কর্ণফুলী টানেল প্রকল্প খাতে ৫৮৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ

ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে দুদকের প্রথম মামলা

| শুক্রবার , ২৯ আগস্ট, ২০২৫ at ৪:২৯ পূর্বাহ্ণ

কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ বহির্ভূত তিনটি পৃথক খাত দেখিয়ে প্রায় ৫৮৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা অপচয় ও আত্মসাতের অভিযোগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার সংস্থার উপপরিচালক সিরাজুল হক বাদী হয়ে ঢাকার সমন্বিত জেলা কার্যালয় ১ এ মামলাটি দায়ের করেন বলে তথ্য দিয়েছেন দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন। সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের ছাড়া মামলার অপর তিন আসামি হলেনসেতু বিভাগের সাবেক সচিব ও নির্বাহী পরিচালক খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী কবির আহমদ এবং সাবেক পরিচালক ও যুগ্ম সচিব আলীম উদ্দিন আহমেদ। খবর বাসস ও বিডিনিউজের।

দুদক সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা, কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, ভাগ্নেভাগ্নি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, টিউলিপ সিদ্দিক, আজমিন সিদ্দিকসহ তৎকালীন মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্যদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা করলেও ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের তহবিল তছরূপ, অপচয় এবং আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের এটিই প্রথম মামলা।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং সেতু বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নেগোসিয়েশন কমিটির সুপারিশ উপেক্ষা করে প্রকল্পে তিনটি অপ্রয়োজনীয় কাজ যুক্ত করেন। এর মাধ্যমে সরকারের বিপুল এই অর্থের অপচয় ও ক্ষতি হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে এক জনসভায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের ঘোষণা দেন। এরপর ২০১৩ সালের অগাস্টে চায়না কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (সিসিসিসি) ও অরূপ হংকং জেভি সম্ভাব্যতা সমীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত সময়ের হিসাব বলছে, টানেলের মাধ্যমে মাত্র ২৪ লাখ ৫৫ হাজার ৮৭৯টি (২ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন) যানবাহন চলাচল করেছে। সম্ভাব্যতা সমীক্ষার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার এটি মাত্র ১৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

এ সময়ে টানেল থেকে ৬৭ কোটি ২৫ লাখ ৫৪ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় হলেও রক্ষণাবেক্ষণে খরচ হয়েছে ২০৫ কোটি ৮৫ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। এতে প্রতি মাসে সরকারের গড়ে ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা লোকসান ও ভর্তুকি দিতে হচ্ছে বলে এজাহারে তুলে ধরা হয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, সংশ্লিষ্টরা ইচ্ছাকৃতভাবে অবাস্তব ও কল্পিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে প্রকল্পটি পাস করান। এতে জনগণ ও সরকারকে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।

সমীক্ষার প্রতিবেদনের বরাতে এজাহারে বলা হয়, টানেল বাস্তবায়ন হলে অন্তত ১০টি অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুফল পাওয়া যাবে বলে বলা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই সুফল মিলেনি। প্রকল্প বাস্তবায়নে সিসিসিসি ৬৭৯ দশমিক ১৬ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দিলেও নেগোসিয়েশন কমিটি ৬৪৬ মিলিয়ন ডলারে তা অনুমোদনের সুপারিশ করে। তবে পরবর্তী পর্যায়ে এই সুপারিশ উপেক্ষা করে ব্যয় বাড়ানো হয়।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, বিদেশি বিশেষজ্ঞ নিয়োগে সরকারি ক্রয় আইন (পিপিএ ২০০৬) লঙ্ঘন করা হয়েছে। তাদের দিয়ে প্রকল্পে তিনটি অতিরিক্ত কাজপরিষেবা এলাকা নির্মাণ, পর্যবেক্ষণ সফটওয়্যার ও একটি টাগ বোট যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়। অথচ বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদনে এসব কাজের কোনো সুপারিশ ছিল না।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচুয়েটে কমপ্লিট শাটডাউন, ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন
পরবর্তী নিবন্ধলতিফ সিদ্দিকী ও অধ্যাপক কার্জনসহ ১৪ জন গ্রেপ্তার