চবির চার গবেষক সংবর্ধিত

করোনার জিনোম সিকুয়েন্স উন্মোচন

চবি প্রতিনিধি | বুধবার , ৬ জানুয়ারি, ২০২১ at ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ

করোনা ভাইরাসের জিনের বিন্যাস উন্মোচনে সফলতার জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) চার গবেষককে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এই সংবর্ধনা দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলার করোনার জিনোম সিকুয়েন্স করেন তারা। সংবর্ধিত গবেষকরা হলেন, বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও চবি প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া, উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক রাসেল এবং মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক ও ড. এইচ এম আবদুল্লাহ আল মাসুদ। এছাড়া গবেষণার সাথে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান উপাচার্য।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হল জ্ঞান-গবেষণার উন্মুক্ত চারণভূমি। এই চারণভূমিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অদম্য গতিতে এগিয়ে চলছে। এ ধারা অব্যাহত রাখতে ও এই বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের শীর্ষ স্থানীয় বিদ্যাপীঠে পরিণত করতে সকলকে আরও আন্তরিক ভূমিকা পালন করতে হবে। অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত গবেষক ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া ও ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক রাসেল করোনা ভাইরাসের জিনোম সিকুয়েন্স (জিনের বিন্যাস) উন্মোচনের আদ্যোপান্ত তুলে ধরেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর এসএম মনিরুল হাসানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চবি সিনেট সদস্য প্রফেসর ড. মো. দানেশ মিয়া, ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদর ডিন প্রফেসর ড. রাশেদ মোস্তফা, জীব বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কামরুল হোসাইন, সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্ট প্রফেসর মাইনুল হাসান চৌধুরী প্রমুখ।
উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসের জিনোম সিকুয়েন্সে পাঁচটি নতুন মিউটেশন পাওয়া গেছে এ গবেষণায়। দেশে অন্যান্য সিকুয়েন্সের তুলনায় এ পাঁচটি প্রথম শনাক্ত করা হয়েছে। মিউটেশন গুলো হলো- এস১৫৫আই (১টি নমুনায় প্রাপ্ত), এন৩৫৪এস (১টি), এস৪৭৭এন (১টি), পি৬৮১এইচ (১টি), এবং ভি১১২২এল (১টি)। এদের মধ্যে পি৬৮১এইচ মিউটেশনটি সামপ্রতিক সময়ে যুক্তরাজ্য পাওয়া নতুন ভাইরাসের কয়েকটি মিউটেশনের একটি। তবে এ মিউটেশনে ভাইরাসটি আক্রান্তের সক্ষমতা কতটুকু তা নিয়ে গবেষণা করার দরকার আছে বলে মনে করছেন গবেষকরা। এছাড়া বিভিন্ন জিনের ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় মোট ৮৬টি নিউক্লিওটাইড পরিবর্তন হলেও অ্যামিনো এসিডে বা মিউটেশনে কোনো পরিবর্তন হয়নি। সবগুলো মিউটেশন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৫টি মিউটেশন চট্টগ্রামে ব্যাপকভাবে বিস্তার করেছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচসিক নির্বাচনে কারচুপি হলে আন্দোলন : শামীম
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রাম লায়ন্স ফাউন্ডেশনের নতুন কমিটি