শব্দ দূষণ: নীরব হত্যাকারীর ভয়াবহতা ও প্রতিকার

দেলোয়ার মজুমদার | সোমবার , ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ at ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ

মানুষের বা অন্য কোনও প্রাণীর শ্রবণসীমার বাইরে থাকা বা বিরূপভাবে প্রভাবিত করার মতো উচ্চ এবং অপ্রয়োজনীয় শব্দই হলো শব্দদূষণ। আমাদের চারপাশে সব সময় শব্দ শুনা যায়, এমন কি নিরিবিলি পরিবেশেও আমরা আমাদের নিশ্বাসের শব্দ শুনতে পাই। সব শব্দই দুষণ ঘটায় না, কেবল একটা নির্দিষ্ট মাত্রর উপরে গেলেই তা দূষণ ঘটায়। এই শব্দদূষণের প্রধান প্রধান উৎস হচ্ছে যানবাহনের হর্ন, নির্মাণকাজ, শিল্পকারখানা, উচ্চস্বরে বাদ্যযন্ত্র বাজানো, মাইকিং ইত্যাদি। প্রতিনিয়ত অদৃশ্য এক শত্রু আমাদের স্বাস্থ্যহানি ঘটাচ্ছে। এর ফলে মানসিক চাপ, উচ্চ রক্তচাপ, শ্রবণশক্তি হ্রাস, ঘুমের ব্যাঘাত এবং উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়ার মতো স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরী হয়। শিল্পায়ন, যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি, ঘনবসতি ও সামাজিক আচরণের বদলে শব্দ দূষণ আজ বাংলাদেশের নগর জীবনে ক্রমাগত ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শব্দ দূষণকে আধুনিক মানবস্বাস্থ্যের অন্যতম বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। রাজধানী ঢাকা ইতোমধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে শব্দ দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে যা এই সমস্যা কতটা প্রকট তা প্রমাণ করে।

আগেই উল্লেখ করেছি শব্দ যখন মানুষের শ্রবণসীমার সহনসীমা অতিক্রম করে তখন তা স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে, এই ক্ষতি অন্যান্য প্রাণীর ক্ষেত্রে ও প্রজোয্য। মানসিক সহনক্ষমতা অতিক্রম করে বিরক্তি, চাপ বা শারীরিক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করা মাত্রার শব্দকে শব্দ দূষণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই মাত্রাটি যে এককে মাপা হয় তাকে ডেসিবেল বলা হয়। ডেসিবেলের নামটি এসেছে বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার গ্রাহামবেল এর নাম থেকে। এক ডেসিবেল মানে এক বেলের একদশমাংশ। এটি লগারিদমিক স্কেলে দুটি মানের অনুপাত প্রকাশ করে। মানুষের শোনার সর্বনিম্ন সীমা ০ ডেসিেবেল। ৬০ ডেসিবেল সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর। আগেই বলেছি এটি দুটি মানের অনুপাত দেখায়। শব্দের তীব্রতা ১০ গুণ বাড়লে ডেসিবেলের মান তিন গুণ বাড়ে। ৭০ বা তার বেশি মাত্রার শব্দ দীর্ঘসময় মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ৮৫ ডেসিবেলের উপর ধারাবাহিক শব্দ স্থায়ী কানের সমস্যা সৃষ্টি করার উপযুক্ত।

বাংলাদেশে এলাকা ও সময় ভেদে শব্দের গ্রহণযোগ্য মানদণ্ড নিচে উল্লেখ করছি। এখানে আরেকটা বিষয় উল্লেখ করছি আমাদের দেশে সাধারণত শব্দ পরিমাপে A-weighted ডেসিবেল scale – ডেসিবেল (A) ব্যবহার করা হয়, কারণ এটি মানুষের কানের সংবেদনশীলতা অনুযায়ী শব্দের মাত্রা নির্দেশ করে। চিহ্ণিত এলাকার ১০০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে শব্দ নিয়ন্ত্রণ বাধ্যতামূলক।

