কক্সবাজার শহরের সমুদ্র তীরবর্তী গ্রাম সমিতিপাড়া থেকে একটি বিপন্ন প্রজাতির বনরুই উদ্ধার করা হয়েছে। বনরুইটি ‘ইণ্ডিয়ান প্যাঙ্গোলিন’ বা ‘দেশি বনরুই’ প্রজাতির বলে শনাক্ত করা হয়েছে, যেটি স্থানীয়ভাবে ‘খুদুক’ নামে পরিচিত। গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে একটি পরিবেশবাদী সংস্থার কর্মীরা স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে বনরুইটি উদ্ধার করে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর করে। পরে সেটি হিমছড়ি জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করা হয়।
পরিবেশবাদী সংস্থা নেকমের ইকো লাইফ প্রকল্পের ম্যানেজার আব্দুল কাইয়ূম জানান, গতকাল শুক্রবার সকালে সৈকতের সমিতিপাড়া পয়েন্টে প্রায় ৪ কেজি ওজনের বনরুইটি ভেসে আসলে ফয়সাল নামের এক যুবক এটিকে তার বাসায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ইকোফিস প্রকল্পের কর্মকর্তারা বনরুইটি উদ্ধার করে বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর করে। তিনি বলেন, গেল দু’দিন ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। যার কারণে হিমছড়ি জাতীয় উদ্যানের পাহাড় থেকে ছড়া দিয়ে হয়তো বনরুইটি সাগরে চলে যায়। তবে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন–বাপা কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী এ বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন, সমুদ্রের পানিতে বনরুই বা খুদক কখনও যায় না। হিমছড়ি বনাঞ্চল থেকে শহরের ৮–১০ কিলোমিটার জনাকীর্ণ সৈকত পেরিয়ে সমিতিপাড়ায় যাওয়াও প্রায় অসম্ভব। তিনি বিষয়টি রহস্যজনক ও তদন্তযোগ্য বলে দাবি করেন।
কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের কক্সবাজার রেঞ্জ অফিসের বন কর্মকর্তা সমীর রঞ্জন বলেন, উদ্ধার হওয়া বনরুইটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বিকালে হিমছড়ি জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করা হয়।