আমরা বসন্ত সময়টাকেই বেছে নিয়েছিলাম, অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণে। অর্থাৎ এই নভেম্বর মাসেই আমরা ওখানে যাই। ১৫ দিনের সফরে প্রথম ছিলো মেলবোর্ন শহর, কেয়ার্ন্স, এবং সবশেষে সিডনি। মেলবোর্ন এবং কেয়ার্ন্স শহরে যতটুকু পেরেছি উপভোগ করেছি। সিডনি শহরে এসে আনন্দে মনটা নেচে উঠে। এটা তো আমার সেই কাঙ্ক্ষিত জ্যাকারান্ডা ফুলের শহর।
রাতে হোটেলে এসে উঠি। পরেরদিন ফ্রেশ হয়ে ব্রেকফাস্ট করে বেরুতেই চোখে পড়ে, খুব কাছেই রাস্তার উপর একটা জ্যাকারান্ডা গাছে নীলচে বেগুনি ফুল হাওয়ায় দুলছে আর নীচেও ফুল ঝরে ঝরে পড়ছে। আহা! আমি সেখানে দৌড়ে চলে যাই…ছবি তুলি, ভিডিও করি। হৃদয়টাও বেগুনি ফুলের মতো আন্দোলিত। এর পর প্রধান শহরে এবং শহরের বাইরে অনেক জায়গাতেই জ্যাকারান্ডা গাছ দেখেছি। জ্যাকারান্ডা গাছটি বেশ বড়োসড়ো হয়, অনেকটা আমাদের দেশের কৃষ্ণচূড়া গাছের মতো। কিন্ত ফুলগুলোকে আমার জারুল ফুলের মতো লাগছে। অনেকে এই ফুলকে নীল কৃষ্ণচূড়া বলে। বসন্তে গাছের সব পাতা ঝরে যায় আর নীলচে বেগুনি ফুল ফুটতে শুরু করে। পুরো গাছ নীলচে বেগুনি ফুলে আলোকিত হয়ে যায়। অক্টোবর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এমনই চলে। খালাম্মা সিডনি অলিম্পিক পার্কে নিয়ে যায়। কী অপূর্ব! বেশ কয়েকটি জ্যাকারান্ডা গাছ বেগুনি ফুলে ভরা হাওয়ায় দুলছে আর বহু ফুল আনন্দে মাটিতে গড়াগড়ি যাচ্ছে। কি যে ভালো লাগছে!
যেদিন রাতে বাংলাদেশের ফ্লাইট ছিলো, সকালে এক ভাগ্নে এসে নিয়ে গেলো সেই বিখ্যাত জায়গায়… যেখানে জ্যাকারান্ডা গাছ সারি সারি দু পাশে দাঁড়িয়ে আছে। জায়গাটার নাম কিরিবিলি (Kirribilli, Suburb, Australia)
আকাশটা মেঘলা, দু/ এক ফোঁটা বৃষ্টিও ঝরছে। তবুও ভিডিও এবং ছবি তুলতে কার্পণ্য করিনি আর প্রাণভরে জ্যাকারান্ডা ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করেছি।











