মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধান নিয়ে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে গিয়ে হামলার শিকার সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘মঞ্চ ৭১’ নামের এক সংগঠনের ওই অনুষ্ঠান থেকে উদ্ধার করে লতিফ সিদ্দিকী ও অন্যদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পরে তাদের বিরুদ্ধে দেশকে অস্থিতিশীল এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ শাহবাগ থানা পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই তৌফিক হাসান গতকাল শুক্রবার আসামিদের আদালতে হাজির করে তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর হাকিম সারাহ ফারজানা হক তা মঞ্জুর করেন। খবর বিডিনিউজের।
আওয়ামী লীগ আমলে মন্ত্রিত্ব ছাড়তে বাধ্য হওয়া লতিফ সিদ্দিকী ছাড়া বাকি ১৫ জন হলেন– মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন (৭৩), শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন (৫৫), মঞ্জুরুল আলম (৪৯), কাজী এটিএম আনিসুর রহমান বুলবুল (৭২), গোলাম মোস্তফা (৮১), মো. মহিউল ইসলাম ওরফে বাবু (৬৪), মো. জাকির হোসেন (৭৪), মো. তৌছিফুল বারী খান (৭২), মো. আমির হোসেন সুমন (৩৭), মো. আল আমিন (৪০), মো. নাজমুল আহসান (৩৫), সৈয়দ শাহেদ হাসান (৩৬), মো. শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার (৬৪), দেওয়ান মোহম্মদ আলী (৫০) ও মো. আব্দুল্লাহীল কাইয়ুম (৬১)।
কয়েকজন আসামির পক্ষে আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখীসহ অন্যরা জামিন চেয়ে আবেদন করলেও লতিফ সিদ্দিকীর পক্ষে জামিন আবেদন ছিল না। রাষ্ট্রপক্ষে মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন অন্য আসামিদের জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকেই কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
জানা যায়, মামলার শুনানিতে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী তার জামিনের প্রার্থনার জন্য ওকালতনামায় স্বাক্ষর করেননি বলে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম সাইফ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, লতিফ সিদ্দিকীর জামিন প্রার্থনার জন্য তার কাছে ওকালতনামায় স্বাক্ষর করতে যাই আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে। তখন তিনি বলেন, যে আদালতের জামিন দেওয়ার ক্ষমতা নেই, তার কাছে কেন জামিন চাইব? আমি ওকালতনামায় স্বাক্ষর করব না, জামিন চাইব না। যতবার স্বাক্ষর করতে যাই, ততবারই তিনি এ কথা বলেন, তিনি জামিনের প্রার্থনা করেননি।