সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আয়োজিত ‘গণতন্ত্র সম্মেলন’ এ বাংলাদেশের দাওয়াত পাওয়া না পাওয়া নিয়ে রাজনীতিতে এক নতুন উপাদান যুক্ত হয়েছে। বিরোধীদল এটাকে দেশে গণতন্ত্রহীনতার প্রমাণ হিসাবে উপস্থাপন করতে চাইছে অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল এটাকে আপাত গুরুত্বহীন উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের স্বাভাবিক ও উন্নত সম্পর্ক রয়েছে বলে প্রচার করছে। লক্ষ্য করার বিষয় হল নজিরবিহীনভাবে গত দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ একাধিক ব্যক্তি এবং সর্বশেষ মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাউন্সেলর শোলেসহ অন্তত চারটি টিম পর পর বাংলাদেশ ঘুরে গেল। অন্তর্ভুক্তিমূলক আসন্ন নির্বাচন, মানবাধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ইত্যাদি বিষয়ে উপদেশ প্রদানসহ প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি বজায় না রাখলে সহযোগিতা নিম্নগামী ও সীমিত হয়ে পড়বে বলে পরোক্ষ হুমকি প্রদান করে গেছেন শোলে। যা খুব আত্মসন্তুষ্টি নিয়ে বিএনপি নেতা আমীর খসরু সাহেব উল্লেখ করেছেন। শুধু নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করাই কি সফরগুলোর একমাত্র লক্ষ্য ছিল? অবাধ নির্বাচনের কথার পেছনে দক্ষিণ এশিয়া ও ইন্দো প্যাসিফিক অঞ্চলে চীন বিরোধী সামরিক বলয় গড়ে তোলার মার্কিন প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করার অনাকাঙ্খিত চাপ প্রদানের বিষয়টি খসরু সাহেবরা মার্কিন ও ক্ষমতাপ্রীতির কারণে একেবারেই উল্লেখ করলেন না। ইতোমধ্যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রশ্নে, চীনের সাথে অর্থনৈতিক ও কারিগরি সম্পর্কের উন্নতির প্রেক্ষাপটে অসন্তুষ্ট যুক্তরাষ্ট্র সেই ২০১২ সাল থেকে জিএসপি সুবিধা বাতিল, পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসা, র্যাব এবং পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তার ভিসা প্রদান স্থগিতসহ, নানা পদক্ষেপ এই সরকারের বিরুদ্ধে গ্রহণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতির বিষয়ে অতীত অভিজ্ঞতা থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় বাংলাদেশ যদি এই মুহূর্তে ‘কোয়াড’সহ চীন বিরোধী কৌশলগত মার্কিন সামরিক তৎপরতায় সরাসরি যুক্ত হয়ে পড়ে তখন বাংলাদেশের মানবাধিকার, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের বিষয়টি আড়ালে চলে যাবে কেননা ‘কথিত’ গণতন্ত্র সম্মেলনে এমন অনেক দেশ আমন্ত্রিত হয়েছে যেখানে গণতান্ত্রিক কোন বিধি ব্যবস্থা, মানবাধিকার ও ন্যুনতম বাক স্বাধীনতা নেই।
সাম্প্রতিক ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে প্রয়োজনে মার্কোস, পিনোচেট ও সুহার্তের মত চরম স্বৈরাচারী সরকারকে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন সমর্থন করে গেছে। সুস্পষ্ট উদাহরণ দিয়ে জিজ্ঞাসা করা যায়, কোন্ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মানবাধিকার রক্ষার জন্য পাকিস্তানে ১৯৭০ সালে নিরঙ্কুশভাবে নির্বাচিত দলকে ক্ষমতায় আসতে না দিয়ে একটি বর্বর