শেখ হাসিনার আমল মানে গুম–খুন–হরিলোট, পদে পদে মৃত্যু, ক্রসফায়ারে হত্যা উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, মঈন উদ্দিন–ফখরুদ্দিনের হুমকি, হাসিনার শত ষড়যন্ত্র এবং রক্তচক্ষু দেখেও দেশ ও জনগণকে ছেড়ে যাননি বেগম খালেদা জিয়া। কারাগারে নির্যাতন এবং খাবারে বিষ প্রয়োগ করেও তাকে দেশের মানুষের থেকে আলাদা করা যায়নি। হাসিনা তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে সব ধরনের চেষ্টাই চালিয়েছেন।
গতকাল শনিবার সকাল ১১টার দিকে হাটহাজারী পৌরসভার মীরেরখীল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তারেক রহমান–এর পৃষ্ঠপোষকতায় চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদ ৭ পরিবার ও ৫ আহত পরিবার এবং অসহায় হাফেজ আবু বকর সায়েমের (১২) চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা তুলে ধরে রিজভী বলেন, গতকাল থেকে আমরা শুনছি তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। আমাদের এই নেত্রী, যিনি গণতন্ত্রের নিরাপত্তা, স্বাধীনতার নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্বের নিরাপত্তা ও জনগণের সব অধিকারের নিরাপত্তা। এই নেত্রী দেশকে ছেড়ে, দেশের জনগণকে ছেড়ে কোনোদিন যাননি। মঈনুদ্দিন–ফখরুদ্দিনের হুমকি, হাসিনার ষড়যন্ত্রের পরও নিজের দেশের মাটি কামড়ে তিনি এখানে থেকেছেন, আল্লাহ যেন তাঁকে সুস্থ করেন, এই দোয়া আপনারা করবেন। তিনি বলেন, আমরা টেলিভিশনে দেখলাম হাঁটতে হাঁটতে কারাগারের মধ্যে গেলেন তিনি (খালেদা জিয়া)। কি নির্মম নিষ্ঠুরতায় মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে নিয়ে গেলো তারপরও তাকে টলানো যায়নি। কিন্তু শেখ হাসিনা তাকে তারপরও ছাড়েনি। কারণ এ দেশটাকে তার (হাসিনা) পৈতৃক সম্পত্তি মনে করত; ব্যক্তিগত ব্যবহারের সম্পদ মনে করত; জনগণের টাকাকে নিজের টাকা মনে করত। রিজভী বলেন, সে (শেখ হাসিনা) মনে করেছে, তার পথের কাঁটা বোধহয় বেগম খালেদা জিয়া। তাই পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য যত ধরনের চক্রান্ত করা দরকার, সে সেটা করেছে। হেঁটে হেঁটে কারাগারের ভেতর গেলেন ফিরে আসলেন হুইল চেয়ারে, দিনের পর দিন তাকে হাসপাতালে কাটাতে হচ্ছে। শেখ হাসিনা কোনো নিয়ম–কানুন, আইন তোয়াক্কা করেননি। সুধাসদন তার বাড়ি, তারপরও তার ছেলের নামে, মেয়ের নামে, ভাগিনার নামে, ভাগ্নির নামে, আত্মীয়স্বজনের নামে ৬০ কাঠা জায়গা নিয়েছেন।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে গুণী মানুষ অভিহিত করে তিনি বলেন, সবাই তাকে সম্মান করে। তিনি নিজের দেশের জন্য সম্মান বয়ে এনেছেন। তার প্রতি সবারই আস্থা রয়েছে। কিন্তু তাকে এসব বিষয়ও দেখতে হবে; দেশের মানুষ যেন শান্তির সঙ্গে নিরাপত্তার সঙ্গে তার সন্তান বাইরে গেলে বা বাড়ির লোক বাইরে গেলে পরে নিরাপদে ফিরতে পারে– এ নিরাপত্তাটুকু মুহাম্মদ ইউনূস সাহেবকে নিশ্চিত করতে হবে।
এসময় তিনি চট্টগ্রাম–৫ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের প্রশংসা করে বলেন, মীর হেলাল দলের দুঃসময়ে শত বাধা–বিপত্তি মোকাবেলা করে অবিরাম গতিতে কাজ করে গেছেন। হাসিনার আমল মানে পদে পদে বিপদ। যেকোনো সময় ক্রসফায়ারের আক্রান্ত হয়ে যেতে হবে, যেকোনো সময় খুন, গুম হয়ে যেতে হবে। আর সে বিপদ মোকাবেলা করে কাজ করে গিয়েছেন ব্যারিস্টার মীর হেলাল।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ–সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর হেলাল, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’–এর উপদেষ্টা আবুল কাশেম, সংগঠনটির সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য জাহিদুল ইসলাম রনি, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ এর সদস্য মাসুদ রানা লিটন, বুয়েট ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিফ ও রাশেদুজ্জামান পিয়াস, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ, সদস্য সচিব গিয়াস উদ্দিন চেয়ারম্যান, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন, সদস্য সচিব মো. অহিদুল আলম ও এম এ শুক্কুর।












