ভোরের কনকনে হিমেল হাওয়া ইতোমধ্যেই শীতের আগমনীর জানান দিয়েছে। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে শীতের অনূভূতি একটু বেশি। ভোররাতে শীতের প্রকোপ বাড়ার কারণে কম্বলের সাথে মানুষের সখ্যতাও দীর্ঘায়িত হচ্ছে। শীত মোকাবেলায় তাই নগরবাসী উষ্ণ কাপড় কিনতে মার্কেটে মার্কেটে ঢুঁ মারছেন। ফুটপাত থেকে শুরু করে অভিজাত বিপণী বিতান সবখানে এখন ব্যবসায়ীরা শীতের কাপড়ের পসরা সাঁজিয়ে রেখেছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, সাধারণত মার্কেটে ঈদ এবং শীত মৌসুমের ওপর ব্যবসায়ীদের পুরো বছরের বেচাকেনা অনেকাংশে নির্ভর করে। গত বছরের মতো এ বছরও করোনা পরিস্থিতির কারণে ঈদ মৌসুমে ব্যবসায়ীরা কাঙ্ক্ষিত বেচাবিক্রি করতে পারেননি। তাই এবার শীতের বাজারের দিকেই সবার দৃষ্টি রয়েছে। নগরীতে শীত এখনো ওই অর্থে শুরু হয়নি। তবে বিভিন্ন উপজেলা থেকে পাইকারী ও খুচরা ক্রেতা শীতের কাপড় কিনতে ছুটে আসছেন।
গতকাল নগরীর কয়েকটি মার্কেটে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, মধ্যবিত্তদের মার্কেট নামে খ্যাত জহুর হকার্স মার্কেটে শীতের কাপড়ে জমজমাট বিকিকিনি চলছে। একই অবস্থা দেখা গেছে, রিয়াজউদ্দিন বাজার ও তামাকুমণ্ডি লেইনেও। এছাড়া নিম্নবিত্ত শ্রেণীর মানুষরা ফুটপাতে ভিড় করছেন। নিউমার্কেট এলাকার ফুটপাতে শীতের কাপড় কিনতে আসা দিনমজুর আলী হোসেন বলেন, আমি লালখান বাজার এলাকার একটি বস্তিতে থাকি। নিজে কষ্ট করে শীত সহ্য করলেও ছেলে-মেয়ের কষ্ট তো আর সহ্য করতে পারি না। তাই গরম কাপড় কিনতে ছুটে এসেছি। রিয়াজউদ্দিন বাজারে আসা ক্রেতা ঈশিতা সুলতানা জানান, রিয়াজউদ্দিন বাজারে অনেক আনকমন কালেশনের দেখা মেলে। কিছুদিন আগেও এখান থেকে একটি সোয়েটার কিনেছিলাম। আজ (গতকাল) আবার এসেছি। পছন্দ হলে আরেকটি নিবো। ব্যবসায়ী মোজাম্মের হক জানান, শীতকে কেন্দ্র করে প্রত্যেক ব্যবসায়ীরা বাহারি ডিজাইনের শীতবস্ত্র নিয়ে এসেছেন। মার্কেটে ক্রেতা সমাগমও আগের তুলনায় বাড়ছে। একদিন পরই ডিসেম্বর মাস। শীতের বাজার নির্ভর করে প্রধানত ডিসেম্বর মাসের ওপর। অন্যদিকে তামাকুমণ্ডি লেইন মার্কেটে ব্যবসায়ী মো. আতাউর রহমান জানান, মার্কেটের শীতের কাপড় ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়ছে। এটি আমাদের তৃপ্তির। একইসাথে আমাদের মনে ভয়ও কাজ করছে। শুনছি, এখন করোনার একটি নতুন ভ্যারিয়েন্ট ধরা পড়েছে। এটি আমাদের দেশে আসলে তখন আবার সমস্যা পড়ে যাবো মনে হচ্ছে।
জহুর হকার্স মাকেট ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফজলুল আমিন দৈনিক আজাদীকে বলেন, সব ধরণের ক্রেতাদের অন্যতম ভরসাস্থল জহুর হকার্স মার্কেট। গত দুই বছর আমরা করোনার ভাইরাসের কারণে ঈদের প্রত্যাশিত বেচাবিক্রি করতে পারিনি। তাই ব্যবসায়ীরা এ বছরও শীতের মার্কেটের দিকে তীর্থের কাকের মতো তাকিয়েছিলেন। তবে এখন ধীরে ধীরে বেচাবিক্রি বাড়ছে। শীতকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীরাও দারুণ দারুণ সব কালেকশন নিয়ে এসেছেন। এখানে রপ্তানিমুখী গার্মেন্টসেরও অনেক পণ্যের পাশাপাশি বিদেশী বেশ কিছু শীতবস্ত্রও নিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে মার্কেটে ক্রেতারা দেখে শুনে পছন্দে কাপড় কিনতে পারছেন। মার্কেটে শুধু যে মধ্যবিত্তরা আসেন তা কিন্তু নয়। অনেক উচ্চবিত্তদেরও দেখা যায় জহুর হকার্স মার্কেটে এসে কেনাকাটা করছেন। এছাড়া মার্কেটের আশপাশে বিশেষ ফুটপাতগুলোতেও রয়েছে বাহারি শীতকালীন কাপড়ের সমাহার।












