আগামী ৫ ডিসেম্বর নতুন কর্মসূচি ঘোষণার মাধ্যমে নগরীর টোল প্লাজা গেট এবং বড়পোল মোড়ে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) অবরোধ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্কপের নেতারা দুই ভাগ হয়ে টোল প্লাজা ও বড়পোল পয়েন্টে অবরোধে নেতৃত্ব দেন। টোল প্লাজা পয়েন্টে নেতৃত্ব দেন তপন দত্ত, কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, তসলিম হোসেন সেলম, ইব্রাহীম খোকন প্রমুখ। বড়পোল পয়েন্টে নেতৃত্ব দেন এসকে খোদা তোতন, খোরশেদুল আলম, মছিউদ দৌলা, কাজী আনোয়ারুল হক, রিজওয়ানুর রহমান খান, ফজলুল কবির মিন্টু, নুরুল আবসার তৌহিদ, জাহিদ উদ্দিন শাহিন, আব্দুল বাতেন, শফিক উদ্দিন আবিদ, আবু বক্কর সিদ্দিকী, হাসিবুর রহমান বিপ্লব, মোহাম্মদ সোহাগ প্রমুখ।
বড়পোলের সমাবেশে সংহতি জানিয়ে যোগ দেয় বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট। বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম, সিপিবি চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি কমরেড অশোক সাহা, বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সমন্বয়কফিউদ্দিন কবির আবিদ, বাসদ চট্টগ্রাম জেলার ইনচার্জ আল কাদেরী জয় এবং গণমুক্তি ইউনিয়নের রাজা মিয়া। কমরেড মোহাম্মদ শাহআলম বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির হৃদস্পন্দন। দেশের আমদানি–রপ্তানির সিংহভাগই সম্পন্ন হয় এই বন্দর দিয়ে। এনসিটিসহ বন্দর অবকাঠামোর যেকোনো অংশ ইজারা দেওয়া হলে জাতীয় অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে। বন্দর রক্ষার আন্দোলন কেবল চট্টগ্রামবাসীর নয়, এটি সারাদেশের মানুষের উদ্বেগের বিষয়।
স্কপ নেতা তপন দত্ত বলেন, বন্দর ইজারা দেওয়ার পরিকল্পনায় দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হবে এবং শ্রমিকদের জীবিকার ওপর সরাসরি আঘাত আসবে। তাই দেশ বাঁচাতে এবং শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষার জন্য এই আন্দোলন শুরু হয়েছে, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। দেশ রক্ষা এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার রক্ষায় স্কপ সর্বদা ঐক্যবদ্ধ থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
কাজী নুরুল্লাহ বাহার বলেন, বন্দর ইজারা মানে দেশের অর্থনীতি বিদেশি স্বার্থের হাতে তুলে দেওয়া। আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, এই সিদ্ধান্ত জনগণ মেনে নেবে না। শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ জনগণের স্বার্থে রাস্তায় নেমেছেন, প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেবে। সমাবেশ শেষে স্কপ নেতারা আগামী ৫ ডিসেম্বর পুরাতন রেল স্টেশন চত্বরে বৃহত্তর সমাবেশ ও মশাল মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। বন্দর রক্ষার দাবিতে এ কর্মসূচিকে তারা জাতীয় আন্দোলনের অংশ বলেও মন্তব্য করেন।
অপরদিকে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা পরিষদ গতকাল প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। চট্টগ্রাম বন্দরের অত্যাধুনিক এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের নিকট হস্তান্তরের উদ্যোগের প্রতিবাদে এ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মিছিলটি আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড় থেকে শুরু হয়ে বনানীর মোড়ে পুলিশের বাধার মুখে শেষ হয়। মিছিলে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বন্দর রক্ষা পরিষদের নেতৃবৃন্দ সরকারের গৃহীত উদ্যোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। সভায় সভাপতিত্ব করেন বন্দর রক্ষা পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ হোসেন। প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বন্দর রক্ষা পরিষদের আহ্বায়ক ও গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মারুফ (রুমী)
বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি একটি সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় সম্পদ এবং দেশের অন্যতম আধুনিক টার্মিনাল। যদি ডিপি ওয়ার্ল্ড এই টার্মিনালটি পরিচালনার দায়িত্ব নেয় তাহলে বাংলাদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ ডলার বিদেশে চলে যাবে। বক্তারা একটি হিসেব উপস্থাপন করে বছরে প্রায় সাড়ে ৫শ’ কোটি টাকা বিদেশে চলে যাবে বলেও উল্লেখ করেন। তারা বলেন, একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে রাষ্ট্রীয় টার্মিনাল হস্তান্তর করা হলে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, বরং দেশের বাণিজ্যিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বও হুমকির মুখে পড়বে।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে নুরুল আবসার মজুমদার স্বপন, চিরন্তন চিরু, শফিকুল ইসলাম রিটন, মিফতা উদ্দিন শিকদার টিটো, শহিদ শিমুল, জাহিদুল আলম আল জাহিদ, মোহাম্মদ মামুন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।










