পথে পথে সৈন্য, অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে কলম্বো

সিঙ্গাপুরে যাওয়ার পর পদত্যাগপত্র পাঠালেন গোটাবায়া ।। আদালতে দেশ না ছাড়ার মুচলেকা দিলেন মাহিন্দা-বাসিল

আডাদী ডেস্ক | শুক্রবার , ১৫ জুলাই, ২০২২ at ৭:৩৬ পূর্বাহ্ণ

কলম্বোতে জারি হয়েছে কারফিউ। পথে পথে টহল দিচ্ছে সৈন্যরা। শৃঙ্খলা রক্ষায় বলপ্রয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে তাদের। পুলিশের সঙ্গে দাঙ্গা আর বিক্ষোভে উত্তাল শ্রীলঙ্কার রাজধানী এখন অনেকটাই শান্ত। এদিকে প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সরকারের দুই কর্মকর্তা। অর্থনেতিক সংকটে গণবিক্ষোভের মুখে সিঙ্গাপুরে পালিয়ে যাওয়ার পর গোটাবায়া এই পদত্যাগপত্র দিলেন। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী বাসিল রাজাপাকসে আদালতে তাদের আইনজীবীদের মাধ্যমে দেশ না ছাড়ার মুচলেকা দিয়েছেন। এই মুচলেকায় মাহিন্দা এবং বাসিল তাদের বিরুদ্ধে দাখিল হওয়া মৌলিক মানবাধিকার সংক্রান্ত আবেদনের শুনানি না হওয়া পর্যন্ত দেশ ছেড়ে না যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। শুক্রবার এই আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে শ্রীলঙ্কার ‘ডেইলি মিরর’ পত্রিকা।
বিডিনিউজের খবর থেকে জানা যায়, বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ভেতরে ও বাইরে অবস্থান নিয়েছেন, কেউ আবার সড়কের পাশে তাঁবু গেড়ে আসন পেতেছেন। বুধবার কলম্বোতে যে টালমাটাল পরিস্থিতি বিশ্ববাসী দেখেছে, গতকাল বৃহস্পতিবারের চিত্র তেমন নয়। থমথমে পরিস্থিতিতে ফের কোনো সহিংসতা যেন না ঘটে, সেজন্য সতর্ক রয়েছে সেনাবাহিনী। রয়টার্স জানিয়েছে, পরিস্থিতি শান্ত দেখালেও বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে এবং প্রধানমন্ত্রী (এখন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট) রনিল বিক্রমাসিংহের পদত্যাগের দাবিতে অপেক্ষা করছেন।
গোটাবায়ার পদত্যাগ : প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সরকারের দুই কর্মকর্তা। বৃহস্পতিবার রাতে শ্রীলংকার পার্লামেন্ট স্পিকারের কাছে ইমেইলে তিনি পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন বলে জানান ওই কর্মকর্তারা। তবে তারা বলছেন, গোটাবায়া সিঙ্গাপুরে পৌঁছানোর পরপরই ইমেইলের মাধ্যমে তার পাঠানো চিঠি এই পদ্ধতিতে গ্রহণযোগ্য হবে কিনা তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়।
শ্রীলংকায় জনরোষ থেকে বাঁচতে প্রথমে দেশ ছেড়ে মালদ্বীপে পালিয়ে যাওয়া গোটাবায়া রাজাপাকসে পরে সেখান থেকে পৌঁছান সিঙ্গাপুরে।
সিঙ্গাপুর সরকার বলেছে, গোটাবায়াকে ব্যক্তিগত সফরে সেখানে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তিনি সিঙ্গাপুরে অবস্থান করবেন, নাকি সেখান থেকে অন্য কোনো দেশে যাওয়ার চেষ্টা করবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, গোটাবায়া রাজাপাকসে রাজনৈতিক আশ্রয়ের কোনো আবেদন করেননি, তাকে রাজনৈতিক আশ্রয়ও দেওয়া হয়নি। সিঙ্গাপুর রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন সাধারণত অনুমোদন করে না।
আদালতে মাহিন্দা-বাসিলের মুচলেকা : শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী বাসিল রাজাপাকসে আদালতে তাদের আইনজীবীদের মাধ্যমে দেশ না ছাড়ার মুচলেকা দিয়েছেন। এই মুচলেকায় মাহিন্দা এবং বাসিল তাদের বিরুদ্ধে দাখিল হওয়া মৌলিক মানবাধিকার সংক্রান্ত আবেদনের শুনানি না হওয়া পর্যন্ত দেশ ছেড়ে না যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। শুক্রবার এই আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে শ্রীলঙ্কার ‘ডেইলি মিরর’ পত্রিকা। শ্রীলঙ্কার প্রধান বিচারপতি জয়ন্ত জয়সুরিয়ার নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ আবেদনটি নিয়ে শুনানি করবে।
মাহিন্দা রাজাপাকসে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসের বড় ভাই। তিনি গত মে পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী থাকার পর গণবিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করেন। আর বাসিল রাজাপাকসে হচ্ছেন গোটাবায়ার ছোট ভাই। গণ-আন্দোলনের মুখে মঙ্গলবার রাতে মালদ্বীপে পালিয়ে যান প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া। পরদিন সেখান থেকে সৌদিয়ার একটি ফ্লাইটে তিনি পৌঁছান সিঙ্গাপুরে। তার আগে বাসিলও মঙ্গলবার গোপনে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। বাসিলের দেশ ছাড়ার এই চেষ্টার পরই সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দাখিল হয়েছে। শ্রীলংকার চরম অর্থনৈতিক সঙ্কটের জন্য বাসিলকেই ব্যাপকভাবে দায়ী বলে মনে করা হচ্ছে।
ওদিকে, কলোম্বোয় সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় তদন্তের জন্য গত মে মাসে শ্রীলংকার বাইরে মাহিন্দা রাজাপাকসের ভ্রমণ নিষিদ্ধ করেছিল আদালত। এবার মাহিন্দার ছেলে নামাল রাজাপক্ষেও জানান, তার বাবা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাবেন না। মাহিন্দা পদত্যাগ করার পর থেকে দেশের ত্রিঙ্কোমালি নৌ ঘাঁটিতে সুরক্ষিত অবস্থায় থাকছেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমহেশখালীতে ডাম্পার চাপায় শিশু নিহত সড়ক অবরোধ
পরবর্তী নিবন্ধডলার সাশ্রয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৩ নির্দেশনা