সহনীয় শব্দ মাত্রার মানদণ্ড (বাংলাদেশ): এখানে সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দিন এবং রাত ৯টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত সময়কে রাত হিসেবে ধরা হয়েছে। নিচের তালিকায় দেয়া মাত্রার প্রথমটি দিনের আর পরেরটি রাতের।

নিঃশব্দ এলাকা: হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কোর্ট প্রাঙ্গণ৫০ ডেসিবেল (A)- ৪০ ডেসিবেল (A)

আবাসিক এলাকা: ৫৫ ডেসিবেল(A)-৪৫ ডেসিবেল (A)

মিশ্র এলাকা: ব্যবসাবাণিজ্য + আবাসিক৬০ ডেসিবেল(A)-৫০ ডেসিবেল (A)

বাণিজ্যিক এলাকা/অফিস, বাজার: ৭০ ডেসিবেল (A)-৬০ ডেসিবেল (A)

শিল্পাঞ্চল: ৭৫ ডেসিবেল (A)-৭০ ডেসিবেল (A)

শব্দ পরিমাপের(বাংলাদেশ) সময় শব্দের প্রভাব অনুযায়ী শ্রেণিবিভাগ (সাধারণ): শব্দের মাত্রা ৪০ ডেসিবেল’র কম হলে পরিবেশ শান্ত/নিরীহ, ৪০৬০ ডেসিবেল হলে সহনীয়’, ৬০৮০ ডেসিবেল ক্ষতিকর মাত্রার দিকে, ৮০১০০ ডেসিবেল দীর্ঘসময় ক্ষতিকর, শ্রবণশক্তি হ্রাস শুরু, ১০০ ডেসিবেল’র বেশি হলে মারাত্মক ক্ষতিকর, তাৎক্ষণিক হিয়ারিং লসের ঝুঁকি।

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে শ্রুত গড় শব্দ মাত্রার বাস্তব উদাহরণ দিয়ে বুঝানোর চেষ্টা করছি, ফিসফিসানির শব্দের মাত্রা ৩০ ডেসিবেল, স্বাভাবিক কথোপকথন (৫০৬০ ) ডেসিবেল, ব্যস্ত সড়ক (৭০৯০) ডেসিবেল

হর্ন বাজানো (৯০১১০) ডেসিবেল, সাউন্ড বক্স / কনসার্ট(১০০১২০) ডেসিবেল, জেট ইঞ্জিনের কাছে ৪০+ ডেসিবেল বেদনাদায়ক। আবার শব্দ দূষণের প্রভাব বোঝার জন্য শব্দমাত্রাকে কয়েকটি ধাপে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়।

নিরাপদ / ভালো: শব্দের মাত্রা (৩০৪৫) ডেসিবেল এর মধ্যে থাকলে।

ঘরোয়া পরিবেশ, গ্রন্থাগার

শান্তিপূর্ণ: কোনো ঝুঁকি নেই, সহনীয় / স্বাভাবিক: শব্দের মাত্রা (৪৫৬০ ) ডেসিবেল এর মধ্যে থাকলে।

স্বাভাবিক কথোপকথন,

অফিস পরিবেশ: অল্প বিরক্তি, শরীরে ক্ষতি নেই, শব্দের মাত্রা (৬০৮৫) ডেসিবেল এর মধ্যে থাকলে।

উদ্বেগজনক/ ঝুঁকিপূর্ণ: ব্যস্ত রাস্তা, বাজার, বাসস্ট্যান্ড, যানবাহনের হর্ন, কারখানার শব্দ ইত্যাদি মানসিক চাপ, ঘুমের ব্যাঘাত, ক্ষতিকর, শব্দের মাত্রা (৮৫১১০) ডেসিবেল এর মধ্যে থাকলে

