খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে হাতির পাল, আতঙ্ক

কল্যাণ বড়ুয়া, বাঁশখালী | রবিবার , ৩১ আগস্ট, ২০২৫ at ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ

দক্ষিণ চট্টগ্রামের চুনতি অভয়ারণ্যের জলদী রেঞ্জ এলাকার জলদী, চাম্বল, নাপোড়া ও পুঁইছড়ি এলাকায় খাদ্যের সন্ধানে ঘুরে বেড়াচ্ছে একপাল হাতি। চলতি মাসে হাতির পালটি বিভিন্ন স্থানে ঘুরে খাদ্য সংগ্রহ করলেও বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়নি। তবে আতঙ্কে রয়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা। অপরদিকে কালীপুর রেঞ্জের পুকুরিয়া, সাধনপুর কালীপুর পাহাড়ি এলাকায় কোথাও না কোথাও হাতির পাল দল বেঁধে ঘুরে চলে। এতে ফসলের ক্ষতি, বাড়িঘর তছনছসহ নানাবিধ ঘটনা সংঘটিত হয়ে আসছে। হাতির অভয়ারণ্যে জনবসতি স্থাপন, নানা কৌশলে হাতি নিধন, হাতি মেরে দাঁত, শুঁড়সহ নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিক্রির ঘটনা ঘটে চলেছে। এসব রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে পরিবেশ বিপর্যয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে অভিমত পরিবেশবিদ ও পরিবেশবাদীদের।

স্থানীয় ও বন বিভাগ সুত্রে জানা যায়, কালীপুর রেঞ্জের অধীনে পাহাড়ি কালীপুর, সাধনপুর, পুকুরিয়া এলাকায় এবং জলদী রেঞ্জের আওতায় জলদী, চাম্বল, নাপোড়া, পুঁইছড়ি বনবিট এলাকায় ২০টির অধিক হাতির মৃত্যু হয়েছে। মানবসৃষ্ট বিদ্যুতের ফাঁদ, খাদ্যে বিষক্রিয়া, অসুস্থতাসহ নানা কারণে এসব হাতির মৃত্যু হয়েছে। বনের অভ্যান্তরে যারা অবৈধভাবে বসবাস কিংবা পাহাড় ও মাটি কেটে সাবাড় করে তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। চাম্বল এলাকার পাহাড়ে চাষাবাদকারী আবুল কালাম বলেন, বিগত কিছুদিন যাবত চাম্বল ও জলদীর পাহাড়ি এলাকায় একপাল হাতি ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা চোখের সামনে কলা গাছসহ গাছপালা যা পাচ্ছে তা খাবার হিসাবে গ্রহণ করছে।

চুনতি অভয়ারণ্য রেঞ্জের জলদী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের রেঞ্জের অভ্যন্তরে বিশাল এলাকাজুড়ে রয়েছে বাঁশখালী ইকোপার্ক। সে পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইসরাঈল হক বলেন, বিগত কিছুদিন যাবত ইকোপার্কের আশপাশের এলাকায় কয়েকটি হাতি দল বেঁধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাতে জনগণ শংকিত হলেও তেমন কোনো ক্ষতি তারা করছে না। খাবার (কলাগাছ, কাঁঠাল গাছ) খেয়ে তারা পাহাড়ে ফিরে যাচ্ছে।

জলদী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ বলেন, হাতিকে সুরক্ষা করা বন বিভাগের নিয়মিত দায়িত্ব। বর্তমান সরকার হাতির আবাসস্থল নিরাপদ করা, খাদ্য বৃদ্ধি করা, বনাঞ্চলের ভিতর জলাধার তৈরি করা, হাতির করিডোরগুলো বাধামুক্ত করা, জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম বাস্তবায়নে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, হাতিকে নিরাপদে পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যেতে পাঁচটি এলিফ্যান্ট রেসকিউ টিম গঠন করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছেপাহাড়ে জনবসতি ও খাদ্যোভাব হওয়াতে হাতির পালগুলো বাধ্য হয়ে লোকালয়ে চলে আসছে। পাহাড়ি হাতি পাহাড়ে থাকা নিশ্চিত করতে কলাগাছসহ হাতি খেতে পারে এ ধরনের গাছ রোপণ ও জলাদার করা প্রয়োজন বলে তিনি জানান।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকৌতুক কণিকা
পরবর্তী নিবন্ধগন্ডামারায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু