২৬ হাজার টন অকটেন এবং ২৫ হাজার টন ফার্নেস অয়েল নিয়ে মালয়েশিয়া থেকে আগামীকাল একটি জাহাজ আসছে চট্টগ্রামে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) আমদানিকৃত অকটনের চালানটি নিয়ে মার্শাল আইসল্যান্ডের পতাকাবাহী ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার’ নামের জাহাজটি বুধবার চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে। ওইদিনই জাহাজটিকে বার্থিং দেয়ার চেষ্টা করা হবে বলে বিপিসির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে। অপরদিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা ও সংকটের মধ্যেই তরলিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), এলপিজি ও ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে আরো ৪টি জাহাজ। জাহাজগুলো থেকে পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া চলছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
বিপিসির পদস্থ একজন কর্মকর্তা গতকাল দৈনিক আজাদীকে জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেও জ্বালানি তেলের আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখছে বিপিসি। এরই অংশ হিসেবে ২৬ হাজার টন অকটেন ও ২৫ হাজার টন ফার্নেস অয়েল আনা হচ্ছে। ‘এমটি ইস্টার্ন কুইন্স’ নামের ফার্নেস অয়েলবাহী জাহাজটি আগামীকাল (বুধবার) চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে আসার কথা রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানিয়েছেন, এলপিজি নিয়ে ‘কুল ভয়েজার’ ও ‘গ্যাস জার্নি’ নামের দুইটি জাহাজ বহির্নোঙরে পৌঁছেছে। জাহাজ দুইটির লাস্ট পোর্ট ছিল যথাক্রমে নাইজেরিয়া ও চীন।
বন্দর সূত্র জানায়, ভারত, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া ও চীন থেকে এসব জ্বালানি পণ্য নিয়ে জাহাজগুলো চট্টগ্রাম আসছে। ইতোমধ্যে চারটি জাহাজ চট্টগ্রাম পৌঁছে গেছে। এলপিজিবাহী ‘গ্যাস চ্যালেঞ্জার’ ভারত থেকে এলপিজি নিয়ে গত ৩১ মার্চ বন্দরে পৌঁছায়। বর্তমানে এটি ‘ভাটিয়ারী’ এলাকায় অবস্থান করছে। মালয়েশিয়া থেকে ডিজেল নিয়ে আসা ‘শান গ্যাং ফা শিয়ান’ জাহাজটি ৩ এপ্রিল বন্দরে ভিড়েছে। এটি বর্তমানে ‘ডলফিন জেটি –৬’ জেটিতে অবস্থান করছে এবং আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যে এর পণ্য খালাস সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। নাইজেরিয়া থেকে এলএনজি নিয়ে আসা ‘কুল ভয়েজার’ জাহাজটি ৫ এপ্রিল বন্দরে পৌঁছেছে। বর্তমানে এটি ‘এফএসআরইউ’–তে অবস্থান করছে এবং ৮ এপ্রিলের মধ্যে এর কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। চীন থেকে এলপিজি নিয়ে আসা ‘গ্যাস জার্নি’ গত ৫ এপ্রিল বন্দরে ভিড়েছে। বর্তমানে এটি বহির্নোঙর এলাকায় অবস্থান করছে এবং ৮ এপ্রিলের মধ্যে এর খালাস কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতেই এসব জ্বালানি পণ্য দ্রুত খালাসে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সবগুলো জাহাজ থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পণ্য খালাস সম্পন্ন হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।













