৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক প্রার্থীর জন্য ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ডোপ টেস্টে পজিটিভ রিপোর্ট আসলেই প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল বলে গণ্য হবে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন প্রার্থীদের জন্য মোট ১৭ দফা আচরণবিধি প্রকাশ করেছে। গতকাল ২৯ আগস্ট সকাল ৮টায় চাকসু নির্বাচন পরিচালনা কমিটি প্রকাশিত নির্বাচনী আচরণবিধিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ডোপ টেস্টের নিয়ম : ডোপ টেস্টের বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীরা যখন মনোনয়ন ফরম নিবেন তখন আমরা তাকে ডোপ টেস্ট করানোর জন্য একটি কার্ড প্রদান করব। তখন প্রার্থী সেই কার্ড নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে গিয়ে টেস্টের জন্য নমুনা দিয়ে আসবে। পরবর্তীতে মেডিকেলের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডোপ টেস্টের রিপোর্ট চাকসু নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে পাঠাবেন। ডোপ টেস্টের ফি প্রার্থীকে বহন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হবে। যেন প্রার্থীর আত্মসম্মান বজায় থাকে, সেই কারণে রিপোর্টের বিষয়ে তাকে একাকী জানানো হবে।
মনোনয়ন ও জমাদানের নিয়ম : আচরণবিধিতে বলা হয়েছে, মনোনয়নপত্র সংগ্রহ এবং দাখিলের সময় কোনো প্রকার মিছিল বা শোভাযাত্রা করা যাবে না। একজন প্রার্থী ৫ জনের বেশি সমর্থক নিয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিতে পারবেন না। রিটার্নিং অফিসারের নিকট মনোনয়নপত্র দাখিল বা প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় অন্য কোনো প্রার্থী, ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সংগঠন বাধা দিতে পারবে না। প্রার্থীকে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে হবে।
প্রচারণার নিয়ম : প্রচারণার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকে ভোটের আগের দিন পর্যন্ত সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। তবে রাত ৯টার পর মাইক ব্যবহার করা যাবে না। প্রচারণায় কোনো ধরনের ব্যক্তিগত আক্রমণ, গুজব, চরিত্রহনন, উস্কানি, মানহানিকর মন্তব্য ধর্মীয় সামপ্রদায়িক উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, এমন বক্তব্যও ব্যবহার করা যাবে না। নির্বাচনী প্রচারণায় শুধু প্রার্থীর নিজস্ব সাদাকালো ছবি ব্যবহার করা যাবে।
যানবাহন ও শোভাযাত্রার নিষেধাজ্ঞা : প্রচারণায় কোনো ধরনের যানবাহন, মোটরসাইকেল, রিকশা, ঘোড়ার গাড়ি, হাতি কিংবা ব্যান্ডপার্টি ব্যবহার করা যাবে না। ভোটের দিন ভোটার আনা নেওয়ার ক্ষেত্রেও যানবাহন ব্যবহার নিষিদ্ধ। কেবল কমিশনের অনুমোদিত স্টিকারযুক্ত গাড়ি চলতে পারবে।
সভা–সমাবেশের নিয়ম : কোনো সভা, সমাবেশ বা শোভাযাত্রা আয়োজন করতে চাইলে লিখিত অনুমতি নিতে হবে এবং প্রক্টর অফিসকেও জানাতে হবে। অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে অনুমতি নিতে হবে। তবে চাইলে প্রচারের জন্য সাময়িকভাবে প্যান্ডেল বা মঞ্চ স্থাপন করা যাবে।
চাঁদা ও উপঢৌকন নিষিদ্ধ : আচরণবিধিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, নির্বাচনের নামে কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষ থেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে চাঁদা, অনুদান বা আর্থিক লেনদেন করা যাবে না। ভোটারদের কোনো ধরনের খাদ্য, পানীয় বা উপঢৌকন দেওয়াও নিষিদ্ধ।
ভোটকেন্দ্রের নির্দেশনা : ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন কেবল অনুমোদিত প্রার্থী, নির্বাচনী কর্মকর্তা–কর্মচারী, রিটার্নিং অফিসারের অনুমতিপ্রাপ্ত এজেন্ট এবং ভোটাররা। ভোট দেওয়ার পর ভোটারদের দ্রুত কেন্দ্র ত্যাগ করতে হবে। ভোটকেন্দ্রের বুথে গণমাধ্যমকর্মীরা ঢুকতে পারবেন না, তবে পরিচয়পত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে ছবি তুলতে পারবেন।
শাস্তির বিধান : আচরণবিধি ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা জরিমানা, প্রার্থিতা বাতিল, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার বা রাষ্ট্রীয় আইনে দণ্ডিত হওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে।
নির্বাচনের তফসিল : এর আগে বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হয় চাকসুর তফসিল। সেই অনুযায়ী আগামী ১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ। মোট খসড়া ভোটার তালিকায় রয়েছেন ২৫ হাজার ৭৫২ জন। আগামী সোমবার ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে, ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আপত্তি জানানোর সুযোগ থাকবে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে ১১ সেপ্টেম্বর। মনোনয়নপত্র নেওয়া যাবে ১৪ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর, জমা দিতে হবে ১৫ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর। যাচাই–বাছাই হবে ১৮ সেপ্টেম্বর, প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ ২১ সেপ্টেম্বর, প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৩ সেপ্টেম্বর এবং চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হবে ২৫ সেপ্টেম্বর।
আগামী অক্টোবরের নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষার্থী। তফসিল ঘোষণা ও আচরণবিধি প্রকাশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো চাকসু নির্বাচনের পথচলা।