দাদার সঙ্গে দোকানে নাস্তা আনতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয় হুজাইফা

| সোমবার , ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৫:৫৫ পূর্বাহ্ণ

টেকনাফের যে শিশুটি গুলিবিদ্ধ হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রআইসিইউতে চিকিৎসাধীন, সে তার দাদার সঙ্গে সকালে দোকান থেকে নাস্তা কিনে আনতে গিয়েছিল। কক্সবাজারের সীমান্ত লাগোয়া এই উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল গ্রামের জসিম উদ্দিনের মেয়ে () হুজাইফা আফনান মিয়ানমার থেকে ছুটে আসা গুলিতে আহত হওয়ার পর প্রথমে মৃত্যুর খবর দিয়েছিল পুলিশ। সে লম্বাবিল হাজি মোহাম্মদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

গতকাল রোববার সকালে গুলিবিদ্ধ শিশুটিকে টেকনাফ থেকে বিকালে চট্টগ্রামে নিয়ে আসেন তার চাচা শওকত আলী। মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, রোববার বিকাল সাড়ে ৪টায় শিশুটিকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে পৌঁছায়। তিনি বলেন, বিকাল পৌনে ৫টায় শিশুটিকে হাসপাতালে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে। খবর বিডিনিউজের।

রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, শিশুর অবস্থা সংকটজনক, তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।

লম্বাবিল গ্রামের তেচ্ছাবিল এলাকায় হুজাইফাদের বাড়ি, সেখানে সীমান্ত লাগোয়া স্থানে প্রায় দুইশ পরিবার বসবাস করে।

শিশুটির চাচা শওকত বলেন, গত তিন দিন ধরে সীমান্তের ওপারে গোলাগুলি হচ্ছিল। আমাদের বাড়ির তিন কিলোমিটার দূরেই মিয়ানমার সীমান্ত। শনিবার রাতভর সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির আওয়াজ শুনি। কিন্তু আজকে সকাল থেকেই গুলির শব্দ বেশি শুনতে পাই। তিনি বলেন, ভোরে অনেক কুয়াশা ছিল। গোলাগুলির এক পর্যায়ে ওইপারের রাখাইন রাজ্যের সীমান্ত এলাকা থেকে আরাকান আর্মির সদস্যরা আরসার সন্ত্রাসীদের গুলি করতে করতে এপারে চলে আসে। বেশি গোলাগুলির কারণে আমরা ভোর থেকে বাচ্চাদের বের হতে দিইনি। আমার বড় ভাইয়ের মেয়ে হুজাইফা তার দাদার সাথে দোকান থেকে নাস্তা কেনার জন্য বের হয়। বাড়ি ফেরার সময় ছুটে আসা গুলি তার শরীরে লাগে। নাস্তা নিয়ে তারা আর ঘরে যেতে পারেনি।

পেশায় মাছ ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের তিন ছেলেমেয়ের মধ্যে হুজাইফা সবার বড়। স্থানীয় হাজি মোহাম্মদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সে।

জসিম উদ্দিনেরা পাঁচ ভাই পরিবার নিয়ে কয়েক পুরুষ ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছেন। তাদের বাড়ির এলাকা ও সীমান্তের মধ্যে তিন কিলোমিটার দূরত্বে স্থানীয় লোকজন মাছের চাষ করে থাকে। ওই এলাকায় ছোট একটি খাল দুই দেশকে বিভক্ত করেছে বলে শওকত বলেছেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের প্রধান হারুনুর রশীদ বলেন, হুজাইফার অবস্থা সংকটাপন্ন। তার মুখের ডান পাশ দিয়ে গুলি লেগেছে। তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধএনসিটির ভাগ্য নির্ধারণ কাল
পরবর্তী নিবন্ধরাখাইনে তীব্র সংঘর্ষ, টেকনাফে শিশু গুলিবিদ্ধ