চট্টগ্রাম নগরী এবং কক্সবাজারে টেকনাফ ও রামু থেকে গতকাল ১৫ লাখ ৫৯ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪৭ কোটি টাকা। এসব অভিযানে রোহিঙ্গাসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ট্রলারে বস্তার ভেতর ৫ লাখ ইয়াবা : নগরীর পতেঙ্গা থানাধীন কর্ণফুলী নদীর ১৫ নম্বর ঘাটে একটি ফিশিং বোট (ট্রলার) থেকে ৫ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে র্যাব। এসব মাদকদ্রব্যের বাজার মূল্য প্রায় ১৫ কোটি টাকা। এ সময় ৯ জন মাদক কারবারিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন রোহিঙ্গা।
গত শুক্রবার সন্ধায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদকসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদক ফিশিং বোটের ইঞ্জিন রুমের পাশে তিনটি বস্তার ভেতর বিশেষ কৌশলে রাখা ছিল। গ্রেপ্তাররা হলেন সৈয়দ আলম, সুলতান আহমেদ, মোহাম্মদ ইউসুফ, মোহাম্মদ কাসিম, মোহাম্মদ ইসমাইল, শাহ আলম, আজম উল্লাহ, মোহাম্মদ ফারুক ও সানাউল্লাহ। রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ কঙবাজারের টেকনাফের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা তারা।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে কঙবাজার জেলার সীমান্ত এলাকা থেকে স্বল্পমূল্যে ইয়াবা ক্রয় করে বেশি মুনাফা লাভের আশায় ফিশিং বোটে করে চট্টগ্রাম জেলা ও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্রয় করে আসছিলেন।
র্যাব–৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন দৈনিক আজাদীকে বলেন, মিয়ানমার সীমান্ত থেকে সাগরপথে চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা থানাধীন কর্ণফুলী নদীর ১৫ নম্বর ঘাট এলাকার দিকে ইয়াবার একটি চালান আসছে–এমন খবর পাওয়ার পর সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে প্রায় ১৫ কোটি টাকা মূল্যের ৫ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি ৯ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
টেকনাফ–রামুতে ৩১ কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার : কঙবাজার প্রতিনিধি জানান, কঙবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ ও রামু থেকে বিজিবির পৃথক অভিযানে প্রায় ৩১ কোটি ৭৮ লাখ টাকার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এসব অভিযানে পাচারকারীদের কাউকে আটক করা যায়নি। গতকাল পৃথক সময়ে এসব অভিযান চালানো হয়।
বিজিবি জানিয়েছে, টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা সীমান্তে ৬৪ বিজিবির দুটি অভিযানে ৩১ কোটি ৭৮ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ১০ লাখ ৫৯ হাজার ৪০০ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। গতকাল বিকালে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন উখিয়া ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম। তিনি জানান, শনিবার ভোররাতে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) হ্নীলা সীমান্তে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে চোরাকারবারিদের গতিবিধি শনাক্ত করে টহল জোরদার করা হয়। পরে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক পাচারকারীরা নাফ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ১৩টি পোটলার ভেতর থেকে খাকি রঙের প্যাকেটে মোড়ানো এবং নীল বায়ুরোধী প্যাকেটে সংরক্ষিত ৮ লাখ ৫৯ হাজার ৪০০ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এর আনুমানিক মূল্য ২৫ কোটি ৭৮ লাখ ২০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে একই দিন দুপুরে রামু ব্যাটালিয়ন (৩০ বিজিবি) রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের তুলাবাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরো ২ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করে। এর মূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা।
দুটি অভিযানে মোট উদ্ধার করা ইয়াবার ১০ লাখ ৫৯ হাজার ৪০০ পিস, যার মোট আনুমানিক মূল্য ৩১ কোটি ৭৮ লাখ ২০ হাজার টাকা। বিজিবির ইতিহাসে একদিনে এটি সর্বোচ্চ ইয়াবা জব্দের ঘটনা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
লে. কর্নেল জহিরুল জানান, মাদক চোরাকারবারিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। উদ্ধার করা ইয়াবা টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।














