চট্টগ্রাম–ঢাকা, চট্টগ্রাম–চাঁদপুর এবং সিলেট–ময়মনসিংহ রুটে নতুন তিন জোড়া ট্রেন চালুর জন্য রেল মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল। গতকাল সোমবার রেল মন্ত্রণালয়ে নতুন তিন জোড়া ট্রেন চালুর ব্যাপারে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল থেকে লিখিত প্রস্তাব পাঠানো হয়। চট্টগ্রাম–ঢাকা রুটে আন্তঃনগর ট্রেনের সংকট রয়েছে। যাত্রীদের ব্যাপক চাহিদার কথা বিবেচনা করে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কর্তৃপক্ষ রেল মন্ত্রণালয়ের কাছে নতুন তিন জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চালুর ব্যাপারে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন।
রেল ভবনের একটি সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম–ঢাকা, চট্টগ্রাম–চাঁদপুর এবং সিলেট–ময়মনসিংহ রুটে তিন জোড়া ট্রেন চালুর ব্যাপারে রেল মন্ত্রণালয়ের সম্মতি রয়েছে। সম্মতি পাওয়ার পরই পূর্বাঞ্চল থেকে এই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এখন দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ১৫০টি মিটারগেজ কোচ দেশে আসলেই চালু হবে চট্টগ্রাম–ঢাকা, চট্টগ্রাম–চাঁদপুর এবং সিলেট–ময়মনসিংহ রুটে নতুন তিন জোড়া ট্রেন।
এই ব্যাপারে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমাদের মনে হয়েছে ঢাকা–চট্টগ্রাম রুটে নতুন একটি ট্রেনের দরকার। তাই আমরা প্রস্তাব পাঠিয়েছি। চট্টগ্রাম–ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম–চাঁদপুর এবং সিলেট–ময়মনসিংহ রুটেও নতুন ট্রেনের চাহিদা রয়েছে। তাই এই দুই রুটের ব্যাপারেও প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে নতুন ১৫০টি মিটারগেজ কোচ আসছে। এরই মধ্যে ১৫টি কোচ দেশে এসেছে। অবশিষ্ট কোচগুলোও পর্যায়ক্রমে দেশে আসবে। তখন কোচের আর সংকট থাকবেনা।
চট্টগ্রাম–ঢাকা রুটে নতুন ট্রেন চালুর দাবি চট্টগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের। চট্টগ্রামের নানান শ্রেণি পেশার মানুষের দাবি বাংলাদেশ রেলওয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় রুট চট্টগ্রাম–ঢাকায় যাত্রী সংখ্যা দেশের অন্যান্য রুটের চেয়ে অনেক বেশি। অথচ যাত্রীদের চাহিদা মতো ট্রেন নেই। টিকিটের জন্য সারাবছরই যাত্রীদের মাঝে হাহাকার লেগে থাকে। এবার নতুন বগি থেকে নতুন ট্রেন চালুর পাশাপাশি পুরোনো বগি নিয়ে চলাচল করা ট্রেনের বগিগুলো পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন যাত্রী সাধারণ থেকে শুরু করে নানান শ্রেণি পেশার মানুষ। এছাড়াও চট্টগ্রাম–চাঁদপুর রুট্রেও ট্রেনের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের জনপ্রিয় এবং যাত্রীবান্ধব রুট হলো–ঢাকা–চট্টগ্রাম রুট। এই রুটে যাত্রীদের তুলনায় ট্রেনের সংখ্যা অনেক কম। সকাল ৭টায় সুবর্ণ এঙপ্রেসের পর ১২টা পর্যন্ত ট্রেন নেই। সকাল ৭টায় সুবর্ণ এঙপ্রেসের পর সাড়ে ৭টায় অথবা ৮টায় একটি ট্রেন চালু করা হলে প্রচুর যাত্রী হতো। সকালে ঢাকামুখী ট্রেনের যাত্রীদের ব্যাপক চাহিদা থাকে। এছাড়া পুরনো রেক নিয়ে ঢাকাগামী চট্টলা ট্রেনটি দীর্ঘদিন ধরে চলাচল করছে। নতুন বগি যেগুলো আসছে সেখান থেকে চট্টলা এঙপ্রেসে নতুন বগি লাগানো গেলে যাত্রী সেবার মান বাড়ত।
বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের জন্য ১৫০টি মিটারগেজ কোচ সরবরাহ করছে দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ কোম্পানি সুংশিন আরএসটি–পসকো ইন্টারন্যাশনাল। নতুন এই ১৫০টি কোচ ক্রয়ে ব্যয় হচ্ছে বাংলাদেশি টাকায় ৬৫৮ কোটি ৮১ লাখ ৩০ হাজার ৬৩ টাকা ৯০ পয়সা। প্রকল্পটি অর্থায়ন করছে দক্ষিণ কোরিয়ার এঙ্মি ব্যাংক।
আমদানিকৃত কোচগুলো স্টেইনলেস স্টিল বডি, বায়ো–টয়লেট সংযুক্ত, স্বয়ংক্রিয় এয়ার ব্রেক, স্বয়ংক্রিয় স্লাইডিং ডোরসহ অনেক আধুনিক সুবিধা এই যাত্রীবাহী ক্যারেজের প্রধান বৈশিষ্ট্য বলে জানান যান্ত্রিক বিভাগের প্রকৌশলীরা। ১৫০টি কোচের মধ্যে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্লিপিং বার্থ ৩০টি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চেয়ার কোচ ৩৮টি, শোভন চেয়ার ৪৪টি, খাবার গাড়িসহ শোভন চেয়ার কোচ ১৬টি, পাওয়ার গাড়িসহ শোভন চেয়ার কোচ ১২টি, খাবার গাড়ি একটি এবং পরিদর্শন গাড়ি একটি।












