চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে চলাচলরত চারটি আন্তঃনগরসহ পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে চলাচলরত ১০টি আন্তঃনগর ট্রেনে ক্যাটারিং সার্ভিস (খাবার সরবরাহ) পরিচালনায় নতুন ঠিকাদার নিয়োগে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছিল। কিন্তু মামলার কারণে ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে আছে। অভিযোগ উঠেছে, পুরনো সিন্ডিকেটগুলো মামলার মাধ্যমে টেন্ডার প্রক্রিয়া আটকে দিয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের যুগ্ম মহাপরিচালক (অপারেশন) শহিদুল ইসলাম গত ১৬ অক্টোবর রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম–কক্সবাজার, ঢাকা–কক্সবাজার রুটে চলাচলরত আন্তঃনগর সৈকত ও প্রবাল এবং ঢাকা–চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটের কক্সবাজার ও পর্যটক এক্সপ্রেসসহ ১০টি আন্তঃনগর ট্রেনে আগামী ৩ বছর যাত্রীদের মাঝে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার সরবরাহের লক্ষ্যে ক্যাটারিং সার্ভিস পরিচালনায় নতুন ঠিকাদার নিয়োগের দরপত্র আহ্বান করেন।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বাণিজ্যিক বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ক্যাটারিং সার্ভিস পরিচালনায় নতুন ঠিকাদার নিয়োগ কার্যক্রম গত পাঁচ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। ১৬টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টেন্ডার ছাড়াই বছরের পর বছর পূর্বাঞ্চলের ২৬টি ট্রেনে ক্যাটারিং সার্ভিস পরিচালনা করে আসছে। ২০২০ সালের বিভিন্ন সময়ে ক্যাটারিং সার্ভিসে দায়িত্ব পাওয়া এসব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ শেষ হয়। নতুন করে ঠিকাদার নিয়োগের জন্য রেলভবন থেকে দরপত্র আহ্বান করা হলেও মামলার মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়া আটকে দেওয়া হয়।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক মোঃ শওকত জামিল মোহসী আজাদীকে বলেন, ট্রেনে ক্যাটারিং সার্ভিসের টেন্ডার প্রক্রিয়াটি রেলভবন থেকে পরিচালনা হয়। পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে চলাচলরত ১০টি আন্তঃনগর ট্রেনে নতুন করে ক্যাটারিং সার্ভিস পরিচালনার জন্য ঠিকাদার নিয়োগে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছিল। মামলার কারণে বর্তমানে টেন্ডার প্রক্রিয়া আটকে আছে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বাণিজ্যিক বিভাগ থেকে জানা গেছে, ২০২৩ সালে নতুন করে ক্যাটারিং সার্ভিস পরিচালনার জন্য ঠিকাদার নিয়োগ ও নবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হলে নতুন এবং পুরনো মিলে ৪৫টি প্রতিষ্ঠান আবেদন ফরম সংগ্রহ করেছিল। সেগুলোর মধ্যে ৪২টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো ৫০ হাজার টাকা অফেরতযোগ্য অর্থ জমা দিয়েছিল। যাচাই বাছাই শেষে ৩৭টি ক্যাটারিং সার্ভিস পরিচালনার জন্য যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। আবেদনকারী পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বাদ পড়ে। ওই পাঁচ প্রতিষ্ঠান থেকে একটি প্রতিষ্ঠান হাই কোর্টে রিট মামলা দায়ের করে।
গত অক্টোবরে রেল ভবন থেকে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে চলাচলরত চট্টগ্রাম–কঙবাজার, ঢাকা–চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে চলাচলরত আন্তঃনগর সৈকত এঙপ্রেস, প্রবাল এক্সপ্রেস, ঢাকা–চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে চলাচলরত কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেসসহ ১০টি ট্রেনে নতুন করে ক্যাটারিং সার্ভিস পরিচালনায় নতুন ঠিকাদার নিয়োগে টেন্ডার আহ্বান করে। অন্য ট্রেনগুলো হলো ঢাকা–চিলাহাটি রুটে চলাচলরত চিলাহাটি এঙপ্রেস, ঢাকা–পঞ্চগড় রুটে চলাচলরত পঞ্চগড় এঙপ্রেস, ঢাকা–কুড়িগ্রাম–ঢাকা রুটে চলাচলরত কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস, ঢাকা–বেনাপোল–ঢাকা রুটে চলাচলরত বেনাপোল এঙপ্রেস, ঢাকা–বেনাপোল–ঢাকা রুটে চলাচলরত রুপসী বাংলা এঙপ্রেস ট্রেন।
মামলা প্রসঙ্গে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের আইন কর্মকর্তা মো. আল মাহমুদ বলেন, পূর্বাঞ্চলে বিভিন্ন অভিযোগে কমপক্ষে এক হাজার ৪শটি মামলা রয়েছে। এসব মামলা পরিচালনা করা হচ্ছে আইন দফতর থেকে। এর মধ্যে ক্যাটারিং সার্ভিস পরিচালনা নিয়ে করা মামলাটিও আমরা পরিচালনা করছি।












