চকরিয়ার হারবাং থেকে অপহৃত কিশোরকে ৪৮ ঘন্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। অপহরণের পর ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া নম্বরের সূত্র ধরে চক্রের অন্যতম সদস্যকেও আটক করা হয়েছে। চকরিয়া থানা পুলিশ জানায়, গতকাল বুধবার রাত দশটার দিকে উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের রিংভং ছগির শাহকাটা এলাকা থেকে অপহৃত মোহাম্মদ পারভেজ (১৭) উদ্ধার করা হয়।
অপরদিকে আটক করা হয় অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের অন্যতম সদস্য নুরুল ইসলামকে (৪৫)। তাকে অভিযান চালিয়ে রামু উপজেলার ঈদগড় এলাকা থেকে আটক এবং অপহরণে জড়িত চক্রের আরও বেশ কয়েকজন পলাতক রয়েছে বলে থানার সরবরাহকৃত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
চকরিয়া থানার অপারেশন অফিসার ফরিদ হোসেন জানান, গত সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ হতে চকরিয়ার হারবাংস্থ বাড়ি ফিরছিল কিশোর পারভেজ। পথিমধ্যে উত্তর হারবাং এলাকায় পৌঁছলে কিশোর পারভেজকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে যায় একদল দুর্বৃত্ত। পরে একটি মোবাইল নাম্বার থেকে ভিকটিমের পরিবারের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ওই মোবাইল নাম্বারের সূত্র ধরে রামু উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ঈদগড়ে ১৬ ঘন্টার শাসরুদ্ধকর অভিযান শেষে অপহরণের অন্যতম সদস্য নুরুল ইসলামকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী অপহৃত ভিকটিম পারভেজকে চকরিয়ার ডুলাহাজারাস্থ বন্দিশালা থেকে উদ্ধার করা হয়।
অপহরণের পর উদ্ধার হওয়া পারভেজ চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের কোরবানিয়া ঘোনা এলাকার মনজুর আলমের ছেলে। পারভেজের পিতা মনজুর আলম জানান, তার ছেলে পারভেজ লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদের একটি দোকানে চাকরি করত। দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাকে দুষ্কৃতিকারীরা অপহরণ করে নিয়ে যায়। বিষয়টি আইন–শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়। চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়কারী চক্র পারভেজকে অপহরণের পর মোবাইলে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। প্রযুক্তির সহায়তায় টানা ১৬ ঘন্টা অভিযান চালিয়ে বুধবার রাত দশটার দিকে ডুলাহাজারার গহীন পাহাড়ি এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার এবং চক্রের এক সদস্যকে আটক করা হয়। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।











