মাত্র ৪ জোড়া ট্রেনে এক বছরে আয় শত কোটি টাকা

লাভজনক রুট কক্সবাজার রেলপথ

আজাদী প্রতিবেদন | শনিবার , ৩০ আগস্ট, ২০২৫ at ৫:৫৬ পূর্বাহ্ণ

ট্রেন চালুর পর থেকে ঢাকাচট্টগ্রামকক্সবাজার রুট একদিকে যাত্রীদের কাছে যেমন জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে তেমনি খুবই লাভজনক রুটে পরিণত হয়েছে। কক্সবাজার রুটে চলাচলরত ট্রেনগুলোর (চার জোড়া) চাহিদা দেশের অন্যান্য রুটে চলাচলরত ট্রেনের চেয়ে অনেক বেশি। আয়ও অন্যান্য রুটের চেয়ে বেশি। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বাণিজ্যিক বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, কক্সবাজার রুটে চলাচলরত চার জোড়া ট্রেন থেকে গত অর্থবছরে (গত বছরের ১ জুলাই থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত) আয় হয়েছে শত কোটি টাকার কাছাকাছি।

রেলওয়ের বিদায়ী অর্থবছরে আয়ের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় হয়েছে ঢাকাকক্সবাজার রুটে চলাচলরত দুই জোড়া ট্রেন থেকে। দেশের বৃহত্তম সমুদ্র সৈকতের পর্যটন শহর কক্সবাজারে প্রতিদিন বেড়াতে যান হাজার হাজার পর্যটক। গত ১২ মাসে ঢাকাকক্সবাজার রেলপথে চলাচলরত দুই জোড়া ট্রেন থেকে আয় হয়েছে ৮৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে কক্সবাজার এক্সপ্রেস থেকে ৪৭ কোটি ৫২ লাখ এবং পর্যটক এক্সপ্রেস থেকে ৩৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এসব ট্রেনে করে কক্সবাজারে আসাযাওয়া করেছেন ১০ লাখ ২৯ হাজার ২৬৭ জন।

চট্টগ্রামকক্সবাজার রুটে চলাচলরত অপর দুই জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন থেকে গত অর্থ বছরে আয় হয়েছে ৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এই দুই জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন গত এক বছরে যাত্রী পরিবহন করেছ ৩ লাখ ৯৪ হাজার জন।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পরিবহন বিভাগের এক কর্মকর্তা আজাদীকে জানান, কক্সবাজার রুটে চলাচলরত চার জোড়া ট্রেনের টিকিটের প্রতিদিন চাহিদা ৫ গুণের বেশি। কক্সবাজার রুটের ট্রেনের টিকিটের জন্য প্রতিদিন হিমশিম খেতে হয় রেলওয়েকে। আর বিশেষ বিশেষ দিনগুলোতে টিকিটের চাহিদা থাকে লাখের উপরে। এই রুটে আরও ট্রেন চালানো হলে যাত্রীর অভাব হবে না বলে জানান পরিবহন বিভাগের এই কর্মকর্তা।

রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে প্রতিদিন গড়ে ২৯ জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে। আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় হয়েছে ঢাকাচট্টগ্রামকক্সবাজার রুটে চলাচলরত দুই জোড়া ট্রেন থেকে।

কক্সবাজারের পরে দেশের মানুষের ভ্রমণের অন্যতম কেন্দ্র হচ্ছে চায়ের রাজধানীখ্যাত সিলেট। গত বছর রেলওয়ের যাত্রী পরিবহনে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ঢাকাসিলেট রুটের ট্রেনগুলো। গত বছর এই রুটে রেলওয়ের আয় হয়েছে ৭৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা। কিন্তু এই রুটের যাত্রীদের অভিযোগ চট্টগ্রামসিলেট রেলপথের অবস্থা খুবই খারাপ। সিলেটের মত একটি জনপ্রিয় পর্যটন স্পটের এমন শোচনীয় রেলপথের জন্য এই রুটের যাত্রীদের ক্ষোভ এবং অভিযোগের অন্ত নেই। এই রুটের যাত্রীদের অভিযোগচাহিদা মত টিকিট পাওয়া যায় না, ঠিক সময়ে ট্রেন চলে না এবং রেলপথের অবস্থা অবস্থা অন্যান্য রুটের চেয়ে ভীষণ খারাপ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধলতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জন কারাগারে
পরবর্তী নিবন্ধশ্যালো মেশিন ও ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে চোরাবালির সৃষ্টি