প্রকৃতিতে এসেছে শরৎ। নীল আকাশে সারাদিন সাদা মেঘের ভেসে বেড়ানো দেখতে কার না ভালো লাগে। নদীর তীরে কাশফুলের দোল জানিয়ে দেয় মা দুর্গার আগমনী বার্তা। রূপের রানি শরৎ যেনো তার রূপের সবটুকু মোহনীয়তা নিয়ে চলে আসে প্রকৃতির বুকে। শরৎ কালে ঝকঝকে রোদের সাথে সাদা মেঘের লুকোচুরি খেলা যেনো চলতেই থাকে। এমন দিনে মনের মাঝে অন্যরকম এক শিহরণ জাগে। দূর থেকে যেনো ভেসে আসে প্রিয় সেই গান বাজলো তোমার আলোর বেণু। হিন্দু সমপ্রদায়ের লোকজন অপেক্ষায় থাকে মা দুর্গাকে বরণের। শরৎকালে কাশফুলের অপরূপ সৌন্দর্যে ভরে ওঠে নদীর দু’ধার। হাটুরেরা দলে, দলে চলে গাঁয়ের মেঠো পথ ধরে হাঁটে, সওদা করতে। তালের পিঠার সুঘ্রাণে গাঁয়ের ঘরবাড়ি মৌ, মৌ করে। প্রায় কম বেশি সব বাড়িতে কাঁঠাল পাতায় তৈরি করা হয় তালের পিঠা। তালের মালপোয়া পিঠাও বেশ জনপ্রিয় হয়। গুণী কবি, সাহিত্যিকরা, তাদের কবিতা, ছড়া ও গল্পে শরৎকে তুলে আনে অসাধারণ ভাবে। আমাদের বাঙালি সংস্কৃতিতে শরৎ ঋতু এক অনন্য রূপে আছে। প্রতিবছর শরৎ ঋতুকে নিয়ে চলে কবিতা পাঠের আয়োজন। তাছাড়া ফ্যাশন সচেতন পুরুষ ও রমণীরা তাদের শাড়ি ও পাঞ্জাবিতে শরৎ ঋতুকে তুলে আনে তুলির আঁচড়ে। শরৎ কালে শিউলি ও কামিনী ফুলের গন্ধে গাঁয়ের বাড়িগুলো ভরে ওঠে। গাছের নিচ থেকে ফুল কুড়িয়ে কেউবা মালা গাঁথে। কেউবা শিউলি ফুলের মালা গলায় দিয়ে সৌন্দর্য উপভোগ করে। ঠাকুরের পুজোর থালাতেও শিউলি ফুল সাজিয়ে দেয়। শরৎ কালেই পুজোর যতো আয়োজন। কেনাকাটা, পুজোর নানা উপকরণ, খাওয়া দাওয়ার প্রস্তুতি ঠাকুরের মূর্তি তৈরি, মণ্ডপ তৈরির আগাম মানসিকতা সবার মধ্যে হই হই উৎসবের আমেজ আনে। শরৎকালে সবুজ প্রকৃতি আরও অপরূপ হয়। সাদা মেঘগুলো দেখতে মনে হয় শিমুল তুলোর মতো। এই সময় গাঁয়ের পথে হাঁটতে বেশ ভালো লাগে। শিশু, কিশোররা নানা খেলায় অংশ নিয়ে গ্রামের চিরাচরিত নিয়মকে যেনো জানিয়ে দেয়। কবি তাইতো বলেছেন, ‘আজিকে তোমার মধুর মুরতি হেরিনু শারদ প্রভাতে’। শরৎ আসে গান, কবিতায়, পত্রিকার পাতায় ও প্রকৃতিতে। শরৎ আসে নদীর তীরে কাশফুলের দোলে ও নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলায়। তাই সবার প্রাণে প্রাণে ছড়িয়ে যাক শরতের অনন্য রূপ।