৬ মাসেই অক্সিজেনের ভাঙা সেতু পুনঃনির্মাণ করেছে চসিক : মেয়র

আজাদী প্রতিবেদন | বুধবার , ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ

ছয় মাসের মধ্যে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী সড়কের শীতলঝর্ণা খালে ধসে পড়া ব্রিজটির একাংশ পুনর্নির্মাণ শেষে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। ৭ কোটি ২০ লাখ টাকায় ১৫ মিটার দীর্ঘ ও ২৩ মিটার প্রশস্ত সেতুটি পুননির্মাণ করছে চসিক। এর মধ্যে নির্মাণ শেষ হওয়ায় ৯ মিটার গতকাল মঙ্গলবার উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এর উদ্বোধন করেন।

এর আগে গত বছরের ৬ আগস্ট দিবাগত রাতে বায়েজিদ সড়কের স্টারশীপ ফ্যাক্টরি সংলগ্ন শীতলঝর্ণা খালের উপর ক্যান্টনমেন্ট থেকে অক্সিজেনমুখি ৫০ বছরের পুরনো ব্রিজটি ধসে পড়ে। এরপর সেতুর অর্ধেকাংশ অপসারণের পর গত বছরের ডিসেম্বরে পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করে চসিক। ওই হিসেবে তিন মাসের মধ্যে সেতুটি যান চলাচলের উপযোগী করা হয়।

এদিকে গতকাল উদ্বোধনকালে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, সেতুটি হাটহাজারী রোডে হওয়ায় সবসময় অত্যন্ত ব্যস্ত থাকে। এজন্য আমরা ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের এ সেতুটি নির্মাণে ৭ কোটি ২০ লক্ষ টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করি। সেতুটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পেলে ২৩ মিটার চওড়া হবে। যেহেতু এখানে যান চলাচল বেশি তাই যানজট এড়াতে সেতুর প্রশস্ততার অর্ধেক পাশ ধরে প্রথমে সাড়ে ৯ মিটার চওড়া সেতু নির্মাণ করে উন্মুক্ত করে দিয়েছি। এখন গাড়ি সেতুর উপর চলাচল শুরু করবে। আগামী ১ থেকে ২ সপ্তাহের মধ্যে পুরনো সেতুর বাকি অংশটি ভেঙে নতুন সেতুর পূর্ণাঙ্গ কাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হবে। আশা করছি আগামী ৬ মাসের মধ্যে সেতুর বাকি কাজও শেষ হবে।

ডা. শাহাদাত হোসেন আজাদীকে বলেন, সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করি। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রিজটির দুই পাশের ভিত্তি দেয়ালের (অ্যাবাটমেন্ট ওয়াল) মধ্যবর্তী দূরত্ব ছিল ৬ মিটার। এ অ্যাবাটমেন্ট ওয়াল ইট দিয়ে নির্মিত। জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএ’র চলমান মেগা প্রকল্পের আওতায় প্রতিরোধ দেয়াল দিয়ে শীতলঝর্ণা খালের প্রশস্ততা বৃদ্ধি করে ১৩ মিটার করা হয়। কিন্তু সংস্কার করা হয়নি ব্রিজের, বাড়ানো হয়নি প্রশস্ততাও। ফলে সেতুর দৈর্ঘ্য খালের প্রশস্ততার সঙ্গে মেলেনি। অর্থাৎ ব্রিজের দৈর্ঘ্যের চেয়ে খালের গভীরতা ও প্রশস্ততা বৃদ্ধি পায়। এ অবস্থায় ভারী বর্ষণ হলে পাহাড়ি ঢলে সরে যায় দুই পাশের মাটি। এতে সেতুর ভিত্তি দেয়াল ভেঙে যায় এবং সেতুর একটি অংশ দুই ভাগ হয়ে যায়।

তিনি বলেন, আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম এক বছরের মধ্যে ভেঙে পড়া ব্রিজটির জায়গায় নতুন ব্রিজ হবে। এরপর পুরনো ব্রিজ অপসারণ করে ডিসেম্বর মাসে নতুন ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু করি। কাজ শুরুর তিন মাসের মধ্যে যান চলাচল উপযোগী করতে সক্ষম হয়েছি।

ডা শাহাদাত আজাদীকে বলেন, ভেঙে পড়া ব্রিজটি১৫ মিটার প্রশস্ত ছিল। এখথন আমরা করছি ২৩ মিটার। এদিকে গতকাল যান চলাচল উন্মুক্ত করার সময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী রিফাতুল করিম, মাহমুদ শাফকাত আমিন, সহকারী প্রকৌশলী জাহিদুর রশিদ ভূঁইয়া, উপসহকারী প্রকৌশলী মশিউজ্জামান সিদ্দিকী পাভেল।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসরে দাঁড়াতে চান ঢাবির উপাচার্য
পরবর্তী নিবন্ধজ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে রিজভী