বাঁশখালীর দক্ষিণ ছনুয়ার খোরশেদ আলী চৌধুরী পাড়া এলাকায় বেড়িবাঁধের স্লুইচ গেট দিয়ে পানি বণ্টন নিয়ে দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের জেরে কয়েক শতাধিক লবণ চাষি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। এক পক্ষ পানি সেচের মাধ্যমে লবণ উৎপাদনের চেষ্টা করলেও প্রতিপক্ষ ছনুয়া খাল থেকে জোয়ারের পানি নিষ্কাশন স্লুইচ গেট বন্ধ করে অর্থের মাধ্যমে সরবরাহ করার উদ্যোগ নেওয়ায় চলতি মৌসুমে লবণ উৎপাদন বন্ধ হওয়ার আশংকা করছেন কৃষকরা। এ নিয়ে স্থানীয় লবণ চাষি ও পক্ষ বিপক্ষে অবস্থানকারীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এতে চলতি মৌসুমে লবণ চাষ হয় কিনা তা নিয়েও সন্দেহ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছনুয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের শেলবন এলাকায় পান্নি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন নির্মিত ৪নং স্লুইচ গেটটি দীর্ঘদিন ধরে এক পক্ষ কৃষকদের সাথে নিয়ে ব্যবহার করে আসছিল। স্লুইচ গেটের সংস্কার দেখিয়ে অপর একটি পক্ষ টাকা দাবি করলে দ্বন্দ্বের শুরু হয়।
স্থানীয়রা জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন সরকারি স্লুইচ গেটটিতে স্থানীয় মকলেছুর রহমান চৌধুরী টিপু মিয়া এক সময় পানি নিষ্কাশনের দায়িত্বে ছিলেন। তার মৃত্যুর পর ছনুয়ার সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল হক চৌধুরীর পরিবারের লোকজন দায়িত্ব নেন। বর্তমানে এ স্লুইচ গেটের পানি নিষ্কাশন নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। লবণ চাষি মহিউদ্দিন বাদশা, মোহাম্মদ সেলিম, আব্দুর রহমান, খোরশেদ আলম জানান, পৈত্রিকভাবে ৫০-৬০ বছর ধরে ছনুয়া খাল থেকে স্লুইচ গেটের মাধ্যমে মেশিন বসিয়ে লবণ চাষ করা হত। বর্তমানে পক্ষ বিপক্ষ হওয়ায় লবণ চাষিরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। এক কানি জমি চাষ করতে পানির মূল্য ১ হাজার টাকা ও লবণ বিক্রিতে প্রতি মণ ৫ টাকা দাবি করছে একটি পক্ষ। এ নিয়ে এলাকায় বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। আগাম লাগিয়ত ১ কানি জমি ২০ হাজার টাকা, পলিথিন ৬ হাজার টাকা, শ্রমিক ৪ হাজার টাকা নিয়ে লবণ চাষ করতে হচ্ছে। কিন্তু পানি সমস্যা প্রকট আকারে দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে ছনুয়ার সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল হক চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের সাথে সমন্বয় করেই পানি সরবরাহ করা হয়। সম্প্রতি কিছু লোক এটা নিয়ে নানাভাবে জনগণকে বেকায়দায় ফেলছে।
ইউপি সদস্য নুরুল আবছার বলেন, লবণ চাষিরা চলতি মৌসুমে মাঠে নামতে পারবেন কিনা জানি না। এখানে দুই পক্ষ হয়ে গেছে। এক পক্ষ রাতের অন্ধকারে গুলি ছুড়ে হুমকি দিচ্ছে। ছনুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. হারুনুর রশিদ বলেন, স্লুইচ গেট নিয়ে সুবিধা অসুবিধা আমার নজরে রয়েছে। এক সময় টিপু মিয়া পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা দেখতেন। এখন রেজাউল হকের লোকজন দেখাশুনা করেন। এখানে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। লবণ চাষিরা চাষ করতে পারবেন। কোনো সমস্যা যাতে না হয় তার জন্য তিনি স্থানীয় জনগণকে সাথে নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান। এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী প্রকাশন চাকমা বলেন, ছনুয়া ৪নং ওয়ার্ডের স্লুইচ গেট দিয়ে পানি নিষ্কাশন নিয়ে বিরোধের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইচ গেট কোনো ব্যক্তি নিজ স্বার্থে ব্যবহার করে ফায়দা হাসিল করতে পারবেন না বলেও তিনি জানান ।












