পশ্চিম বিনাজুরী শ্মশান বিহার প্রাঙ্গণে বাংলাদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু, ত্রয়োদশ সংঘরাজ, শতাব্দীপ্রাচীন পশ্চিম বিনাজুরী শ্মশান বিহারের আজীবন অধ্যক্ষ ড. জ্ঞানশ্রী মহাস্থবিরের তিন দিনব্যাপী জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান গতকাল বুধবার শ্রদ্ধা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পশ্চিম বিনাজুরী শ্মশান বিহার সংলগ্ন মাঠ এবং আশপাশের এলাকা ইতোমধ্যেই উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ভিক্ষুসংঘ, উপাসক–উপাসিকা ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে প্রায় লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটবে।
গতকাল বুধবার জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার প্রথম দিন সকালে সংঘরাজের পারলৌকিক নির্বাণসুখ কামনায় অষ্টপরিস্কারসহ সংঘদান ও বিকালে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশ–বিদেশের ভিক্ষুসংঘ অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী ধর্মীয় আচার–অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রয়াত পূণ্যপুরুষের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
বিকেলে পশ্চিম বিনাজুরী শ্মশান বিহার সংলগ্ন মাঠে বিশেষ আলোচনা সভা ও সেমিনার আয়োজন করা হয়। সেমিনারের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয় –
‘সমাজ ও জাতি গড়ে উঠুক শীল–সংযমে পরিবৃত প্রজন্মের বাতিঘরে, জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক।’
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ত্রয়োদশ সংঘরাজ ড. জ্ঞানশ্রী মহাস্থবিরের জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া উদ্যাপন পরিষদের সহ–সভাপতি বিনয়পাল মহাথেরো। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের উপ–সংঘরাজ শ্রদ্ধালংকার মহাথেরো। উদ্বোধক ছিলেন জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি শাসনানন্দ মহাথেরো।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া উদযাপন পরিষদের কার্যকরী সভাপতি চেয়ারম্যান সুকুমার বড়ুয়া এবং সাধারণ সম্পাদক সদ্ধর্মজ্যোতি তিলোকাবংশ মহাথেরো। সেমিনারে বক্তব্য দেন, ড. ধর্মকীর্তি মহাথেরো, পার্বত্য সংঘরাজ প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো, ড. সংঘপ্রিয় মহাথেরো, শাসনরক্ষিত মহাথেরো, ধর্মমিত্র মহাথেরো, অধ্যাপক সুমেধানন্দ মহাথেরো, এম. বোধিমিত্র মহাথেরো, প্রিয়ানন্দ মহাথেরো, ইউএসটিসির সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ডা. প্রভাত চন্দ্র বড়ুয়া, ডা. প্রীতি বড়ুয়া, প্রফেসর ডা. অনুপম বড়ুয়া, অধ্যাপক ডা. এ এ এম রাইহান উদ্দিন, অধ্যক্ষ তুষার কান্তি বড়ুয়া, অধ্যক্ষ শিমুল বড়ুয়া, শিক্ষা অফিসার রিটন কান্তি বড়ুয়া, লেখক বিপ্লব বড়ুয়া, লায়ন ধনঞ্জয় বড়ুয়া রুবেল।
বক্তারা বলেন, শতবর্ষী এই মহান পূণ্যপুরুষ তাঁর গেরিক জীবনের প্রায় ৮১ বছর ধরে সমাজ ও সদ্ধর্মের বিকাশে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম ও বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে শুরু করে দেশের সমতলের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত তিনি নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন মানবকল্যাণে। পাশাপাশি বৌদ্ধ শাসনকে সুদৃঢ় ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে তিনি গড়ে তুলেছেন বৌদ্ধশাসন কল্যাণ ট্রাস্ট, ত্রিপিটক প্রচার বোর্ডসহ একাধিক ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন।
আজ বৃহস্পতিবার ও আগামীকাল শুক্রবার সংঘরাজের পারলৌকিক নির্বাণসুখ কামনায় অষ্টপরিস্কারসহ সংঘদান অনুষ্ঠিত হবে। বিকেলবেলা জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া উপলক্ষে অনিত্য সভা ও স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান অব্যাহত থাকবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।