মারাত্মক বিপজ্জনক: বিমানবন্দর, বিস্ফোরণ তাৎক্ষণিক কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শব্দের মাত্রা (১১০১৪০+ ) ডেসিবেল হলে।

এ ছাড়াও শব্দ দূষণ হৃদরোগ, হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা, শ্রবণক্ষমতার ক্ষতি সহ নানাবিধ শারীরিক জটিলতা সৃষ্টির মাধ্যমে মৃত্যুর কারণও হয়ে উঠতে পারে।

শব্দ দূষণের প্রধান প্রধান ঊৎস সমূহ:

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রধান প্রধান উৎস সমূহ হচ্ছে

ক্রটিপূর্ণ যানবাহনের শব্দ ও হর্ন বাজানোর ক্ষেত্রে চালকের দায়িত্বহীন আচরণ।

অপরিকল্পিত নির্মাণকাজ ও উন্নয়ন প্রকল্প।

শব্দ নিয়ন্ত্রণহীন জেনারেটর, মিলকারখানার ভারী যন্ত্রের অনিয়ন্ত্রিত শব্দ।

রাজনৈতিক, ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কর্মকাণ্ডে বেপরোয়া লাউডস্পিকারের ব্যবহার।

মেট্রোরেল, রেল স্টেশন, বিমানবন্দর, নানাবিধ সমাবেশ, সাউন্ড সিস্টেম, হোম অ্যাপ্লায়েন্সের ব্যবহার।

বাজার এলাকায় উচ্চশব্দে বেচাকেনা ও দোকানের মাইক ব্যবহার।

শব্দ দূষণ সংক্রান্ত নাগরিক অসচেতনতা ও আইন অমান্য করা।

শহরের বাণিজ্যিক এলাকায় প্রায়ই ১০০১২০ ডেসিবেল পর্যন্ত শব্দ রেকর্ড করা হয় যা সরাসরি স্বাস্থ্যঝুঁকির পর্যায়ে পৌঁছে যায়।

শব্দ দূষণ পরিমাপের পদ্ধতি ও যন্ত্র:

আন্তর্জাতিক ভাবে শব্দের তীব্রতা মাপা হয় ডেসিবেল (ডেসিবেল) স্কেলে এবং মানুষের শ্রবণের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ফ্রিকোয়েন্সি অনুযায়ী Aweighting পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়, যা প্রকাশ করা হয় ডেসিবেল(A)স্কেলে।

Sound Level Meter: শব্দ পরিমাপে ব্যবহৃত যন্ত্রের নাম Sound Level Meter বা সংক্ষেপে বলা হয় SLM। এটি তাৎক্ষণিক শব্দ পরিমাপ করে। কোথাও যেমন হাসপাতাল, কারখানা, রাস্তা, স্কুল, আশেপাশের পরিবেশে এই যন্ত্র ব্যবহৃত হলে স্ক্রিনে সরাসরি রিয়েলটাইম ডেসিবেল দেখায়। A, C, Z- weighting সমর্থন করে (ফ্রিকোয়েন্সি বিভিন্নতায়)

Noise Dosimeter:

শ্রম আইন প্রয়োগে এই যন্ত্র ব্যবহৃত হয়। শ্রমিক বা ব্যক্তির শরীরে এটি ধারণ করে কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘসময় শব্দ এক্সপোজার মাপা হয়। ৮ ঘণ্টার Noise Dosimeter শতকরা ভাগে হিসাব দেয় এই যন্ত্র।

Data Logging Noise Monitor: ট্রাফিক পরিকল্পনা, বিমানবন্দর মূল্যায়ন, নগর গবেষণা ইত্যদি কাজে ব্যবহারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি তথ্য সংরক্ষণ প্রয়োজন হয়। Data Logging Noise Monitor এই কাজ করে এবং এই যন্ত্র দিয়ে দূর থেকে মনিটর করা যায় (সেন্সর নেটওয়ার্ক)। প্রয়োজনে শোরগোল ফিল্টার, ক্যালিব্রেটর ও পরিমাপ সফটওয়্যারসহ সম্পূরক ডিভাইসও ব্যবহৃত হয়।

