কর ফাঁকি ঠেকাতে জোরালো গোয়েন্দা তৎপরতা চান এনবিআর চেয়ারম্যান

| শনিবার , ৩০ আগস্ট, ২০২৫ at ৬:১৬ পূর্বাহ্ণ

রাজস্ব আদায় বাড়াতে প্রতিটি কর অঞ্চলকে গোয়েন্দা কার্যক্রম বাড়িয়ে কর ফাঁকি খুঁজে বের করার ওপর জোর দিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডএনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। এছাড়া কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) থাকা স্বত্ত্বেও যেসকল করদাতা আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন না তাদের সকলকে রিটার্ন দাখিলের জন্য নোটিস দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার জুলাই মাসের রাজস্ব আহরণ অগ্রগতি ও পর্যালোচনা সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান এসব বিষয়সহ আরও বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছেন বলে সংস্থার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

তিনি বলেছেন, টিআইএনধারী যারা রিটার্ন জমা দেন না তাদের আয়, ব্যয় ও সম্পদের তথ্য সরেজমিনে তদন্ত করে, আইন অনুযায়ী আয়কর আরোপ করে তা আদায় করতে আয়কর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। এ বিষয়ে প্রতি মাসের রাজস্ব সভায় তথ্যউপাত্ত উপস্থাপনের জন্যও চেয়ারম্যান নির্দেশ দিয়েছেন। খবর বিডিনিউজের।

এছাড়া দাখিল করা আয়কর রিটার্ন আয়কর আইনের বিধান অনুসারে তৈরি করার মাধ্যমে কর আদায় কার্যক্রম বাড়ানোর নির্দেশনাও এসেছে সভায়। এনবিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কর কমিশনারদের কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সকল মনিটরিং সদস্যকে প্রতিসপ্তাহে একজন কমিশনারের সাথে সভা করে ননফাইলারদের বিরুদ্ধে গৃহীত কার্যক্রম পৃথক ব্রিফিং সেশনের মাধ্যমে রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানকে অবহিত করার জন্য সভায় সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

রাজস্ব ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় কাস্টমস ও ভ্যাট এবং আয়কর অনুবিভাগের ২০২৫২০২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসের রাজস্ব আহরণ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। সভায় সভাপতির বক্তব্যে আবদুর রহমান বলেন, সন্দেহের বশে পণ্যের চালান আটকে সৎ আমদানিরপ্তানিকারকদের কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না। আমাদের মূল ফোকাস হতে হবে সহযোগিতামূলক বাণিজ্যিক পরিবেশ নিশ্চিত করে বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে কাক্সিক্ষত পরিমাণ রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা। সন্দেহের বশবর্তী হয়ে আমদানি বা রপ্তানিকারকের চালান আটক না করে অ্যাসাইকুডা সিস্টেমে রক্ষিত অতীত রেকর্ডের ভিত্তিতে রাজস্ব ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, কী কারণ চালান আটক করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিটি কার্যক্রম হতে কী পরিমাণ অতিরিক্ত কর আদায় হয়েছে, প্রতি মাসের রাজস্ব সভায় এই বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে।

মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করে আইনানুগভাবে প্রযোজ্য কর আদায় করার ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি এনবিআর চেয়ারম্যান কর্মকর্তাদের আদায়ের প্রবৃদ্ধির ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, যারা সৎভাবে নিয়মকানুন মেনে ভ্যাট দেন তাদের ওপর অহেতুক বাড়তি চাপ প্রয়োগ করা সমীচীন নয়। যারা মোটেও ভ্যাট পরিশোধ করেন না তাদের ভ্যাট নেটে আনার কথা বলেছেন তিনি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধভোটের পথে যেন কাঁটা না বিছাই : সালাহউদ্দিন
পরবর্তী নিবন্ধযদি নির্বাচন না হয়, তাহলে জাতি প্রচণ্ড রকমের ক্ষতিগ্রস্ত হবে : ফখরুল