শেষ বলের ছক্কায় রংপুরকে বিদায় করে কোয়ালিফায়ারে সিলেট

ক্রীড়া প্রতিবেদক | বুধবার , ২১ জানুয়ারি, ২০২৬ at ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ

শেষ বলে জয়ের জন্য ৬ রানের প্রয়োজন। ফাহিম আশরাফের বলে ছক্কা মেরেই রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে সিলেট টাইটান্সকে অবিশ্বাস্য জয় উপহার দেন ইংল্যান্ডের ক্রিস ওকস। গতকাল বিপিএল টিটোয়েন্টি ক্রিকেটের দ্বাদশ আসরের এলিমিনেটর ম্যাচে ওকসের ছক্কায় সিলেট ৩ উইকেটে হারায় রংপুরকে। এই জয়ে দ্বিতীয় কোয়ালিফাইয়ারে উঠে ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখল সিলেট। অন্যদিকে ম্যাচ হেরে বিপিএলের প্লেঅফ থেকে বিদায় নেয় রংপুর। ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে মাত্র ১১১ রান করে রংপুর। জবাবে ৩ উইকেট হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় সিলেট। মিরপুর টস জিতে সিলেটকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান রংপুরের অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। ব্যাটিংয়ে টপঅর্ডারের ব্যর্থতায় শুরুতেই চাপে পড়ে সিলেট। দলীয় ২৯ রানের মাথায় সাজঘরের পথ ধরেন চারজন ব্যাটার। ডেভিড মালান ৪, তাওহীদ হৃদয় ৪, লিটন দাস ১ ও কাইল মেয়ার্স ৮ রানে আউট হন। পঞ্চম উইকেটে দলের হাল ধরার চেষ্টা চালান খুশদিল শাহ ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। দুজন মিলে গড়েন ৩৪ রানের জুটি। মাত্র ১৯ বলে ৩০ রান করে আউট হন খুশদিল। আর দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করে ফেরেন রিয়াদ। এদিকে দলনেতা নুরুল হাসান সোহানের ব্যাট থেকে আসে ২৪ বলে ১৮ রান। আর ফাহিম আশরাফ ৩, আলিস আল ইসলাম ৪, মোস্তাফিজুর রহমান ১ ও নাহিদ রানা ২ রান করেন। সিলেটের হয়ে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন খালেদ আহমেদ। দুটি করে উইকেট নেন ক্রিস ওকস ও নাসুম আহমেদ। সহজ লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে রংপুরের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শুরুতে খানিকটা চাপে পড়ে সিলেট টাইটান্স। তবে দলনেতা মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে চাপ সামলে নেন ইংলিশ তারকা স্যাম বিলিংস। দুজনের ৫০ রানের জুটিতেই জয়ের ভিত পেয়ে যায় সিলেট। এই দুই ব্যাটার ফিরলে সিলেটের জয়ে শঙ্কা জাগে। তবে ক্রিস ওকসের সাহসী ব্যাটিংয়ে জয় পেয়ে যায় সিলেট। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ২৯ রান করেন স্যাম বিলিংস। ১৮ রান করে করেন পারভেজ হোসেন ইমন ও মেহেদী হাসান মিরাজ।

এছাড়া আরিফুল ইসলাম ১৭, তাওফিক খান ২, আফিফ হোসেন ৩ ও মঈন আলি ৫ রান করেন। আর ১০ রানে ক্রিস ওকস ও ১ রানে খালেদ আহমেদ অপরাজিত থাকেন। ১৯তম ওভারের প্রথম বলে বিলিংসকে শিকার করেন পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। ঐ ওভারে ৬ রান আসলে শেষ ৬ বলে জয়ের জন্য ৯ রান প্রয়োজন পড়ে সিলেটের। পেসার ফাহিম আশরাফের করা শেষ ওভারের প্রথম বলে ২ রান নিলেও, পরের ২ ডেলিভারিতে রানের দেখা পাননি মঈন আলি। চতুর্থ বলে আউট হন মঈন। পঞ্চম বল থেকে ১ রান নেন খালেদ। এতে শেষ বলে জিততে ৬ রান দরকার পড়ে সিলেটের। ফাহিমের অফস্ট্যাম্পের বাইরের বল ডিপ এক্সট্রা কভার দিয়ে ছক্কা মেরে সিলেটকে অবিশ্বাস্য জয় এনে দেন ওকস। শেষ বলে ৬ রানের সমীকরণে ছক্কা মেরে জয় পাওয়ার ঘটনা বিপিএলের ইতিহাসে এবারই প্রথম ঘটল। মোস্তাফিজ ও অ্যালিস ইসলাম ২টি করে উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হয়েছেন সিলেটের খালেদ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধস্বর্ণার ছক্কার রেকর্ড ম্যাচে বাংলাদেশ সহজেই হারালো পাপুয়া নিউ গিনিকে
পরবর্তী নিবন্ধতারুণ্যের উচ্ছ্বাসের দুই দশকের বছরব্যাপী অনুষ্ঠানমালা শুরু