ফটিকছড়িতে পরিবেশ আইন অমান্য করে রাতের আঁধারে কৃষিজমির টপসয়েল কেটে যেন পুকুর বানানো হচ্ছে। এসব মাটি সরবরাহ করা হচ্ছে ইটভাটায়। এতে যেমন জমির ঊর্বরতা নষ্ট হচ্ছে তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্যও। এমনকি জমির মালিককে না জানিয়ে জমির টপসয়েল কাটা হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টরা বারবার প্রশাসনকে এসব অভিযোগ দেয়ার পরও এ অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছে না।
টানা কয়েকমাস ধরে শতাধিক ট্রাক সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত কৃষি জমির টপসয়েল বহন করে চলাচল করছে। মাটি বোঝাই ট্রাক চলাচলের কারণে উপজেলার পাইন্দং, কাঞ্চননগর, বাগানবাজার, নারায়ণহাট, দাঁতমারা, ভূজপুর, হারুয়ালছড়ি, খিরাম, সমিতিরহাটের বেশিরভাগ সড়কে ছোট–বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। ধুলাবালিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন।
সরেজমিনে উপজেলার পাইন্দং ইউপির যুগিনিঘাটা ব্রিজের পূর্ব পাশে গিয়ে দেখা যায়, কয়েক একর কৃষি জমির মাটি কেটে বিক্রি করছে একটি চক্র। মাসের পর মাস রাতের আঁধারে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে ভূমিদস্যু ও মাটি ব্যবসায়ীরা। এমনভাবে মাটি কাটা হচ্ছে এসব কৃষি জমি এখন পুকুরে রূপ নিয়েছে। ভারী ট্রাক দিয়ে মাটি বহন করায় অন্যান্য জমি নষ্ট হচ্ছে এবং গ্রামের রাস্তা বিভিন্ন জায়গায় ভেঙে দেবে গেছে। এসব জমিতে প্রতি বছর ধান আবাদ করেন কৃষকরা। এমনকি চলতি বছরে ফলানো হয়েছিল ফসল। ভেকু মেশিন দিয়ে ডাম্প ট্রাক ভর্তি করে ফসলি জমির মাটি ইটভাটায় নেয়া হচ্ছে। এতে জমির ঊর্বরতা শক্তি কমতে শুরু করছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত চলাচল করে মাটিভর্তি অর্ধ শতাধিক ট্রাক। এতে ভোগান্তিতে পড়ছে এপথে যাতায়াতকারী যানবাহন ও পথচারীরা। প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় মাটি ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়ে চলেছে।
এদিকে, ২৪ ডিসেম্বর পাইন্দং ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি এরশাদ উল্লাহ তার ফেসবুকে লিখেছেন– ‘ কার হাত লম্বা? মাটি ব্যবসায়ী নাকি প্রশাসনের? পাইন্দংয়ে রাত নামলেই চলে ভ্যাকু আর ড্রাম ট্রাকের নগ্ন উল্লাস, মাটিতো আর চিল্লাইতে পারে না, করে নিরব কান্না…’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক বলেন, স্থানীয় প্রভাবশালী কোম্পানিরাই এসব মাটি কাটছে। তাদের ব্যাপারে বললে আমরা এলাকা ছাড়া হতে হবে। আমাদের কৃষি জমির উপর দিয়ে এসব মাটি বহন করছে ভয়ে কিছু বলতেও পারি না।
স্থানীয় মোহাম্মদ জসিম বলেন, ‘আমাদের না জানিয়ে আমাদের পরিবারের জমি থেকে টপসয়েল কেটে যেন পুকুর বানানো হয়েছে জমিটি। শুধু আমাদের না পুরো পাইন্দং–এ এভাবেই টপসয়েল কাটা হচ্ছে। প্রশাসন দ্রুত এ ব্যাপারে ব্যবস্থা না নিলে আমরা এলাকায় বসবাসও করতে পারবো না।’ বিষয়টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে জানালে তিনি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান।











