ইসলামী ব্যাংক থেকে দেড় হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পাচারের অভিযোগে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ ও তার স্ত্রী–সন্তান, ভাই–ভাগ্নেসহ ৩৭ জনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুদক। গতকাল দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম–১ এ দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক তাহসীন মুনাবীল হক ও সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান মামলা দুটি দায়ের করেন।
আসামিরা হলেন– এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ, তার ভাগ্নে মোহাম্মদ মোস্তাইন বিল্লাহ আদিল, ভাই আব্দুস সামাদ, ওসমান গণি, মোহাম্মদ আবদুল্লাহ হাসান ও রাশেদুল আলম, স্ত্রী ফারজানা পারভীন, ছেলে আশরাফুল আলম ও আহসানুল আলম, মেয়ে মায়মুনা খানম, ভাইয়ের স্ত্রী শারমিন ফাতেমা, ইসলামী ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা মিফতাহ উদ্দীন, মোহাম্মদ সাব্বির, মাহবুব উল আলম, মনিরুল মওলা, কায়সার আলী, এহসানুল ইসলাম, সিরাজুল কবীর, মনজুর হাসান, তাহের আহমেদ চৌধুরী, আকিজ উদ্দিন, ডিগনিটি বিজনেসের মালিক মো. সাইফুদ্দীন, ইউনাইটেড সুপার ট্রেডার্সের মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া, মিনহাজ করপোরেশনের এমদাদুল ইসলাম, জিনিয়াস ট্রেডিংয়ের আবুল কালাম, ক্রাফট বিজনেসের তারিকুল ইসলাম চৌধুরী, এপারচার ট্রেডিংয়ের এস এম নেছার উল্লাহ, দুলারী এন্টারপ্রাইজের সাদেকুর রহমান, ইউনিক ট্রেডার্সের তারেকুল ইসলাম চৌধুরী, আনসাব এন্টারপ্রাইজের আনসারুল ইসলাম চৌধুরী, গ্রিন এঙপোর্ট ট্রেডার্সের এম এ মোনায়েম এবং আইআইএস কনসাল্টিংয়ের ওয়াহিদুর রহমান, শব মেহের স্পিনিং মিলস’র এমডি মো. মশিউর রহমান, পরিচালক মো. শওকত উসমান, টপ টেন ট্রেডিং হাউসের মো. আলমাছ আলী, গোল্ড স্টার ট্রেডিং হাউসের বেদারুল ইসলাম ও আলম ট্রেডিং এন্ড বিজনেস হাউসের নুরুল আলম।
দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম–১ এর উপপরিচালক সুবেল আহমেদ দৈনিক আজাদীকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, মামলা দুটির মধ্যে একটিতে ১ হাজার ৭৭ কোটি ১১ লাখ টাকা এবং অপরটিতে ৫৪৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পাচারের কথা বলা হয়েছে। তিনি বলেন, দুই মামলার মধ্যে একটিতে ৩১ জন এবং অপরটিতে ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। এরমধ্যে দুটি মামলারই আসামি সাইফুল আলম মাসুদ, ইসলামী ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা মিফতাহ উদ্দীন ও মনিরুল মাওলা।
১ হাজার ৭৭ কোটি ১১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে পাচারের অভিযোগে করা মামলার এজাহারে বলা হয়, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস আলমের ভাগ্নে মোহাম্মদ মোস্তাইন বিল্লাহ আদিল তার প্রতিষ্ঠান আদিল করপোরেশনের নামে ২০১৭ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ইসলামী ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখায় চলতি হিসাব খোলেন। পরদিন তিনি ঋণের জন্য আবেদন করেন। যা তিন দিনের মাথায় অনুমোদন করা হয়। যোগ্যতা না থাকার পরও প্রতিষ্ঠানটিকে ‘বিশেষ বিনিয়োগ’ সুবিবধার বিপরীতে ১০টি বিনিয়োগ সুবিধা (ঋণ) দেওয়া হয় উল্লেখ করে বলা হয়, ২০১৭ সালে আদিল করপোরেশনের ঋণসীমা ৪০০ কোটি টাকা থাকলেও নিয়ম বহির্ভূতভাবে তা বাড়ানো হয়। সুদ ও আসলসহ বেড়ে এটির বর্তমান স্থিতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২১৭ কোটি ৪৫ কোটি টাকা। আরো বলা হয়, ঋণ দেওয়ার পর ২০২২ সালের ৮ নভেম্বর থেকে পরের বছরের ২৯ আগস্ট পর্যন্ত আদিল করপোরেনের হিসাব থেকে নাম সর্বস্ব নয়টি প্রতিষ্ঠানের হিসাবে এক হাজার ৭৭ কোটি ১১ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়। পরে তা এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন কোম্পানিতে স্থানান্তর করা হয়।
৫৪৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পাচারের অভিযোগে করা মামলার এজাহারে বলা হয়, অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, ইসলামী ব্যাংকে টপটেন নামে একটি হিসাব থেকে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর ডেবিট ভাউচারের মাধ্যমে ৫২১ কোটি ৫২ লাখ টাকা এস আলম গ্রুপের কয়েকটি অয়েল মিলের হিসাবে জমা করার মাধ্যমে আত্মসাৎ এবং পাচার করা হয়।