আমেরিকার সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বেসরকারি উদ্যোগেও আমদানি বেড়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কারোপের ধাক্কা সামলাতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি আমদানিকারকেরাও নানা পণ্য আমদানি করছেন। এরই অংশ হিসেবে দীর্ঘ আট বছর পর আমেরিকা থেকে প্রায় ১৭৮ কোটি টাকার ৫৮ হাজার টন ভুট্টা আমদানি করা হয়েছে। ২০১৮ সালের পর প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভুট্টা আমদানি করা হয়। গতকাল আমেরিকার ভুট্টা চট্টগ্রাম বন্দরে খালাস শুরু হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশের তিনজন বেসরকারি আমদানিকারকের আমদানিকৃত ৫৮ হাজার টন ভুট্টা নিয়ে আমেরিকার ওয়াশিংটনের ভ্যাঙ্কুভার বন্দর থেকে ‘এমভি বেলটোকিও’ নামের মাদার ভেসেলটি গত ৩১ ডিসেম্বর বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে। নানা আনুষ্ঠানিকতা শেষে গতকাল লাইটারেজ জাহাজ থেকে ভুট্টা খালাস শুরু হয়। কনফিডেন্স সিমেন্ট ঘাটে মার্কিন ভুট্টার এই চালানকে স্বাগত জানাতে চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের কৃষি–বিষয়ক প্রতিনিধি এরিন কোভার্ট। তিনি আমদানিকারক ও সরবরাহকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা, সাউথ ডাকোটা ও মিনেসোটায় উৎপাদিত প্রায় ৫৮ হাজার মেট্রিক টন ভুট্টা নিয়ে আসা হয়েছে এই চালানে। বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় তিন পশুখাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নাহার এগ্রো গ্রুপ, প্যারাগন গ্রুপ এবং নারিশ পোল্ট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেড যৌথভাবে এই চালানটি আমদানি করেছে। এর মধ্যে নারিশ ২৯ হাজার টন, প্যারাগন ১৯ হাজার টন এবং নাহার এগ্রো ১০ হাজার টন ভুট্টা আমদানি করেছে। পণ্যগুলো চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থানরত মাদার ভ্যাসেল থেকে কর্ণফুলীর বিভিন্ন ঘাটের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ এবং নোয়াপাড়ায়ও খালাস করা হবে।
সূত্র জানিয়েছে, আমেরিকায় এবার প্রচুর ভুট্টা উৎপাদিত হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় আমেরিকা বিভিন্ন দেশে ভুট্টা রপ্তানির জন্য চেষ্টা করছে। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশের মার্কিন দূতাবাস এই ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেয়। দূতাবাসের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পশু খাদ্য প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করে তাদের উন্নতমানের ভুট্টা কেনার জন্য উৎসাহিত এবং প্রয়োজনীয় সুবিধা দেয়ার আশ্বাস দেয়। এরই প্রেক্ষিতে দেশের তিনটি শীর্ষস্থানীয় পশুখাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ভুট্টা আমদানির উদ্যোগ নেয়। প্রতিটন ভুট্টার দাম পড়ে ২৪৬ ডলার। বাংলাদেশ সরকারও আমেরিকা থেকে ভুট্টা আমদানির ব্যাপারে সহযোগিতা এবং উৎসাহিত করে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ব্রাজিল থেকে ভুট্টা আমদানিকারকেরা দীর্ঘ আট বছর পর পুনরায় আমেরিকা থেকে ভুট্টা আমদানি শুরু করে।
নাহার এগ্রো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রকিবুর রহমান টুটুল গতকাল দৈনিক আজাদীর সাথে আলাপকালে বলেন, ভুট্টা দিয়ে আমরা গবাদি পশুর পাশাপাশি হাঁস–মুরগি এবং মাছের খাবার প্রস্তুত করি। এটিই মূলতঃ পশুখাদ্যের অন্যতম প্রধান উপকরণ। আমরা এতোদিন ব্রাজিল থেকে ভুট্টা আমদানি করে পশুখাদ্য প্রস্তুত করতাম। কিন্তু এবার আমেরিকান দূতাবাস আমাদেরকে তাদের দেশের উন্নতমানের ভুট্টা আমদানির ব্যাপারে উৎসাহিত করে। আমাদের সরকারও এ ব্যাপারে বেশ ইতিবাচক। তাই আমরা ব্রাজিলের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভুট্টা আমদানি করেছি। তিনি বলেন, এই আমদানির মাধ্যমে আমরা দেশের গার্মেন্টস শিল্পকে কিছুটা সহায়তা করতে চেয়েছি। বিশেষ করে আমেরিকার সাথে আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং মার্কিন শুল্কারোপের বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা ব্রাজিলের পরিবর্তে আমেরিকা থেকে ভুট্টা আমদানি করেছি। গতকাল ভুট্টা খালাস হওয়ার কথা স্বীকার করে মোহাম্মদ রকিবুর রহমান টুটুল বলেন, এগুলোর মান বেশ ভালো। উৎপাদিত পশুখাদ্যের মান ভালো হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।












