতির সংজ্ঞাটা সম্পর্কে অবগত। একজন দেশ প্রেমিকই হতে পারে রাজনীতিবিদ। কিন্তু বর্তমান সময় চিন্তা করলে আমরা কি কোনও দেশপ্রেমিককে রাজনীতির মাঠে দেখি? যে কিনা শুধু দেশের স্বার্থে একজন নেতা! প্রকৃত দেশপ্রেমিক যদি আমাদের রাজনৈতিক দলের নেতা হতো তাহলে দেশের সম্পদ আত্মসাৎ করার দায়ে মামলা হতো না। একজন দেশপ্রেমিক কখনো ভিনদেশী নাগরিকত্ব চাওয়ার কথা না। সবচেয়ে মজার বিষয় মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেয়া রাজনৈতিক নেতাদের –যারা কিনা মঞ্চে সামনে দাঁড়ানোর জন্য লড়াই করে, আবার কারো কারো বক্তব্য দেয়ার পরে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হয়। আবার কারো নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি এমন হয় দেশে ন্যায় বিচার ফিরিয়ে আনার জন্য ওরায় যথেষ্ট। এইসব কথা বলা আর করার মধ্যে আমার পার্থক্য খুঁজে পাই নির্বাচন পরবর্তী সময়ে। তখন আমাদের আমও গেলো ছালাও গেলো অবস্থা। আপনি যখন নির্বাচনের জন্য মনোনীত কোনও নেতার কাছ থেকে পরিতোষক নিচ্ছেন ভোট ঐ প্রতীকে দেয়ার জন্য তখন নির্বাচন পরবর্তী আপনার কোনও চাওয়া পাওয়া ঐ নেতার কাছে থাকতে পারে বলে আমি মনে করি না। কারণ আপনার অমূল্য ভোটের মূল্য আপনি তার কাছ থেকে আগেই নিয়ে নিয়েছেন। তার মূল্য নির্বাচন পরবর্তী চাওয়ার যে ক্ষমতা আপনার ছিল সেটা আপনি সস্তায় বিক্রি করে দিয়েছেন। পোশাক যেমন কোনও মানুষের চরিত্রের পরিচয় দিতে পারে না তেমনি কোন প্রতীকও কোন আদর্শ দেশপ্রেমিক নেতার পরিচয় বহন করতে পারে না। দল হিসেবে কেমন নেতা সেটার চাইতে ব্যক্তি হিসেবে কেমন সেটাই বেশি গ্রহণযোগ্য নয় কি? একজন যোগ্য ব্যক্তি যেমন প্রতীকের ঊর্ধ্বে তেমনি একজন দেশপ্রেমিক নেতাও দলের ঊর্ধ্বে। কবির ভাষায় বলতে ইচ্ছে করে ‘এমনি জীবন তুমি করিবে গঠন মরণে হাসিবে তুমি কাঁদিবে ভুবন’। আমরা আগামী সময়ে এমন দেশপ্রেমিক নেতার অপেক্ষায় আছি যার বিয়োগে সাধারণ মানুষ আনন্দ মিছিল করার পরিবর্তে শোকের মাতম বানাবে, যে নেতার সামনে যাওয়ার জন্য ধাক্কাধাক্কি নয় বরং সাধারণ মানুষ ফুল বিছিয়ে দিবে, যে নেতা শুধু প্রতিশ্রুতির ইনসাফ নয় ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবে, এমন নেতা চাই যে নিজের জন্য রাজপ্রাসাদ নয় বরং পুরো দেশটাকেই রাজপ্রাসাদ বানিয়ে দেয়। তবেই সাধারণ মানুষ পুরানো গ্লানি ভুলে নতুন বাংলাদেশ দেখার সুযোগ পাবে।











