খাগড়াছড়ির রামগড় স্থলবন্দরের মাধ্যমে বাংলাদেশের লাভ–ক্ষতি নিরূপণে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গতকাল বুধবার রামগড় স্থলবন্দর এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন ও স্থানীয় বসিন্দাদের সাথে মতবিনিময় করেছে।
কমিটির আহ্বায়ক নৌ–পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে অন্যান্য সদস্যরা গতকাল বেলা ২টার দিকে রামগড় পৌঁছে প্রথমেই স্থলবন্দরের চলমান উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করেন। তারা পুরো বন্দর এলাকা ঘুরে দেখেন। এ সময় রামগড় স্থলবন্দরের কর্মকর্তারা এ স্থলবন্দরের সাথে ত্রিপুরার সাব্রুম স্থলবন্দরের সম্ভব্য কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন। পরে স্থলবন্দরের প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবনে রামগড়ের বিভিন্ন পেশাজীবী বাসিন্দাদের সাথে মতবিনিময় করেন কমিটির কর্মকর্তারা। স্থলবন্দরের অংশীজন হিসেবে উপস্থিত রামগড়ের বিভিন্ন পেশাজীবী ব্যক্তিবর্গ সকলেই রামগড় স্থলবন্দর চালু করার জোর দাবি জানান।
এ সময় কমিটির সদস্য সচিব বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (ট্রাফিক) যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ শামীম, সদস্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ রফিকুল করিম, বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (ট্রাফিক) যুগ্ম সচিব মো. শামীম আলম, বিজিবির ফেনী ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্নেল মো. মোশারফ হোসেন, চট্টগ্রামের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিএসও–১, (অপস) লে. কর্নেল জে এ এম বখতিয়ার উদ্দিন, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের যুগ্ম কমিশনার মো. পায়েল পাশা, অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. গোলাম কবির, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব শরীফ রায়হান কবির, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক (দ.এশিয়া) মো. মনোয়ার মোকাররম, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব টিনা পাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় শেষে কমিটির আহ্বায়ক মো. মুহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা রামগড় স্থলবন্দরের চলমান উন্নয়ন কাজসহ খুঁটিনাটি সব কিছু পর্যবেক্ষণ করেছি। সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে বন্দর সম্পর্কে অবহিত হয়েছি। অংশীজন হিসেবে রামগড়ের বাসিন্দাদের মতমত নিয়েছি। পরে কমিটির বৈঠকে সব কিছু পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ২৭ ফেব্রুয়ারি (আজ) থেকে ১৫ দিনের মধ্যে নৌপরিবহন উপদেষ্টা মহোদয়ের কাছে কমিটির পক্ষ থেকে প্রতিবেদন পেশ করা হবে।
উল্লেখ্য, খাগড়াছড়ির রামগড় স্থলবন্দরের মাধ্যমে বাংলাদেশের লাভ–ক্ষতি নিরূপণের জন্য নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এম সাখাওয়াত হোসেনের নির্দেশে গত ১৪ জানুয়ারি ১২ সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রতিবেদনের উপর নির্ভর করছে রামগড় ও বিলোনিয়া স্থলবন্দর চালু করা, না করার সিদ্ধান্ত।