ক্রেতার সঙ্গে অভিনব প্রতারণা করে ৫ কেজি মাংসের অর্ধেকের বেশি চর্বি ও হাড় দেওয়ায় রাঙ্গুনিয়ার রোয়াজারহাট বাজারের একটি মাংসের দোকান আজীবনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সাথে ভুক্তভোগী ক্রেতাকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০ কেজি মাংস আদায় করে দিয়েছে বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে ভুক্তভোগী ও উপস্থিত জনসম্মুখে এই শাস্তি দেয়া হয়।
জানা যায়, গত বুধবার বিকেলে রাঙ্গুনিয়ার স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের ব্রহ্মোত্তর এলাকা থেকে এক ক্রেতা রোয়াজারহাট বাজারের একটি দোকান থেকে ৫ কেজি মাংস ক্রয় করেন। বাড়িতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, মাংসে খাওয়ার উপযোগী অংশের চেয়ে চর্বি ও হাড়ের পরিমাণ অস্বাভাবিক বেশি। তাৎক্ষণিক ক্ষুব্ধ ক্রেতা ইফতার না করেই বাজারে ফিরে এলেও অভিযুক্ত দোকানদার ততক্ষণে দোকান বন্ধ করে সটকে পড়েন। পরে তিনি বিষয়টি ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতিকে অভিযোগ করেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই ক্রেতা পুনরায় হাড় ও চর্বিযুক্ত মাংসগুলো নিয়ে বাজারে উপস্থিত হন। ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দ জনসম্মুখে সেই মাংস পরিমাপ করে হতবাক হয়ে যান। দেখা যায় মোট ৫ কেজি মাংসের মধ্যে মাত্র ১ কেজি ৮০০ গ্রাম খাওয়ার উপযোগী মাংস এবং বাকি ৩ কেজি ২০০ গ্রাম রয়েছে চর্বি ও হাড়। উপস্থিত ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ এমন জালিয়াতি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে ওই দোকানটি স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করেন। এছাড়া শাস্তিস্বরূপ এবং ক্রেতার ভোগান্তি বিবেচনায় অভিযুক্ত দোকানদারের কাছ থেকে ১০ কেজি মাংস আদায় করে ভুক্তভোগীকে দেওয়া হয়।
এদিকে বাজারে মাংস বিক্রেতাদের দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও প্রতারণা নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তাই কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে মাংসের দোকানগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে দেওয়া হয়েছে।
রোয়াজারহাট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আব্দুস শুক্কুর বলেন, মাংস ব্যবসায়ীদের এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। ভবিষ্যতে কোনো ক্রেতা এভাবে প্রতারিত হলে সাথে সাথে সমিতিকে অবহিত করার অনুরোধ রইল।











