টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রী চুমকি কারনের অবৈধ সম্পদ অর্জন মামলায় সাফাই সাক্ষ্য শেষ হয়েছে। প্রদীপ-চুমকির মনোনীত দুজন ব্যক্তির সাফাই সাক্ষ্যদানের মাধ্যমে এ কার্যক্রম শেষ হয়। এরা হলেন বোয়ালখালী উপজেলার সারোয়াতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন ও মেম্বার আব্দুল জলিল। গতকাল চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ মুন্সী আব্দুল মজিদের আদালত তাদের সাফাই সাক্ষ্য রেকর্ড করেন এবং আগামী ২০ জুন যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন।
এর আগে গত ৬ জুন প্রদীপ-চুমকিকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় পরীক্ষা করে আদালত। এ সময় তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। তারও আগে ২৯ মে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে আসামি পক্ষের আইনজীবীর জেরা করার মাধ্যমে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম শেষ হয়। চার্জগঠন পরবর্তী মোট সাক্ষ্য দিয়েছেন ২৪ জন। দুদকের এ মামলায় শুরু থেকে পলাতক থেকে ২৩ মে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করেন প্রদীপের স্ত্রী চুমকি কারন। আদালত আবেদন নাকচ করে ওইদিন তাকে কারাগারে পাঠায়। অন্যদিকে মামলার প্রধান আসামি প্রদীপ কুমার দাশকে ঘটনার পর থেকে কারাগারে আছেন। টেকনাফের মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গেলে পরে এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
আদালত সূত্র জানায়, ২০২০ সালের ২৩ আগস্ট দুদক চট্টগ্রাম কার্যালয়-২ এর উপ-সহকারী পরিচালক রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে প্রদীপ ও চুমকির বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে প্রায় ৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। মামলাটির তদন্তও করেন তিনি। তদন্ত শেষে গত বছরের ২৮ জুলাই প্রদীপ-চুমকির বিরুদ্ধে আদালতে তিনি চার্জশিট দাখিল করেন।
চার্জশিটে বলা হয়, সম্পদ বিবরণীতে ৪৯ লাখ ৫৮ হাজার ৯৫৭ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করে মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং ২ কোটি ৩৫ লাখ ৯৮ হাজার ৪১৭ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অর্জন এবং হস্তান্তরের অপরাধ করেছেন প্রদীপ-চুমকি। নগরীর পাথরঘাটায় একটি ছয়তলা বাড়ি, ষোলশহরে সেমিপাকা ঘর, ৪৫ ভরি সোনার গয়না, একটি করে কার ও মাইক্রোবাস এবং কঙবাজারে ফ্ল্যাট রয়েছে প্রদীপের, অভিযোগপত্রে এসব উল্লেখ করা হয়।












