ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের পর থেকে ঘরে-বাইরে ক্রমশ চাপ বাড়ছে রাশিয়ার ওপর। নানা রকম নিষেধাজ্ঞা জারি করে ঘরের চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও আন্তর্জাতিক চাপ যেন ক্রমেই পাহাড়সমান হচ্ছে। গত ১০ দিনেই নিষেধাজ্ঞার বহরে ইরান এবং উত্তর কোরিয়াকে ছাড়িয়ে শীর্ষে পৌঁছেছে রাশিয়া। গতকাল সর্বশেষ রাশিয়ার তেল, গ্যাস ও কয়লা আমদানির উপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ, উত্তরাঞ্চলীয় শহর চেরনিহিভ, উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় সুমাই, দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভ ও বন্দরনগরী মারিওপল থেকে বেসামরিক লোকজনকে সরিয়ে নিতে মানবিক করিডোর খুলে দেওয়া হয়েছে বলে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সুইজারল্যান্ড। ৫৬৮টি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে তারা। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ৫১৮টি। অন্য দিকে ফ্রান্স ৫১২টি এবং আমেরিকা ২৪৩টি নিষেধাজ্ঞা জারি করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গতকাল মঙ্গলবার নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বলে জানায় বিবিসি। বাইডেন বলেন, ‘এই নিষেধাজ্ঞার অর্থ আমেরিকার লোকজন পুতিনের নেতৃত্বকে আরেকটি বড় ধাক্কা দেবে। আমরা পুতিনের যুদ্ধে ভর্তুকি দিব না।’
বাইডেন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের মূল্য আকাশ ছুঁতে পারে। তারপরও রাশিয়ার বিরুদ্ধে তার এ ব্যবস্থা রাজনৈতিকভাবে সব দলের সমর্থন পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্ত আসতে পারে এমন সম্ভাবনা থেকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আগেই বেড়ে গেছে এবং অপরিশোধিত তেলের দাম ৫ শতাংশ বেড়ে গিয়ে ব্যারেল প্রতি ১৩০ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। সেটা দ্বিগুণের বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৩০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে হুঁশিয়ার করছে রাশিয়া।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন অবশ্য এখনই যুক্তরাষ্ট্রের মত এত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে না। এর আগে পশ্চিমারা মস্কোর তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে জার্মানিতে মূল পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয় রাশিয়া। তাদের উপপ্রধানমন্ত্রী আলেঙান্ডার নোভাক বলেছেন, ‘রাশিয়ার তেলের ওপর অবরোধ আরোপ করা হলে আন্তর্জাতিক বাজারে এর ধ্বংসাত্মক প্রভাব পড়বে।’ ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের গ্যাসের ৪০ শতাংশ এবং তেলের ৩০ শতাংশের যোগান পায় রাশিয়া থেকে। এই সরবরাহ হঠাৎ বন্ধ করা হলে সহসাই কোনো বিকল্প উৎস থেকে যোগান দেওয়া সম্ভব না। সে কথা তুলে ধরে রুশ উপপ্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক বক্তৃতায় বলেন, ‘ইউরোপের বাজারে রাশিয়ার তেলের একটি বিকল্প দ্রুত খুঁজে বের করা অসম্ভব। এটা করতে অনেক সময় দরকার, এবং ইউরোপের ভোক্তাদের জন্য এটা অনেক বেশি ব্যয়সাপেক্ষ হবে। শেষ পর্যন্ত, এর ফলাফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে তারাই।’












