৬ দিনের ধকল সামলানোর চেষ্টা শুরু

হাসান আকবর | শুক্রবার , ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৬:৫৫ পূর্বাহ্ণ

লাগাতার কর্মবিরতি দুইদিনের জন্য স্থগিত করায় গতকাল বিকেল থেকে বন্দর চালু হলেও কার্যত পুরোদমে কাজ শুরু হতে আজ বিকেল গড়াবে। গতকাল বিকেলে কর্মসূচি স্থগিত করা হলেও নদীতে ভাটা থাকায় কোনো জাহাজের মুভমেন্ট হয়নি। জোয়ার ভাটার নির্ভরতা এবং নাইট নেভিগেশন না থাকায় জেটিতে আটকে থাকা জাহাজগুলো গতকাল বিকেলে বের হতে পারেনি। জাহাজগুলো আজ সকালের জোয়ারের সময় বাইরে নিয়ে যাওয়ার পর বহির্নোঙর থেকে অপেক্ষমাণ জাহাজ জেটিতে আনা হবে। এসব জাহাজ আসার পরই মূলত বন্দরে পুরোদমে কাজ শুরু হবে। অবশ্য এর আগে গতকাল সন্ধ্যায় ইয়ার্ড থেকে কন্টেনার ডেলিভারি এবং ডিপো থেকে বন্দরে কন্টেনার আনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ছয়দিনের আন্দোলনের যে ধকল তা সামলে উঠতে বেশ কিছুদিন সময় লাগবে বলে মন্তব্য করে সূত্র বলেছে, বন্দরের ইয়ার্ডে ৩৭ হাজার টিইইউএসের বেশি কন্টেনার জড়ো হয়ে রয়েছে। এরমধ্যে এফসিএল কন্টেনার ২৯ হাজারের বেশি। ডিপোমুখী কন্টেনারের সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার। আইসিডিতে যাবে প্রায় সাড়ে ১৭শ’ এবং আইসিটিতে প্রায় একশ’ টিইইউএস। এসব কন্টেনার ঠিকঠাকভাবে গন্তব্যে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লেগে যাবে বলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অপরদিকে বন্দরে রপ্তানি পণ্য বোঝাই প্রায় এক হাজার টিইইউএস কন্টেনারের পাশাপাশি বেসরকারি আইসিডিগুলোতে রপ্তানি পণ্য বোঝাই ১৩ হাজারের বেশি কন্টেনার আটকা পড়ে। গতকাল বিকেল থেকে নতুন কন্টেনার আসা শুরু হয়েছে। নতুন কন্টেনারের প্রবাহের মাঝে কর্মবিরতিকালে আটকা পড়া কন্টেনারগুলো ঠিকঠাকভাবে গন্তব্যে পৌঁছাতে বেশ বেগ পেতে হবে বলেও সূত্র জানিয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে জ্বালানি তেল এবং গ্যাসবাহী অয়েল ট্যাংকারের পাশাপাশি বেশ কিছু কন্টেনার জাহাজ এবং খোলা পণ্যবাহী জাহাজের জট তৈরি হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন জাহাজ বহির্নোঙরে নোঙর করছে। জাহাজের এই জট সামলাতেও বেশ বেগ পেতে হবে বলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।

ছয়দিনের প্রথম তিনদিন আট ঘণ্টা করে এবং পরবর্তীতে লাগাতার কর্মসূচিতে দেশের আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যের শত শত কোটি টাকার পণ্য ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করে সূত্রগুলো বলেছে, বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ জাহাজগুলোকে প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকার ডেমারেজ গুণতে হবে। এসব জাহাজ বার্থিং পাওয়ার পর ঠিকঠাকভাবে পণ্য খালাস করে না যাওয়া পর্যন্ত ডেমারেজের অংক বাড়তে থাকবে বলে জানালেন বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী শিল্পপতিরা। একেকটি জাহাজের বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে ২০ হাজার ডলার ডেমারেজ গুণতে হয় বলে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ব্যবসায়ীরা বলেন, চট্টগ্রাম থেকে ইউরোপ আমেরিকায় সরাসরি পণ্য পাঠানো যায় না। চট্টগ্রাম থেকে ফিডার ভ্যাসেলের মাধ্যমে সিংগাপুর, কলম্বো কিংবা পোর্ট কেলাং থেকে মাদার ভ্যাসেলে পণ্যগুলো তুলে দেয়া হয়। এগুলো সবই প্রোগ্রাম করা থাকে। কোন কন্টেনার কত তারিখে সিংগাপুর পৌঁছাবে বা ওখানে কোন মাদার ভ্যাসেল ধরে আমেরিকা কিংবা ইউরোপের বন্দরে পৌঁছাবে তা নির্দিষ্ট করা থাকে। রপ্তানি পণ্য বোঝাই কন্টেনারগুলো চট্টগ্রামে আটকা পড়ায় ট্রান্সশিপমেন্ট পোর্টে মাদার ভ্যাসেল ধরতে পারেনি। এখন এগুলো কখন কোন জাহাজ পাবে বা নির্দিষ্ট সময়ের পরে পৌঁছালে আমদানিকারক বা বায়ার সেগুলো রিসিভ করবেন কিনা তা নিয়েও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেছেন, কন্টেনার এবং জাহাজ নিয়ে কিছুটা চাপ তৈরি হলেও আমরা রাতে দিনে কাজ করে পরিস্থিতি সামলে নেয়ার চেষ্টা করবো।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরাষ্ট্রভাষা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়
পরবর্তী নিবন্ধজাতিসংঘকে তদন্তের প্রস্তাব দেবে সরকার