জাতিসংঘ মহাসচিব ১৩-১৬ মার্চ বাংলাদেশ সফর করবেন

রোহিঙ্গা ইস্যুতে সমর্থন জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে চিঠি

| বৃহস্পতিবার , ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ at ৫:৫৭ পূর্বাহ্ণ

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আগামী ১৩১৬ মার্চ বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক সফর করবেন। তার কার্যালয় এ কথা নিশ্চিত করেছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশে তার এ সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গতকাল জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন থেকে প্রকাশিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নিউইয়র্কে গত ৭ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠকের সময় প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সংকট ও অগ্রাধিকার বিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি খলিলুর রহমান তার কাছে আমন্ত্রণপত্রটি হস্তান্তর করেন। খবর বাসসের।

প্রধান উপদেষ্টাকে চিঠি : জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দাতা হিসেবে বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় করা অব্যাহত রাখবে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পাঠানো এক চিঠিতে গুতেরেস জানান, রোহিঙ্গা সংকটের কারণে বাংলাদেশ ও এ অঞ্চলের ওপর পড়া প্রভাব এবং রাখাইনে ক্রমবর্ধমান মানবিক সংকট নিয়ে তিনি বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার উদ্বেগের সঙ্গে একমত। চিঠিতে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবর্তনের জন্যে উপযোগী পরিবেশ তৈরি করাসহ মিয়ানমারের সংকটের একটি রাজনৈতিক সমাধানের উদ্দেশ্যে আঞ্চলিক অংশীদার, দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট (আসিয়ান) ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আমি আমার বিশেষ দূতের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাব।

জাতিসংঘ মহাসচিব আরও বলেন, তিনি জাতিসংঘের বাংলাদেশ ও মিয়ানমার ভিত্তিক কর্মী দলকে নির্দেশনা দেওয়ার জন্য তার সিনিয়র কর্মকর্তাদের আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা রাখাইন সম্প্রদায়ের জন্য মানবিক ও জীবিকার সহায়তা আরও বাড়াতে পারে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে জাতিসংঘ এই ইস্যুতে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কাজ করবে, যার মধ্যে জরুরি ত্রাণ সমন্বয়কারী ও মিয়ানমারের আবাসিক ও মানবিক সমন্বয়কারীর মাধ্যমে রাখাইনসহ সারা মিয়ানমারে নিরাপদ, দ্রুত, টেকসই ও বাধাহীন মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

গুতেরেস আশা প্রকাশ করেন যে রোহিঙ্গা মুসলিম ও মিয়ানমারের অন্যান্য সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলন বিশ্বব্যাপী নতুন করে মনোযোগ আকর্ষণ এবং রোহিঙ্গা ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের জন্য আরও বিস্তৃত সমাধান বের করতে সাহায্য করবে। তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের ব্যবস্থা কীভাবে প্রক্রিয়াটিকে সর্বোত্তম সমর্থন করতে পারে তা বোঝার জন্য সদস্য রাষ্ট্রের পরামর্শ অনুসরণ করে আমরা সম্মেলনের সম্মত ফলাফল এবং পরিকল্পনার জন্য অপেক্ষা করছি।

জাতিসংঘ মহাসচিব পুনরায় নিশ্চিত করেন যে জাতিসংঘ বাংলাদেশকে দৃঢ় সংহতি জানাচ্ছে এবং অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে চলমান পরিবর্তন প্রক্রিয়াকে সমর্থন দিচ্ছে।

তিনি ৪ ফেব্রুয়ারি অধ্যাপক ইউনূসের পাঠানো চিঠির জন্য ধন্যবাদ জানান, যা ৭ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠকের সময় প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সংকট ও অগ্রাধিকার বিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি খলিলুর রহমান তাকে পৌঁছে দেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমাটি ও মানুষ অন্তঃপ্রাণ ছিলেন ইউসুফ চৌধুরী
পরবর্তী নিবন্ধ৭৮৬