ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীর সচেতনতার উপর জোর দিয়েছেন সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশন কেবল বাড়ির বাইরে মশা মারতে পারে। তাই আমাদের নিজ নিজ বাসা বাড়ি, আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখতে হবে। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম ও সচেতনতামূলক প্রচারাভিযানের উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন মেয়র। গতকাল সকালে নাসিরাবাদ আবাসিক এলাকার পার্কের সামনে কীটনাশক ছিটিয়ে সপ্তাহব্যাপী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মেয়র। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের বর্জ্য স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর মোবারক আলী, মো. মোরশেদ আলম, হাজী নুরুল হক, হাসান মুরাদ বিপ্লব, আবদুস সালাম মাসুম, মো. শফিউল ইসলাম, সংরক্ষিত কাউন্সিলর জেসমীন পারভিন জেসী, চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল আলম, সচিব খালেদ মাহমুদ, ভারপ্রাপ্ত প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ও মেয়রের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মো. মোরশেদুল আলম আলম চৌধুরী, নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির সহ-সভাপতি মাহফুজুল হক চৌধুরী, মো. ইদ্রিস. সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর পারভেজ।
এ সময় মেয়র বলেন, এডিস মশা বাসাবাড়ির স্বচ্ছ পানিতে জন্মায়। তাই পানি জমিয়ে রাখা যাবে না। দেখা গেছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তদের বেশিরভাগই উচ্চবিত্ত বা উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেণীর। কারণ এডিস মশার জীবনাচরণ নালা, নর্দমায় জন্ম হওয়া কিউলেস মশার তুলনায় অন্য রকম। বৃষ্টি হলেই জমে থাকা পানিতে এই মশা সহজে বিস্তার লাভ করে। তিনি ছাদবাগান, এসি, ফ্রিজ, ফুলের টন, ডাবের খোসা, গাড়ির পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিক বোতল, ভাঙা বালতিতে যাতে তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে সে দিকে খেয়াল রাখার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। মেয়র আরো বলেন, ডেঙ্গুর বাহক দৃশ্যমান এডিস মশা নিধন করা সম্ভব। প্রয়োজনে আরো কঠোর অবস্থানে যাওয়া হবে। এডিসের উৎস খুঁজে পেলে দায়ি ব্যক্তিদের জেল জরিমানায় ছাড় দেওয়া হবে না। নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডের ঝোপঝাড় পরিষ্কার ও নালায় যেখানে মশার জন্ম হয় সেখানে ওষুধ ছিটানো হবে। প্রাপ্ত বয়স্ক মশা নিধনের জন্য এডালটিসাইড এবং মশার লার্ভা (ডিম) ধ্বংসের জন্য লার্ভিসাইড ওষুধ ছিটানো হবে বলে জানান তিনি।
মেয়র বলেন, এডিস মশা যেন বংশবৃদ্ধি করতে না পারে, ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়াসহ সকল মশা বাহিত রোগ প্রতিরোধে এই বিশেষ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি মশক নিধন কার্যক্রম চলমান থাকবে। এ ছাড়াও জনসচেতনতা সৃষ্টিতে রেডক্রিসেন্ট ও আরবান ভলানটিয়ারের মাধ্যমে নগরে এক লক্ষ লিফলেট বিতরণ এবং মাইকিং এর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দলের সুপারিশ করা ওষুধ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত ওষুধ আমরা ব্যবহার করছি। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন মশা নিধনে যেসব ওষুধ ব্যবহার করছে, সেগুলোর নমুনা আমরা সংগ্রহ করেছি। যাচাই-বাছাই করে সেই ওষুধ চট্টগ্রামেও ব্যবহার করা যায় কিনা সেটা আমরা দেখছি। যেসব ওষুধ অনুমোদিত সেগুলো আমরা ব্যবহার করছি।












