কর্ণফুলীতে একটি বাসার গুদাম ঘরের মাটি খুঁড়ে ২ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা ও দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে র্যাব। এ সময় মোহাম্মদ আজম উদ্দিন চৌধুরী (২৬) ও মোহাম্মদ ছৈয়দ নুর প্রকাশ রুবেল হোসেন (৩০) নামে দুজনকে আটক করা হয়। গত শনিবার বিকালে র্যাবের একটি আভিযানিক দল কর্ণফুলী থানাধীন শাহমিরপুর বাদামতল এলাকার একটি বসত বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এসব ইয়াবা উদ্ধার করে ও দুজনকে আটক করে। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক মূল্য ৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা। আটককৃতদের কর্ণফুলী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে র্যাব-৭ এর চান্দগাঁও কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এমএ ইউসুফ। তিনি বলেন, আটককৃতরা দীর্ঘদিন যাবৎ সাগর পথে মিয়ানমার থেকে সরবরাহকারী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ইয়াবা সংগ্রহ করে পরবর্তীতে তা চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে খুচরা ও পাইকারি বিক্রি করে আসছিল।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল এমএ ইউসুফ বলেন, বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় টেকনাফ, উখিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, বিয়ারসহ বিভিন্ন মাদকের বিশাল চালান জব্দ করা হয়। সেখানে আটককৃত মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কর্ণফুলীর শাহমিরপুর বাদামতল এলাকার একটি বসতঘরে গত শনিবার অভিযান চালানো হয়। এ সময় ওই দুই মাদকের ডিলারকে
আটক করা হয়। পরে তাদের দেখানো মতে বসত ঘরের পাশে একটি গুদাম ঘরে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ২ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা এবং পানির নিচে বিশেষ কায়দায় পলিব্যাগের ভেতর লুকিয়ে রাখা ২টি ওয়ান শুটারগান ও ৪ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানায়, আসামি আজমকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, প্রায় ৫/৬ বছর পূর্ব হতে সে ইয়াবা ব্যবসার সাথে যুক্ত রয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় সে ইয়াবা ক্যারিয়ার বা সরবরাহের কাজ করতো। পরবর্তীতে ইয়াবার বড় চালান পেয়ে তার বসতবাড়ির টিনশেড বেস্টিত একটি ঘরের মধ্যে মাটিতে গর্ত করে মজুদ করে রাখতো। পরে সেগুলো থেকে খুচরা ইয়াবা ব্যবসায়ীদের নিকট ছোট ছোট প্যাকেটে করে সরবরাহ করতো।
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল মাহমুদ বলেন, র্যাবের হাতে আটক দুই ইয়াবা ব্যবসায়ীকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে।












