সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার বন্ধ করতে হবে

প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করা জরুরি

| বৃহস্পতিবার , ৮ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৫:২২ পূর্বাহ্ণ

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপপ্রয়োগ এবং এর ফলে সৃষ্ট বিভাজন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, এআইএর মাধ্যমে সহিংসতা ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা নিয়ন্ত্রণে সরকার বা নির্বাচন কমিশনের কার্যকর কোনো সদিচ্ছা বা উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ৬ জানুয়ারি রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের জন্য মুক্ত আলোচনা: ডিজিটাল অর্থনীতি ও উদ্যোক্তা প্রসঙ্গশীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

সিজিএসের প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবদুল মজিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম জাহিদ, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের স্কুল অব বিজনেসের ডিন এম এ বাকী খলীলী।

জিল্লুর রহমান বলেন, দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ব্যবসাবাণিজ্য, অর্থনীতি, সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা, রাজনীতি, গণতন্ত্রকোনোটার জন্যই কল্যাণকর নয়। মেরুকরণ ও বিভাজনের যে রাজনীতি আমরা এখন সমর্থন করছি, আমি বলব যে, রাষ্ট্র আসলে এটাকে সমর্থন করছেসেখান থেকে আমরা কীভাবে বেরোব, সেটা নিয়ে আমার মধ্যে যথেষ্ট সংশয় আছে। সংকটগুলো যদি মোকাবেলা না করি, তাতে নির্বাচন হয়তো আমরা করতে পারব, তবে মুক্তি মিলবে কি না, সেটা নিয়ে যথেষ্ট সংশয়ের সুযোগ রয়েছে।

. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো অপপ্রচার বিশেষ করে নারী, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের লক্ষ্যবস্তু করছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পরিবর্তন করে সাইবার নিরাপত্তা আইন করা হলেও এর স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। বিশেষ করে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা ও টেলিফোনে আড়িপাতা রোধে এ আইন কতটুকু কার্যকর, সে সম্পর্কে জনগণ অন্ধকারে রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো যদি তাদের ইশতেহারে ডিজিটাল সুরক্ষা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার না করে এবং কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে ২০২৪ সালের আগস্টের মতো আবার দেশ ছেড়ে পালানোর মতো ঘটনা ঘটতে পারে। প্রযুক্তির ইতিবাচক দিক তুলে ধরে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতির প্রসারের মাধ্যমেই দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং রাষ্ট্রীয় দক্ষতা বৃদ্ধি সম্ভব। সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং সেবামূলক লেনদেনে ডিজিটাল মাধ্যম এরই মধ্যে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এই ব্যবস্থার আরও আধুনিকায়ন ও সমপ্রসারণ প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে আমাদের দেশের অনেকেরই ধারণা নেই। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বলা যায় আমাদের দেশে এই মাধ্যমটির সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না। একেবারেই ভুল ও বেঠিকভাবে এই মাধ্যমের ব্যবহার হচ্ছে। অপব্যবহার ও অপপ্রচার বন্ধের জন্য সবার আগে আমাদের প্রয়োজন বিবেকবান হওয়া, সচেতন হওয়া। যে মাধ্যমগুলো আমরা ব্যবহার করছি সে মাধ্যমগুলোর প্রয়োগবিধিনিষেধ ও দেশের প্রচলিত আইনকানুন সম্পর্কে জেনে ব্যবহার করা। কেবলমাত্র আইন প্রয়োগ করে এর অপপ্রচার ও অপব্যবহার বন্ধ করা সম্ভব নয়। আমাদের নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ, বিবেক ও সচেতনতাই পারে এ সমস্যার সমাধান দিতে। উন্নত বিশ্বের অনুসরণ করা যেতেই পারে। কিন্তু অনুসরণ করার আগে সবসময় মনে রাখতে হবে আমাদের সামাজিক, ধর্মীয় অবস্থান। যেহেতু উন্নত দেশগুলোতেও এসকল মাধ্যমের অপব্যবহার হচ্ছে তাই কোনো দেশকে অনুসরণ করার পূর্বে নিজের দেশের প্রেক্ষাপটের ওপর নির্ভর করে অনুসরণ করা যেতে পারে। এমন না হয় যে, অনুসরণের ফলে আমাদের ভালোর চেয়ে খারাপ বেশি হয়।

অনেকে অভিযোগ করেছেন, পূর্বের তুলনায় বর্তমানে কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা নেই বললেই চলে। কোনো তথ্য প্রচারের সঙ্গে সঙ্গে তার সত্যতা কতটা তা জানা সম্ভব নয়। এর জন্য দুইতিন দিন সময় লেগে যায়। তাই হুট করে কোনো তথ্য বন্ধ করা যায় না। তবে কর্তৃপক্ষ যদি এখন থেকে সচেতন হন, তাহলে কিছুটা লাভবান হওয়া যাবে বলে তাঁরা মনে বরেন। এই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুৎসা রটানো, অপপ্রচার বা বিরুদ্ধাচারণ করা বন্ধ করতে হবে। প্রযুক্তি দিয়ে প্রযুক্তির এই অপব্যবহার রোধ করতে হবে। সর্বোপরি এজন্য নিজ নিজ অবস্থান থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং মিথ্যা, বানোয়াট ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এমন তথ্য প্রচার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ৭৮৬
পরবর্তী নিবন্ধএই দিনে