জনস্বাস্থ্য ও শব্দ দূষণ:

আগেও উল্লেখ করেছি জনস্বাস্থ্যের উপর শব্দ দূষণের প্রভাব মারাত্মক ও সুদূরপ্রসারী। আমি এখন এই প্রভাবের কিছুটা তুলে ধরছি।

) শারীরিক ক্ষতি:

শব্দ দূষণের ফলে শ্রবণক্ষমতা হ্রাস, কানে ব্যথা, টিনিটাস উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধিপায়। এতে হরমোনাল ভারসাম্য নষ্ট, ঘুমের ব্যাঘাত, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া ইত্যাদি ঘটতে পারে।

) মানসিক ও স্নায়বিক সমস্যা:

শব্দ দূষণের করণে উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা, আচরণগত পরিবর্তন, মনোযোগের অভাব, স্মৃতিশক্তি দুর্বলতা ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়।

) শিশুদের উপর প্রভাব:

ভাষা ও মেধা বিকাশের বাধা, শিক্ষার ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব দেখা দেয়। অটিজম শিশুদের অস্বস্তি আরও বেড়ে যায়।

) সামাজিক ক্ষতি:

মারাত্মক মানসিক সঙ্কট তৈরী হয়। মানুষের রাগ বেড়ে যায় ও অসহিষ্ণু হয়ে উঠে, কখনো কখনো সহিংস প্রবণতাও দেখা দেয় মানুষের কর্মদক্ষতা কমে যায় এবং বসবাসের পরিবেশের মান নিম্নমুখী হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশে WHO’র তথ্য মতে দীর্ঘমেয়াদি শব্দ এক্সপোজার বছরে লক্ষাধিক মানুষের আয়ুষ্কাল কমিয়ে দেয়।

বাংলাদেশে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শব্দমাত্রার মানদণ্ড

Noise Pollution (Control) Rules, ২০০৬ অনুযায়ী ডেসিবেল সীমা।

(সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দিন ও রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত রাত ধরে)

নীরব এলাকা ৫০(ডেসিবেল)-৪০(ডেসিবেল); আবাসিক এলাকা ৫৫ (ডেসিবেল)-৪৫ (ডেসিবেল); মিশ্র এলাকা ৬০ (ডেসিবেল)-৫০ (ডেসিবেল); বাণিজ্যিক এলাকা ৭০(ডেসিবেল)-৬০ (ডেসিবেল); শিল্প এলাকা ৭৫ (ডেসিবেল)-৭০ (ডেসিবেল)

আন্তর্জাতিক মান:

WHO: ৫৫ ডেসিবেল (দিন), ৪০ ডেসিবেল (রাত)

OSHA (USA কর্মস্থল): ৮৫ ডেসিবেল পর্যন্ত (শ্রবণ সুরক্ষা আদেশসহ)

বাংলাদেশে অনেক এলাকায় বাস্তব মাত্রা এসব মানের দ্বিগুণেরও বেশি।

সমস্যা উত্তরণে সরকার ও জনগণের করণীয়:

শব্দ দূষণ প্রতিকারে সরকার কর্তৃক আইনের প্রয়োগ ও জনগণের সক্রিয় সামাজিক সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের দেশে সমর্থন পাওয়ার মত পর্যাপ্ত আইন ও নির্দেশনা আছে প্রয়োজন তা কার্যকর করা, যেমন

Noise Pollution Control Rules২০০৬ । এখন প্রয়োজন এর কঠোর প্রয়োগ।

যানবাহন চলাচলে No Horn Zone কার্যকর করা।

Silent Zone (হাসপাতালস্কুল) এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণ জোরদার করা।

