বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত রোববার নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় চট্টগ্রামকে ঘিরে নানা উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন করে ইপিজেডের সংখ্যা বৃদ্ধি করা। তারেক রহমান বলেন, এই অঞ্চলের মানুষের একটি বড় দাবি আছে। যে দাবিটির ব্যাপারে বিগত বিএনপি সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল, কিন্তু সম্পন্ন করতে পারেনি। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু সময়ের অভাবে সম্পূর্ণ করে যেতে পারেননি। আমরা দেখেছি, বিগত ১৫ বছরে এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ কেউ গ্রহণ করেনি। এই উদ্যোগ যদি গ্রহণ করা হয়, তাহলে শুধু এই চট্টগ্রামের মানুষ নয়, সমগ্র চট্টগ্রামসহ সারা দেশে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে। সারা দেশে ব্যবসা–বাণিজ্য অনেক চাঙ্গা হবে, মানুষের কর্মসংস্থান হবে। মানুষ চাকরি ও ব্যবসা–বাণিজ্য করে খেতে পারবে। কী সেটি? বাণিজ্যিক রাজধানী। তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে আপনাদের সমর্থনে বিএনপি সরকার গঠনে সক্ষম হলে, খালেদা জিয়ার সেই উদ্যোগ যত দ্রুত সম্ভব আগামী বিএনপি সরকার সেটিকে বাস্তবায়ন করবে। যাতে এই এলাকার মানুষ ব্যাংকিং সুবিধাসহ সকল কিছু এখানে বসেই সেরে নিতে পারে।
তারেক রহমান কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে নগরে নতুন করে ইপিজেড করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে ইপিজেড আছে এবং চট্টগ্রামের বহু মানুষ এই ইপিজেডে চাকরি করার মাধ্যমে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। এখানে কেইপিজেড আছে। কেইপিজেড এবং বাকি যে ইপিজেডগুলো আছে এই সবগুলো কোন সময় হয়েছিল আপনাদের নিশ্চয়ই ধারণা আছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সময় হয়েছিল। ইনশাআল্লাহ বিএনপি সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমরা এই ইপিজেডের সংখ্যা বৃদ্ধি করব। কেইপিজেডের মতন আরো ইপিজেড আমরা তৈরি করব, যাতে আরো লক্ষ লক্ষ তরুণের কর্মসংস্থান হয়।
ইতোপূর্বে আমরা লিখেছিলাম, ‘চট্টগ্রামকে আন্তর্জাতিক মানের বাণিজ্যিক রাজধানী করতে হলে দীর্ঘমেয়াদি ভিশন দরকার। সরকার, সিটি করপোরেশন, বন্দর, সিডিএসহ সব সংস্থাকে একই লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।’ এছাড়া চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে কার্যকর নগর সরকার প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি বলেছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা ঢাকাকেন্দ্রিক হয়ে পড়ায় চট্টগ্রামসহ অন্যান্য অঞ্চল ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়েছে। এ কেন্দ্রীভবনের ফলেই প্রশাসনিক সমন্বয় দুর্বল হয়েছে ও উন্নয়ন সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আমাদের অজান্তেই সবকিছু ঢাকাকেন্দ্রিক হয়ে গেছে। রাজনৈতিক ক্ষমতা যেখানে কেন্দ্রীভূত হয়, অর্থনৈতিক ক্ষমতাও স্বাভাবিকভাবেই সেদিকে চলে যায়। চট্টগ্রামে নগর সরকার না থাকায় বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় হচ্ছে না। চীনের সাংহাই শহরের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘সেখানে নগর সরকার থাকায় মেয়রের নেতৃত্বে সব সংস্থার কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালিত হয়। চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করতে হলে একই ধরনের বিকেন্দ্রীকরণ জরুরি। ঢাকায় না গিয়ে কীভাবে কাজ করা যায়, সেটার একটি তালিকা করলেই অনেক সমস্যার সমাধান হবে। ব্যাংক ঋণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের জন্য এখনো ঢাকায় গিয়ে তদবির করতে হয়। এতে ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে ঢাকাকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছেন। ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ হলে স্থানীয় সরকার শক্তিশালী হবে, আমলাতন্ত্র দুর্বল হবে ও জনগণের ক্ষমতা বাড়বে। আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো চট্টগ্রামের উপকূলীয় সুবিধা অনন্য। দেশের অন্য কোনো অঞ্চলে এমন প্রাকৃতিক সুবিধা নেই। কিন্তু পরিকল্পনার অভাবে সেই সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।’ বিশেষজ্ঞরা রেল, সড়ক ও নদীপথের সমন্বয়ে বহুমাত্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা বলেন, ‘রাষ্ট্র যতক্ষণ না চট্টগ্রামকে ধারণ করবে, ততক্ষণ চট্টগ্রাম বাণিজ্যিক রাজধানী হবে না।’ উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণার পাশাপাশি কিছু সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সরকারগুলো সেগুলোর বাস্তবায়ন করেনি। বিশেষজ্ঞরা বলেন, চট্টগ্রামকে অবহেলিত রেখে বাংলাদেশের উন্নয়ন কখনো সম্ভব নয়। চট্টগ্রামকে দেশের দ্বিতীয় রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে যা যা করণীয় তাই করা দরকার।







