আমদানি ব্যয় সংকোচনে বিদেশি ফল, ফুল, আসবাবপত্র ও প্রসাধন জাতীয় ১৩৫ পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক (আরডি) করেছে সরকার। শুল্ক জেরে বেড়েছে বিদেশি ফলের বাজার। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এমনিতেই আমদানি ব্যয় বেড়ে গেছে। এরমধ্যে এখন আবার বিদেশি ফলের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে সরকার। স্বাভাবিকভাবে ফলের দাম বেড়ে যাবে।
গতকাল বুধবার নগরীর ফলের কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে জানা গেছে, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আমদানিকৃত আপেল বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা। এছাড়া ভারতীয় আপেল বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকায়। এছাড়া মিশরের মাল্টা বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা, কমলা বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ টাকা, আনার বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা এবং আঙ্গুর বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকায়। এসব ফলের ক্ষেত্রে গত একদিনে দাম বেড়েছে কেজিতে সর্বনিম্ন ৩০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭০ টাকা পর্যন্ত।
নগরীর ফলমণ্ডির আড়তদার ইসমাইল হোসেন দৈনিক আজাদীকে বলেন, ফলের বাজার গত কয়েক মাস ধরে চাঙা। এরমধ্যে ব্যাংকে এলসি পরিশোধ করতে হচ্ছে প্রতি ডলারের ৯৪-৯৫ টাকায়। এখন আবার সরকার ফল আমদানিতে ২০ শতাংশ শুল্ক বাড়িয়েছে। এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে বাড়তি জাহাজ ভাড়া গুণে আসছি। ১ হাজার ডলারের ভাড়া এখন তিন হাজার ডলার। তার উপর হিমায়িত কন্টেনারে ফল রাখতে হয়। আমরা বন্দরে বেশিদিন পণ্য রাখতে পারি না। বাড়তি সময় রাখলে তিনগুণ বাড়তি ভাড়া গুণতে হয়। সব মিলিয়ে ফল আমদানি করে লাভ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
উল্লেখ্য, আমদানি ব্যয় সংকোচন এবং ডলার সাশ্রয়ে আসবাবপত্র ও আসবাবের কাঁচামাল, গাড়ি ও গাড়ির ইঞ্জিন, যন্ত্রাংশ, রড ও লোহাজাতীয় পণ্য, সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামাল ফ্ল্যাই অ্যাশ, বিদেশি ফল, চাল, প্রসাধনসামগ্রী এবং বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যে নিয়ন্ত্রমূলক শুল্ক আরোপ করেছে এনবিআর। এরমধ্যে ২০ শতাংশ হারে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে কাঠ ও লোহার আসবাব এবং আসবাবের কাঁচামাল, পিকআপ ও ডাবল কেবিন পিকআপ ভ্যানে ২০ শতাংশ এবং গাড়ির ইঞ্জিনে ১৫ শতাংশ। এছাড়া টায়ার, রিম ইত্যাদির ওপর ৩ থেকে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হয়েছে। নির্মাণসামগ্রীর কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত রড, বিলেট ইত্যাদির উপর ৩ থেকে ১০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক বসেছে। সিমেন্ট খাতের অন্যতম কাঁচামাল ফ্লাই অ্যাশ আমদানিতে ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক বসানো হয়েছে।
অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, আর্গন, প্রাথমিক চিকিৎসাসামগ্রী আমদানি করতেও ১৫ শতাংশ হারে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক বসানো হয়েছে। ফাইবার অপটিক ও বিভিন্ন ধরনের তারে ৩ থেকে ১০ শতাংশ হারে শুল্ক বসেছে। আপেল, আঙুর, লেবুজাতীয় ফল, কলা, ডুমুর, আনারস, পেয়ারা, আম, অ্যাভোকাডো, তরমুজ, নানা জাতের বাদাম আমদানিতেও ২০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। অপরদিকে শেভিং ক্রিম, আফটার শেভ লোশন, সানস্ক্রিন, চুলে ব্যবহৃত রঙ বা বিভিন্ন প্রসাধনী, পারফিউম ও বডি স্প্রেসহ বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী আমদানিতেও ২০ শতাংশ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করেছে এনবিআর। নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপের জেরে অন্যান্য পণ্যে এখনো প্রভাব পড়া শুরু না হলেও বিদেশি ফলের দাম বেড়েছে কেজিতে ৩০ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত।












