সীতাকুণ্ডে হিমাগার নির্মাণের দাবি

সংরক্ষণের অভাবে মূল্য পাচ্ছেন না কৃষক

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি | মঙ্গলবার , ২২ মার্চ, ২০২২ at ৮:২২ পূর্বাহ্ণ

শীতকালীন সবজি সংরক্ষণের অভাবে সীতাকুণ্ড উপজেলার ২৪ হাজার কৃষক হতাশা প্রকাশ করছেন। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের কোনো হিমাগার না থাকায় হিমাগারের অভাবে কৃষকরা তা সংরক্ষণ করতে পারছেন না। ফলে ভরা মৌসুমেও কম মূল্যে সবজি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। উৎপাদিত কৃষিপণ্য সংরক্ষণে সরকারের কাছে হিমাগার নির্মাণের দাবি তাদের।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্র জানায়, উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা এলাকায় দুই হাজার সাতশ’ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়। এতে ২৪ হাজার কৃষক সবজি চাষ করেন। উৎপন্ন হয়েছে বেগুন, মুলা, টমেটো, বরবটি, শসা, লাউ, কুমড়া, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ক্ষীরাসহ বিভিন্ন জাতের প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন সবজি। এছাড়া প্রায় দুই হাজার আটশ’ হেক্টর জমিতে শিমের চাষ করা হয়। উপজেলার সৈয়দপুর, বারৈয়াঢালা ও মুরাদপুর ইউনিয়ন এবং সীতাকুণ্ড পৌরসভার কৃষকেরা বিভিন্ন জাতের শীতকালীন ফসল উৎপাদন করে থাকে। এবারে প্রতিটি এলাকায় ফসলের ভালো ফলন হয়েছে। এছাড়া সীতাকুণ্ডের শতাধিক একর পাহাড়ি এলাকায়ও সবজির ভালো ফলন হয়েছে। উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের প্রায় ১৫ কিলোমিটার পাহাড়ি এলাকার ঢালু জমিতে স্থানীয় কৃষকরা সবজি চাষ করেছে।
সৈয়দপুরের শেখের হাট, জাফরনগর, মীরের হাটসহ বিভিন্ন এলাকার কয়েকজন কৃষক জানান, কীটনাশক ও সারের মূল্যে বৃদ্ধির পরও আশা নিয়ে চাষ করেছেন তারা। কিন্তু বাজারমূল্য না পাওয়ায় তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন। ফলন ভালো হওয়ায় বাজার এখন সব ধরনের সবজিতে ভরপুর। যার কারণে ক্রেতাদের কাছে কমমূল্যে বিক্রি করতে হচ্ছে। অন্যদিকে ফসল ভালো উৎপাদন হলেও সংরক্ষণের অভাবে অধিকাংশ সবজি মাঠেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। হিমাগারের অভাবে কৃষকরা তা সংরক্ষণ করতে পারছেন না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ জানান, উপজেলার সমতল ভূমির পাশাপাশি বিস্তীর্ণ পাহাড়ি অঞ্চল সবজি চাষের উর্বর জায়গা। এখানকার মাটি সবজি চাষের জন্য প্রকৃতির তৈরি ক্ষেত্র। ফলে একটু যত্ন নিলেই এখানে সবজির ভাল ফলন পাওয়া যায়। এসব কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য হিমাগার নির্মাণ হলে কৃষকরা সরাসরি বিক্রির সুযোগ পেত এবং সারাবছর আয় করার সুযোগ পেতেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন জানান, সীতাকুণ্ড উপজেলায় কৃষকদের উৎসাহিত করতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণসহ নানা ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। এখানকার কৃষকরা পণ্য সরাসরি বিক্রির সুযোগ পেলে অথবা হিমাগার নির্মাণ হলে সারাবছর তারা আয় করার সুযোগ পেতেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে প্রথম ইয়াবা তৈরির কাঁচামাল উদ্ধার
পরবর্তী নিবন্ধমালয়েশিয়া নেওয়ার কথা বলে নামিয়ে দিল সোনাদিয়া দ্বীপে