নির্মাণ কাজের সময়সীমা নির্ধাণ করে দেয়া। নির্দিষ্ট সময়ের পর নির্মাণশিল্পের কাজ সীমিতকরণ।

লাউডস্পিকার ব্যবহারে অনুমতি বাধ্যতামূলক করা। লাউডস্পিকারের সংখ্য ও মাত্রার বৈধ ব্যবহার নিশ্চিত করা।

ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে শব্দদূষণ সৃষ্টিকারীর বিরুদ্ধে মামলা সহ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সামাজিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ সক্রিয় করা।

শব্দ দূষণ সচেতনতা বৃদ্ধি করতে সামাজিক প্রচারনা বিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচীতে অন্তর্ভুক্ত করা।

জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে নাগরিক সংগঠন সমূহকে ক্যাম্পেইনে যুক্ত করতে হবে।

আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জনপরিবহনে শব্দের মাত্রা কমিয়ে আনতে হবে।

প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কর্মক্ষেত্রে ইয়ার প্লাগ/ইয়ার মাফ সরবরাহ করতে হবে।

বাজার এলাকায় ডেসিবেল মনিটরিং বোর্ড স্থাপন।

স্থানীয় সরকারকে তৎপর করে ডেসিবেল্নয়ন কাজের সময়সূচি নির্ধারণ করে তা কার্যকর করতে হবে।

একটি শব্দ সংবেদনশীল সমাজ গড়ে তুলতে হবে এটি কেবল পরিবেশ নয়, মানবাধিকারও বটে।

উপসংহার:

শব্দ দূষণ কোনো সামান্য পরিবেশগত অসংগতি নয়; এটি এক নীরব মৃত্যুঝুঁকি। নগর সভ্যতার উন্নয়নের সাথে সাথে মানুষের মানসিক প্রশান্তি ও শারীরিক নিরাপত্তা যেন বিসর্জিত না হয় এটি নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও নাগরিক উভয়ের দায়িত্ব। শব্দ দূষণ প্রতিকার শুধু আইনের প্রয়োগ নয়, সম্মিলিত দায়িত্ববোধের মাধ্যমেই সম্ভব। সরকারকে একদিকে যেমন কার্যকর শব্দনিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন, নিয়মিত মনিটরিং, জরিমানা ও জনসচেতনতা কর্মসূচি জোরদার করতে হবে, তেমনি নগর পরিকল্পনায় নীরব জোন সংরক্ষণ ও প্রযুক্তি নির্ভর শব্দ পরিমাপ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে জনগণর দায়িত্ব হলো অহেতুক হর্ন ব্যবহার পরিহার করা, সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অনুমোদিত শব্দমাত্রা মানা, শব্দ দূষণ সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও আইনগত সহায়তা নেওয়া এবং সামাজিক ও পারিবারিক পরিসরে সচেতন আচরণ গড়ে তোলা। সরকার ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগই কেবল সুফল বয়ে আনতে পারে। মনে রাখতে হবে, শব্দ কমানো মানে শুধু কানে শান্তি দেওয়া নয়, বরং ‘আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ, মননশীল ও মানবিক পরিবেশ উপহার দেওয়া।’ তাই আজই আমাদের অঙ্গীকার অপ্রয়োজনীয় হর্ন বাজাবো না, শব্দ বাড়ার বিরুদ্ধে দাঁড়াবো শান্ত পরিবেশই হোক আমাদের মৌলিক অধিকার।

লেখক: নগর পরিকল্পনাবিদ, সাবেক চেয়ারম্যান, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউিশন বাংলাদেশ (আইইবি)- চট্টগ্রাম।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রাম : বাণিজ্যিক রাজধানীর অপরিহার্যতা
পরবর্তী নিবন্ধঅবৈধ ইটভাটা বন্ধের দাবিতে বাঁশখালীর রত্নপুরে মানববন্ধন