কোরআন মুক্তির সোপান এবং অন্তরের প্রশান্তি

ফারুক আহমেদ রাজু | শুক্রবার , ২৯ আগস্ট, ২০২৫ at ৫:০০ পূর্বাহ্ণ

আমরা আমাতে আমিকে খোঁজার জন্য কোরআনই সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম। যেখানে সারগর্ভে নিহিত আছে নিরন্তর আত্মআবিষ্কার ও মুক্তবিশ্লেষণের প্রণোদনা সাথে বিশ্বব্যবস্থার একাত্মতার ধারণা যা বিচিত্র আঙ্গিকে উজ্জ্বলরূপে রয়েছে। যেখানে আত্মবিকাশের ক্যাপসুল রয়েছে। মানসিক শক্তির স্ফুরণের পথ বলে দেয়া, সত্যে উপনীতির ডাক শুনিয়ে যাওয়া এবং নিজিকে মেলে ধরার এমন উজ্জ্বল ও কার্যকর উৎসাহ দ্বিতীয়টি আর হয় না। প্রকৃতিকে বুঝার এবং ব্যাখ্যা করার, ঘটনা ও কার্যকারণসমূহকে উদঘাটন করার যে উসকানি এ গ্রন্থের তরঙ্গে ফেনায়িত তার সম্মোহনে উদ্বেলিত না হয়ে পারা যায় না।

বস্তু ও অবস্তুর সারসত্যকে বুঝার ও খোঁজার ঝোঁক আছে, আছে দুঃসাহসের উদ্দামতা, আছে জীবনজিজ্ঞাসার উত্তর বের করার দার্শনিকতা কিন্তু কোন কঠিন নয় সহজবোধ্য। কাহিনির জলস্রোতে লুকিয়ে থাকা মাছের মতো জীবন্ত তবে প্রচ্ছন্নভাবে বিগলিত।

হৃদয় ও আত্মার সুস্থির অনুশীলনের মধ্যে শিল্প ও দর্শনের যে আকাঙ্ক্ষা রয়েছে, পবিত্র কোরআনই হবে তার প্রকৃষ্ট এবং বিশ্বস্ত দর্পণ। স্বজ্ঞা ও প্রজ্ঞা উভয়ের সমন্বয়ে চিন্তাপদ্ধতির বিপ্লবাত্মক সমুন্নিত নির্দেশ করে তাতে।

উৎসবমুখর জীবনের যবনিকা হয় জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সময় শৈশবকাল, এইকালেই আমরা অর্জন করি দুনিয়াবি আর দ্বীনি শিক্ষা। আর আমাদের শৈশব ছিল সরলতা, পবিত্রতা আর আনন্দউচ্ছ্বাসে ভরপুর এক প্রাঞ্জল অধ্যায়ের। ভোরের শীতল হাওয়া আর শিশিরভেজা প্রভাত আমাদের প্রাণকে সতেজ করত, আর আমরা প্রাণবন্ত মন নিয়ে ছুটে যেতাম ফোরকানিয়ায়। হাতে ছিলো কোরআন চোখে স্বপ্ন, ঠোঁটে সরল হাসি তখন আমাদের দিন শুরু হতো কোরআনের অক্ষর উচ্চারণের মাধুর্যে। সেই সময়ের নিষ্পাপ চেতনা আমাদের হৃদয়কে আলোকিত করতো, আমাদের চিন্তাচেতনায় শুদ্ধতার আলো ছড়িয়ে দিতো।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আজকের দিনে সেই ঐতিহ্য ধীরে ধীরে মুছে যাচ্ছে। আধুনিকতার মোহ, প্রযুক্তির অন্ধকার আলো এবং ক্ষণস্থায়ী আনন্দের পেছনে ছুটতে গিয়ে আমরা কোরআন শিক্ষার মহিমা থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছি। যে প্রভাত একদিন ছিল আল্লাহর কালামের সুরে মুখরিত, আজ সেখানে নিস্তব্ধতা নেমে এসেছে। আমরা ঘুম থেকে উঠি অনেক দেরি করে। পবিত্র কোরআনের প্রতি যে আবেগ, ভালোবাসা ও আন্তরিকতা আমাদের সমাজকে শক্তি দিতো, তা যেন ক্রমশ ম্লান হয়ে যাচ্ছে। আমরা ক্রমাগত সরে যাচ্ছি, সরে যাচ্ছে আমাদের পূর্ব ঐতিহ্য এবং ইসলামী দর্শন।

যদি আমরা চাই সমাজের পুনর্জাগরণ, নৈতিকতার বিকাশ, এবং মানবতার প্রতিষ্ঠা তবে কোরআন শিক্ষার প্রতি নতুন করে আকর্ষণ সৃষ্টি করতেই হবে। প্রতিটি পরিবারে কোরআনের আলো ফিরিয়ে আনতে হবে, প্রতিটি শিশুর কণ্ঠে কোরআন তিলাওয়াতের সুমধুর সুর ছড়িয়ে দিতে হবে। এ প্রজন্মকে শিখাতে হবে যে, কোরআনই সর্বোচ্চ প্রজ্ঞার উৎস, মুক্তির সোপান এবং অন্তরের প্রশান্তির চাবিকাঠি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপাষাণী অন্তর
পরবর্তী নিবন্ধনিয়তি