সেনাবাহিনীকে আর্থিক, সামরিক ও কূটনৈতিক সমর্থন দিয়ে পৃথিবীর নজিরবিহীন গণহত্যায় প্ররোচিত ও উৎসাহিত করল সেদিন যুক্তরাষ্ট্র? কোন গণতন্ত্রের স্বার্থে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সহ নারী ও শিশু হত্যাকারী দণ্ডিত খুনীদের যুক্তরাষ্ট্র নির্বিঘ্ন আশ্রয় দেয়? রাজনীতি অর্থনীতির ঘনীভূত রূপ বলে একটি কথা আছে। তাই যদি হয় প্রচলিত লুটেরা অর্থনীতি তথা কয়েকটি কর্পোরেট হাউসের মালিকদের দুর্বৃত্তপনা তথা অবাধ লুটপাট, যুক্তরাষ্ট্রে, কানাডায় কয়েক লক্ষ কোটি টাকা পাচারের মত গণস্বার্থ বিরোধী, গণদারিদ্র্য, গণবুভুক্ষা তৈরির মত কাজগুলো কতটুকু মানবাধিকার সম্মত ও গণতান্ত্রিক? এই দুর্বৃত্তায়িত অর্থনীতি, লুটপাট ও ভোগের সংস্কৃতিই তো রাজনীতিকে নীতিহীন ও দুর্বৃত্তায়িত করেছে, গণতন্ত্রের বদলে জবরদস্তির সংস্কৃতি চালু করেছে। এ বিষয়ে কি যুক্তরাষ্ট্র কিছু বলে? যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য সংস্থা আইএমএফ সরকারকে সেবা খাতে ভর্তুকি কমানো, সঞ্চয়পত্রের সুদ কমানোসহ গণবিরোধী শর্ত দেয় কিন্তু ধনিক গোষ্ঠীর সিন্ডিকেটবাজি, মূল্য কারসাজি ও টাকা পাচার বন্ধের কোন শর্ত কি কখনো প্রদান করেছে? শুধু আমাদের দেশে নয় পৃথিবীর নানা প্রান্তে যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র বিরোধী ভূমিকা সুবিদিত। যুক্তরাষ্ট্র থেকে হাজার হাজার মাইল দূরের দেশ ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া, আফগানিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের বর্বর হামলা ও হত্যাকান্ডে আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত। বস্তুত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী বিশ্বে সাম্প্রতিক রুশ–ইউক্রেন যুদ্ধসহ সব আঞ্চলিক সংঘাত ও যুদ্ধের উস্কানিদাতা, দেশটির “গণতন্ত্র সম্মেলনের” দাওয়াত প্রাপ্তিকে দুর্ভাগ্যজনকভাবে দুই বৃহৎ দল গণতন্ত্রের সনদ প্রাপ্তি বলে মনে করছে শুধুমাত্র ক্ষমতার প্রশ্নে।
আমাদের দেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ’৭১ ও ’৭৫ এর নীতি অবস্থানের মৌলিক কোন পরিবর্তন হয়নি। সে দেশের রাষ্ট্রনীতিতে একটি ধারাবাহিকতা আছে। ’৭৫ এর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অনুগত প্রতিষ্ঠান বিশ্বব্যাংক, আইএমএফের নির্দেশে অনুসৃত লুটেরা রাজনৈতিক অর্থনীতি আমাদের আর্থিকভাবে পরনির্ভরশীল, রাজনৈতিকভাবে গণতন্ত্রহীনতা ও ধর্মান্ধতার এক চক্রব্যুহে নিপতিত করেছে। ব্যাপক আর্থিক লুটপাটের মধ্যেও আমাদের দেশের কৃষক, গার্মেন্টস শ্রমিক ও জীবন বাজি রেখে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স অর্থনীতিতে শক্তি যোগালেও বিশ্বব্যাংকের নির্দেশে লোকসানের নামে পাট, বস্ত্র ও ইস্পাতসহ ভারী শিল্প পরিকাঠামো বন্ধ করে দেয়ায় দু’একটি পণ্যের মধ্যে আমাদের রপ্তানি বাণিজ্য সীমিত হয়ে পড়েছে। এতে টেকসই অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়েছে। রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ বর্তমানে অনির্ভরযোগ্য ও আমদানিকৃত কাঁচামাল নির্ভর শিল্প পণ্য তৈরি পোশাক থেকে আসে আর সেই পণ্যের রপ্তানি বাজার মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ। ফলে এদের পক্ষে আমাদের অর্থনীতি ও সেই সাথে রাজনীতিকে প্রভাবিত করা, চাপে রাখা সহজ হয়ে পড়েছে এবং আমেরিকা এখন ঠিক তাই করছে। বহুমুখী রপ্তানি পণ্যের বাজার আমাদের এখন নেই বরং বেড়েছে আমদানি নির্ভরতা। আমেরিকার অস্ত্র ব্যবসার জন্য অতি লাভজনক রুশ–ইউক্রেন যুদ্ধ আমেরিকা সহজে বন্ধ করবে না। আমাদের ইউরোপ ও মার্কিন বাজার নির্ভরতার কারণে সৃষ্ট আর্থিক অনিশ্চয়তার অবসান সহজে হবে না। এতে দলীয় স্বার্থে মার্কিন সমর্থক ক্ষমতাপ্রত্যাশী সরকারী দলের প্রতিপক্ষ উল্লসিত হবে কিন্তু ক্ষমতার হাত বদল যে লুটেরা অর্থনীতি ও জবরদস্তির রাজনীতি, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও ঘৃণার পরিবেশ পাল্টে দেবে এই দুরাশা নিশ্চয়ই অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ করে না।
বাংলাদেশ গণতন্ত্রের অবস্থা কখনো সুখকর ছিল না। একটি দেশের গণতন্ত্রের প্রধান শর্ত হল সে দেশের সংখ্যালঘুদের নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে নিরুদ্বেগ থাকতে পারা। সে অবস্থা এদেশে কোন দিন ছিল না। ফলে এ পর্যন্ত গণতন্ত্র ভঙ্গুর থেকেছে আমাদের দেশে। আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গণতন্ত্র, পরমত সহিষ্ণুতা, জবাবদিহিতা, পরাজয় মেনে নেয়ার মানসিকতা গড়েই উঠেনি। সর্বোপরি গণতন্ত্র বিরোধী সাম্প্রদায়িকতার প্রচ্ছন্ন ও প্রত্যক্ষ প্রভাব সমাজে সবসময় ছিল। পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের সংগ্রাম করলেও তাদের অগণতান্ত্রিক সংস্কৃতি, সামরিক শাসনের উপজাত জবরদস্তির লিগেসী আমাদের চিন্তায়– মনে– মননে–মজ্জায় পরিব্যপ্ত ছিল। এমনকি মুক্তিযুদ্ধের পরপরই শাসক দলের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ অত্যন্ত দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও ১৯৭৩ সালের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনভিপ্রেতভাবে দৃষ্টান্তমূলক ও পরিচ্ছন্ন করা যায়নি। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত পরিস্থিতির ক্রমে চূড়ান্ত, অবনতির দিকে গেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যবস্থাপনায় ১৯৯১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত চারটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছে। সে ব্যবস্থা বাতিল করে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের তিক্ত অভিজ্ঞতা দেশবাসীর হয়েছে শুধু তাই নয় স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের ব্যবহার অর্থাৎ রাজনৈতিকীকরণের ফলে পুরো নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সর্বত্র। এমতাবস্থায়, সামগ্রিকভাবে আস্থাহীন ভোটারদের কেন্দ্রে যাবার আগ্রহ কমে গেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো ব্যাপক কালো টাকার ব্যবহার ও চরম সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ও অপ্রচারের প্রাবল্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনগুলো কি নিরপেক্ষ হয়েছে? টাকা ও ধর্মের অপব্যবহারে প্রভাবিত মানুষ ভোট দিতে পারলেই কি নির্বাচন নিরপেক্ষ হয়?
