চিকিৎসা খাতে সংঘটিত দেশের অন্যতম বৃহৎ ও ভয়াবহ ৮৫০ কোটি টাকা আত্মসাত ও জালিয়াতির মামলায় পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালের ম্যানেজিং ট্রাস্টি ডা. রবিউল হোসেনের পুত্র রিয়াজ হোসেনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ (শুক্রবার) সকালে পাহাড়তলী থানা পুলিশ আগের রাতে গ্রেফতারকৃত আসামি রিয়াজ হোসেনকে আদালতে হাজির করলে বাদীপক্ষ ও আসামিপক্ষের দীর্ঘ ও শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে ১ম আদালতের বিচারক আবু বকর সিদ্দিক মামলার ভয়াবহতা, অপরাধের প্রকৃতি, তদন্তাধীন অবস্থায় আসামির জামিনে মুক্তি পেলে বিচার প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন সৃষ্টির আশঙ্কা এবং জনহিতকর প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসাখাতের বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি আমলে নিয়ে জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করে তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন।
এর আগে, ২য় আদালত কর্তৃক জারিকৃত গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে গতরাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালে অবৈধভাবে দখল করে রাখা তার ফ্যাল্ট থেকে পুলিশ রিয়াজ হোসেনকে গ্রেফতার করে।
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসা সেবা ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার আড়ালে সংঘবদ্ধ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সুপরিকল্পিতভাবে ভুয়া বিল, জাল হিসাবপত্র, প্রতারণামূলক লেনদেন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন।
এ ঘটনায় খুলশী থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়। উক্ত মামলায় প্রথম চারজন আসামি হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে প্রফেসর ডা. রবিউল হোসেন, মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম খান এবং ডা. কাজী মোহাম্মদ অহিদুল আলম।
আসামিপক্ষ হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করলে হাইকোর্ট নিন্ম আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশ ত্যাগ করা যাবে না মর্মে নির্দেশনা দেন। মামলার গুরুত্ব ও আসামিদের দেশত্যাগের আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়ে গত ১৫ জানুয়ারি ২য় আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনছুর উক্ত চারজন আসামির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং তাদের পাসপোর্ট জব্দের নির্দেশ প্রদানসহ আগামী ধার্য্য তারিখ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালতের এ আদেশকে মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করছেন আইনজ্ঞরা। বাদীপক্ষেক আইনজীবীরা আদালতে জোরালোভাবে যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন, মামলাটি একটি সংঘবদ্ধ আর্থিক অপরাধ, যেখানে রাষ্ট্রীয় ও সাধারণ জনগণের অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় জামিনে মুক্তি পেলে সাক্ষী প্রভাবিত, প্রমাণ নষ্ট এবং তদন্ত প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা আইনের দৃষ্টিতে জামিন অযোগ্য। আদালত রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে মত প্রকাশ করেন যে, অভিযোগের প্রকৃতি আপাতদৃষ্টিতে গুরুতর, অপরাধ সংঘবদ্ধ ও সুপরিকল্পিত এবং আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ নজিরবিহীন। এসব বিবেচনায় আদালত জামিন নামঞ্জুরের আদেশ প্রদান করেন।
আইনজীবীদের মতে, চিকিৎসা খাতে এ ধরনের বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা দেশের স্বাস্থ্যখাত, জনআস্থা ও আইনের শাসনের জন্য মারাত্মক হুমকি। মামলাটি বর্তমানে নিবিড় তদন্তাধীন রয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বাদীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুস সাত্তার, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সেক্রেটারি মুহাম্মদ হাসান আলী চৌধুরী, মানবাধিকার আইনজীবী এডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান, এডভোকেট মোহাম্মদ হাসান আলী, এডভোকেট মোহাম্মদ বদরুল হাসান, এডভোকেট জিয়া উদ্দিন আরমান প্রমুখ।










