জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের পরের রাউন্ডে উন্নীত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা দল। গতকাল বুধবার অ্যাওয়ে ম্যাচে স্বাগতিক নোয়াখালী জেলা দলের সাথে ১–১ গোলে ড্র করে পরের রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছে চট্টগ্রাম। নিজেদের মাঠে নোয়াখালীর বিপক্ষে ১–০ গোলে জয় পাওয়ায় এগিয়ে ছিল চট্টগ্রাম। প্রতিপক্ষের মাঠে ড্র করলেই চলতো চট্টগ্রামের। গতকাল নোয়াখালীর শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামে সেটাই করল চট্টগ্রাম। যদিও প্রথমে গোল করে এগিয়ে গিয়েছিল চট্টগ্রাম। কিন্ত দুই মিনিটের ব্যবধানে খেলায় সমতা ফেরায় নোয়াখালী। দুটি গোলই হয়েছে খেলা শেষের অতিরিক্ত সময়ে। দুই লেগ মিলে ৪ পয়েন্ট নিয়ে পরের রাউন্ডে খেলবে চট্টগ্রাম জেলা দল। নোয়াখালীর ভুলু স্টেডিয়ামের মাঠ ছিল বলতে গেলে খেলার একেবারে অনুপযুক্ত। তার উপর প্রতিপক্ষের ছিল শক্তি প্রদর্শনের প্রবণতা। তারপরও ম্যাচের প্রথমার্ধে একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রেখে ৫ মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারতো চট্টগ্রাম। ডানপ্রান্ত থেকে ভেসে আসা ক্রসে হেড নিয়েছিলেন জাহেদুল। কিন্তু বল চলে যায় বাইরে। ৩৬ মিনিটে ডি বক্সের বাইরে থেকে দিদারুল যে শট নিয়েছিলেন তা চলে যায় ক্রসবার ঘেঁষে। তবে চট্টগ্রাম সবচাইতে সহজ সুযোগটি হারিয়েছে ৪৩ মিনিটে। বাম প্রান্ত থেকে ভেসে আসা ক্রসে একেবারে ফাঁকা পোস্ট সত্ত্বেও বলে মাথা লাগাতে পারেনি চট্টগ্রামের একাধিক খেলোয়াড়। দ্বিতীয়ার্ধে স্বাগতিক নোয়াখালী চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করে। কিন্তু চট্টগ্রামের রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় গোলের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারছিল না। খেলায় উত্তাপ ছড়ায় দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা ৬ মিনিটে। প্রতিপক্ষের একের পর এক আক্রমণ প্রতিহত করে কাউন্টার অ্যাটক থেকে গোল করে চট্টগ্রামকে এগিয়ে দেন জাহেদুল (১–০)। কিন্তু সে গোল দুই মিনিটও ধরে রাখতে পারেনি চট্টগ্রাম দল। পাল্টা আক্রমণ থেকে গোল পরিশোধ করে নোয়াখালী (১–১)। কিন্ত বাকি সময়ে আর গোল করা সম্ভব হয়নি। ফলে ড্র করে হতাশ হতে হয় নোয়াখালীকে। আর চট্টগ্রাম চলে যায় পরের রাউন্ডে। চট্টগ্রামের শাহীন আলম ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন চট্টগ্রাম জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি শহীদুল ইসলাম। এর আগে প্রধান অতিথি হিসেবে ম্যাচের উদ্বোধন করেন নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক খন্দকার ইশতিয়াক আহমেদ। গতকালের ম্যাচে চট্টগ্রামের খেলোয়াড়দের উৎসাহ যোগাতে নোয়াখালী এসেছিলেন চট্টগ্রাম জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি শহীদুল ইসলাম, সিডিএফএ নির্বাহী সদস্য মাহমুদুর রহমান মাহবুব, জসিম আহমেদ, হারুন অর রশিদ, আবু সৈয়দ মাহমুদ, কাজি জসিম উদ্দিন, জাফর ইকবাল,যুগ্ম সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত চৌধুরী পাবলু, সালাউদ্দিন জাহেদ, সিজেকেএস কাউন্সিলর রায়হান উদ্দিন রুবেল, প্রসেনজিত দত্ত রাজু, সাবেক জাতীয় ফৃটবলার আরিফুল কবির ফরহাদ সহ অনেক সাবেক ফুটবলার। অন্তত একটা স্বস্তি তারা ফিরেছে নোয়াখালী থেকে। এদিকে দলের এই সাফল্যের কৃতিত্ব দলের ফুটবলারদের দিলেন ম্যানেজার সরওয়ার আলম চৌধুরী মনি। দলের সহকারী ম্যানেজার ফারুখ আহমেদ এবং কোচ সহ সবাই সন্তুষ্ট দলের এই পারফরম্যান্সে। এখন সামনের পর্বগুলোতে আরো ভালো খেলার প্রত্যয় চট্টগ্রাম জেলা দলের।