প্রত্যেক নির্বাচনের আগে পরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুরা আতংকে থাকে। ২০০১ সালের নির্বাচনের পরপরই বিএনপি–জামাত জোট সরকারের কর্মী সমর্থকরা ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট তথা দক্ষিণ বাংলায় ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর নজিরবিহীন ব্যাপক হামলা, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণসহ এক নারকীয় পরিস্থিতি তৈরি করে। হাজার হাজার হিন্দু সে সময় দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয়। এ অবস্থায় জোট সরকার ব্যবস্থা নেবে দূরে থাক ঘটনা সম্পূর্ণ অস্বীকার করার অমার্জনীয় অপরাধ করেছে। বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বের গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রামের এজেন্ডায় অতীতের এই নারকীয় অপকর্মের জন্য দুঃখ প্রকাশ, ২১ আগস্ট হত্যাকাণ্ড, দুই জনপ্রিয় সাংসদ কিবরিয়া ও আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যার বিচার না করার কারণ ব্যাখ্যা নেই বরং বলা যায় তা উল্লেখ করার প্রয়োজন আছে বলে বিএনপি মনে করেনি। কিন্তু ২১ আগস্ট তো এদেশের রাজনীতিতে স্থায়ী এক ক্ষত তৈরী করেছে। আমার তো মনে হয়, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অলৌকিকভাবে জীবন ফিরে পেয়ে সেদিনই “পয়েন্ট অব নো রিটার্ন এ” চলে যান। সেই থেকে শুরু হয়েছে প্রতিপক্ষকে পরাজিত করার বদলে নির্মূল করার দানবীয় রাজনীতি। এটাই আজকের আমাদের দেশের রাজনৈতিক সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ। বিরোধী দলের ধারণা সাম্প্রদায়িক বিভক্তির বর্তমান পরিবেশ, সরকার বিরোধী সাধারণ মনোভাব বা anti incumbent sentiment, দ্রব্যমূল্যের অসহনীয় উর্ধ্বগতিতে নিস্পৃষ্ট মানুষ সুযোগ পেলেই ভোট দিয়ে তাঁদের ক্ষমতায় পাঠাবে। কিন্তু তাতে লুটপাটের রাজনৈতিক অর্থনীতি, প্রতিশোধ পরায়ণতা, সাম্প্রদায়িক সামাজিক বিভক্তির অবসান হবে কি? সব মিলিয়ে প্রকৃত গণতন্ত্রের কি হবে? আবারো কি নির্বাচিত স্বৈরশাসনে, ব্যক্তি শাসনে দেশ চলবে? আদতে সমাজে, অর্থনীতিতে চলমান বহুমূখী সংকট, বিকৃতি, পচন গণতন্ত্রহীনতার ফসল। এজন্য দেখি দুই দলেই রয়েছে লুটেরা পুঁজির মালিক যারা মানুষের অধিকারে বিশ্বাস করে না উল্টো পর্দার অন্তরালে এদের মধ্যে রয়েছে গভীর আঁতাত। এ জন্য দুই দলেরই প্রয়োজন মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী, নিজ স্বার্থে স্বৈরশাসনের পৃষ্ঠপোষক যুক্তরাষ্ট্রের দাওয়াত। অভিজ্ঞতা হলো সেই দাওয়াত গণতন্ত্রকে আরো মুমুর্ষু করে ফেলবে। ভিশন’৭১ বাস্তবায়ন ছাড়া প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। বরাবর যে ভিশনের বিরোধী যুক্তরাষ্ট্র। এই ভিশন’৭১ বা মুক্তিযুদ্ধের অনির্বাণ চেতনার পক্ষের একটি সম্ভাব্য বিকল্প শক্তির উত্থান ছাড়া অবরুদ্ধ গণতন্ত্রকে মুক্ত করা সম্ভব হবে না।
লেখক : প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট, অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক।











