শহর–নগর থেকে গ্রামীণ জনপদ সর্বত্র নির্বাচনী হাওয়া। ভোটের বাকি আর মাত্র ১২দিন। চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনের অলি–গলিতে দিন–রাত পুরোদমে চলছে প্রার্থী ও তাদের কর্মী–সমর্থকসহ স্বজনদের প্রচারণা। আসন ভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে চলছে ভোটার টানার নানামুখী সমীকরণ। এলাকা ভিত্তিক ভোটারদের হিসেব মেলাতে ব্যস্ত প্রার্থী ও কর্মী–সমর্থকরা। প্রার্থীদের সরব পদচারণায় ইতোমধ্যেই পরিষ্কার হয়ে গেছে, কোন আসনে কার সাথে কার প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে যাচ্ছে। এরমধ্যে কয়েকটি আসনের হেভিওয়েট কয়েকজন প্রার্থী অনেকটা টেনশন ফ্রি হয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে এবার বিএনপি–জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও জাতীয় পার্টিসহ ২৫টি দলের ১১৫জন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিশেষ করে চট্টগ্রাম–৫ (হাটহাজারী ও বায়েজিদ) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী না থাকায় বিএনপি প্রার্থী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন অনেকটা নির্ভার হয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এই আসনে মোট ৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির মীর হেলালের সাথে এই আসনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের শরিক দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. নাসির উদ্দীন (রিক্সা)।
এদিকে চট্টগ্রাম–১১ (বন্দর–পতেঙ্গা) আসনে মোট প্রার্থী সংখ্যা ১১ জন। এই আসনে বিএনপি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলের হেভিওয়েট প্রার্থী এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এই আসনে মূলত বিএনপির সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ শফিউল আলমের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে যাচ্ছে।
চট্টগ্রাম–১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া) আসনে মোট প্রার্থী সংখ্যা ৩ জন। এই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলের হেভিওয়েট প্রাথী এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক হুইপ শাহজাহান চৌধুরী। মূলত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর সঙ্গে এই আসনে বিএনপির প্রার্থী বিএনপির নাজমুল মোস্তফা আমীনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে চলেছে।
চট্টগ্রাম–৬ (রাউজান) আসনে মোট প্রার্থী সংখ্যা ৪ জন। এই আসনে বিএনপি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। এই আসনেও বিএনপির সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. শাহজাহান মঞ্জু’র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে যাচ্ছে।
চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মধ্যে প্রায় প্রতিটি আসনেই আসনে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে বিএনপি। এরমধ্যে ১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীও শক্ত অবস্থান নিয়ে লড়ছেন নির্বাচনী মাঠে। গত ১৫ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতার পর চট্টগ্রামে ভোটের মাঠের সমীকরণ অনেকটা পাল্টে গেছে। জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতায় চট্টগ্রামে ১৬ আসনের মধ্যে ৯ আসন জামায়াতে ইসলামী নিজেদের জন্য রেখে ছয় আসন জোটের অপর ৫ শরিক দলকে ছেড়ে দিলেও এরমধ্যে চট্টগ্রাম–১২ পটিয়া আসনের জোটের এলডিপি প্রার্থী এয়াকুব আলী গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. ফরিদুল আলমের সমর্থনে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। অপরদিকে চট্টগ্রাম–১৩ আনোয়ারা–কর্ণফুলী আসনটিও ১১ দলীয় জোটের শরিক দল খেলাফত মজলিসকে ছেড়ে দেয়া হলেও খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোহাম্মদ ইমরান এই আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসানের সমর্থনে তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। অপরদিকে চট্টগ্রাম–৯ কোতোয়ালী আসনটি ১০ দলীয় জোটের শরিক দল বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টিকে ছেড়ে দেয়া হলেও এই আসনের নেজামে ইসলাম পার্টির প্রার্থী মো. নেজাম উদ্দীন
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হকের সমর্থনে তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। এই আসন গুলোতে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে ভোটের মাঠে।
এদিকে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটে জাতীয় নাগরিক পার্টি–এনসিপিকে চট্টগ্রাম–৮ বোয়ালখালী–চান্দগাঁও আসনটি দেয়া হয়েছে। এই আসনে এনসিপির প্রার্থী মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ। তবে এই আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবু নাছের তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় এই আসনে বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টি–এনসিপি’র প্রার্থী মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ এবং জামায়াতের মো. আবু নাছেরের ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
চট্টগ্রাম–২ (ফটিকছড়ি) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আমিনের সঙ্গে নির্বাচনী মাঠে সমানে সমানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে বিএনপি প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরের। যদিও সরওয়ার আলমগীর নির্বাচনী আইনী জটিলতা কাটিয়ে প্রতীক পেয়েছেন গত বুধবার।
এদিকে চট্টগ্রাম–৭ রাঙ্গুনিয়া আসনে বিএনপি প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরীর সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর এটিএম রেজাউল করিমের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার কথা বলছেন এলাকার ভোটাররা।
চট্টগ্রাম–১৬ (বাঁশখালী) আসনে বিএনপি, জামায়াত ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন অভিজ্ঞ মহল।
এ আসনটি এবার দক্ষিণ চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি আলোচিত। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়ে মাঠে লড়ছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর পুত্র মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী। এ আসনে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মাঠে নেমেছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান লেয়াকত আলী। এই আসনে জামায়াত ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। স্থানীয়রা বলছেন, বিএনপির দলীয় প্রার্থীর সাথে স্বতন্ত্র হিসেবে বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে থাকায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন।
এদিকে চট্টগ্রাম–১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক) আসনে মোট প্রার্থী সংখ্যা ৮ জন। এই আসনে বিএনপি প্রার্থী জসীম উদ্দীন আহমেদ–এর সাথে এলডিপির প্রার্থী ওমর ফারুকের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা জানিয়েছেন এলাকার ভোটাররা।
চট্টগ্রাম–১০ ডবলমুরিং–হালিশহর–পাহাড়তলী আসনে বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আল নোমানের সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থ্থানীয়রা।
একই ভাবে চট্টগ্রাম–১ (মীরসরাই) আসনে মূলত বিএনপির প্রার্থী নুরুল আমিনের সাথে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এই আসনের জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ ছাইফুর রহমানের।
চট্টগ্রাম–৩ (সন্দ্বীপ) আসনে বিএনপি প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশার সঙ্গে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ আলা উদ্দীনের।
চট্টগ্রাম–৪ সীতাকুণ্ড আসনেও বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীর সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আনোয়ার ছিদ্দিকের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা।












